
পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মুদাসিক মালিক ভারতকে হুমকি দিয়েছেন। ২০২৫ সাল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। সেই নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত ক্রমশ বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেরও নজর কাড়ার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। (Indus Water Treaty)
আর সেই আবহেই ভারতকে হুমকি দিলেন মালিক। দেশের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারারকে নিয়ে একটি যৌথ সাংবাদিক করেন তিনি। সেখানে তিনি দাবি করেন যে, ভারত জলের উপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার চেষ্টা করছে। পাকিস্তানের জল আটকালে ফল ভাল হবে না।
ভারতকে হুঁশিয়ারি দেওয়ার সময় সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর উল্লেখ করেন মালিক। বলেন, “পড়শি দেশের প্রধানমন্ত্রী জলের কল নিয়ন্ত্রণ করছেন। উনি বলেছেন, পাকিস্তানে এক ফোঁটা জলও পৌঁছতে দেবেন না। আমাদের ভাগে প্রাপ্য জলের উপর থাবা বসাতে এলে হাত কেটে ফেলব।” মালিকের বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সংবাদ মাধ্যম থেকে সোশ্য়াল মিডিয়ায়। তবে এবিপি আনন্দ ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি।
ওই ভিডিও-য় মালিক আরও জানান যে, সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী, পাকিস্তান নিজেের ভাগ রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাকিস্তানে জল ঢোকা বন্ধ করতে দেওয়া হবে না ভারতকে। সিন্ধু জলচুক্তি একতরফা ভাবে স্থগিত, সংশোধন বা প্রত্য়াহার কোনও অবস্থাতেই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন আতাউল্লাও।
সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানকে আন্তর্জাতিক মহলও সমর্থন করছে বলে দাবি করেন আতাউল্লা। তাঁর দাবি, সিন্ধু জলচু্ক্তি এখনও কার্যকর রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল ভারতের অবস্থানকে সমর্থন করছে না। মঙ্গলবার ইসলামাবাদে সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনারেরও ঘোষণা করেন তিনি। আইনি বিশেষজ্ঞ, জল বিশেষজ্ঞ এবং বিদেশি প্রতিনিধিরা সেমিনারে অংশ নেবেন বলে জানান।
১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় সিন্ধু জলচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই চুক্তির আওতায় পূর্বের ইরাবতী, বিপাশা এবং শতদ্রুর নদীর উপর ভারতের নিয়ন্ত্রণ কায়েম রয়েছে। পশ্চিমের সিন্ধু, ঝিলম এবং চন্দ্রভাগার জল মূলত পাকিস্তান পায়। দুই দেশের মধ্যে সংঘাত, যুদ্ধের সময়ও ওই চুক্তি কার্যকর ছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে পহেলগাঁও হামলার পর সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত সরকার। লাগাতার সেই নিয়ে ভারতকে হুমকি-হুঁশিয়ারি দিয়ে চলেছে পাকিস্তান। দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ এর আগে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন। ভারত যদিও জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সিন্ধু জলচুক্তি কার্যকর থাকতে পারে না। যারা সন্ত্রাস রফতানি করে, সহযোগিতা আশা করতে পারে না তারা।
