
Lawyer vs Advocate: কালো কোট পরা প্রত্যেকেই যে আদালতে দাঁড়িয়ে মামলা লড়তে পারেন না, তা কি জানেন? Lawyer ও অ্যাডভোকেটের মধ্যে আইনে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম এবং আসল পার্থক্যগুলি জেনে নিন এখানে।
Lawyer vs Advocate: আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আদালতের মামলা বা আইনি সমস্যার কথা উঠলেই আমরা প্রায়ই ‘লয়ার’ (Lawyer) এবং ‘অ্যাডভোকেট’ (Advocate) শব্দ দুটি ব্যবহার করি। সাধারণভাবে অনেকেই মনে করেন, এই দুটি শব্দের অর্থ একই। কালো কোট পরে আদালতে যাঁদের দেখা যায়, তাঁদের সবাইকেই অনেকে আইনজীবী বা অ্যাডভোকেট বলে সম্বোধন করেন। কিন্তু ভারতীয় আইন অনুযায়ী, এই দুই পরিচয় এবং তাঁদের আইনি ক্ষমতার মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।সহজ ভাষায় বলতে গেলে, সব Lawyer অ্যাডভোকেট নন, কিন্তু সব অ্যাডভোকেটই অবশ্যই Lawyer।
আইন পড়া এই দুই ধরনের পেশাজীবীর মধ্যে কার কী ক্ষমতা রয়েছে? আদালতে মামলা লড়ার আইনি অধিকার কার আছে? চলুন, এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয়গুলি সহজভাবে জেনে নেওয়া যাক। লয়ার (Lawyer) কাকে বলে?যে ব্যক্তি আইন বা ন্যায়শাস্ত্র (Law) বিষয়ে পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন, তাঁকেই Lawyer বলা হয়। কোনও স্বীকৃত আইন কলেজ থেকে তিন বছরের বা পাঁচ বছরের এলএলবি (LLB) কোর্স সম্পন্ন করে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করলেই তিনি একজন Lawyer হিসেবে পরিচিত হন।
একজন Lawyer-এর আইনের উপর পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান থাকে। তিনি আপনাকে আইনি পরামর্শ (Legal Advice) দিতে পারেন এবং মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন নথিপত্রও প্রস্তুত করতে পারেন। তবে শুধু ‘ল’ ডিগ্রি থাকলেই তিনি আপনার হয়ে আদালতে দাঁড়িয়ে বিচারকের সামনে মামলা লড়তে পারবেন— এমন অধিকার আইনত তাঁর থাকে না।
আইনজীবী বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরী জানান, অ্যাডভোকেট হলেন এমন একজন যোগ্যতাসম্পন্ন আইনজীবী, যিনি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে আদালতে তাঁর মক্কেলের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্ব করেন। মামলার ধরন অনুযায়ী তিনি আদালতে সওয়াল করেন এবং শক্তিশালী মামলা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় নথি, তথ্য ও অন্যান্য আইনি উপকরণ প্রস্তুত করেন। আইন সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান ও দক্ষতার মাধ্যমে তিনি মক্কেলকে বিভিন্ন আইনি বিষয় বুঝতে এবং সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে সাহায্য করেন। আদালতে মক্কেলের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে তাঁর জন্য অনুকূল রায় বা সিদ্ধান্ত আদায়ের চেষ্টা করেন। অ্যাডভোকেটরা দেওয়ানি (Civil) মামলার পাশাপাশি ফৌজদারি (Criminal) মামলাও পরিচালনা করতে পারেন। দেওয়ানি মামলায় সাধারণত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয় থাকে, আর ফৌজদারি মামলায় অপরাধ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আদালতে সওয়াল করা হয়। Lawyer-দের তুলনায় অ্যাডভোকেটরা সাধারণত বেশি অভিজ্ঞ হন এবং আইনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে আইন পেশা পরিচালনা করেন। তাঁদের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং আইনি জ্ঞানের কারণে তাঁরা সাধারণত আকর্ষণীয় পারিশ্রমিকও পেয়ে থাকেন।
এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরই তিনি বার কাউন্সিলে অ্যাডভোকেট হিসেবে নাম নথিভুক্ত করতে পারেন এবং দেশের বিভিন্ন আদালতে আইন পেশা পরিচালনার জন্য আনুষ্ঠানিক লাইসেন্স পান। এই লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তিদেরই ‘অ্যাডভোকেট’ বলা হয়। কেবল তাঁদেরই আদালতে মক্কেলের পক্ষে দাঁড়িয়ে বিচারকের সামনে মামলা পরিচালনা ও যুক্তি উপস্থাপনের পূর্ণ আইনি অধিকার থাকে।
একটি উদাহরণ ধরুন, একজন ব্যক্তি মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস (MBBS) ডিগ্রি অর্জন করলেন। তিনি তখন চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত হন। কিন্তু হাসপাতাল বা ক্লিনিকে আনুষ্ঠানিকভাবে রোগীর চিকিৎসা করতে হলে যেমন মেডিক্যাল কাউন্সিলের Registration অপরিহার্য, ঠিক তেমনই আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করা একজন Lawyer-কে আদালতে বিচারকের সামনে মামলা পরিচালনা করতে হলে বার কাউন্সিলের লাইসেন্স নিয়ে অ্যাডভোকেট হওয়া অত্যন্ত জরুরি। (Input From News18 Telugu)
আইনজীবী রেশমি পরভিন জানান, Lawyer এবং Advocate শব্দ দুটি অনেক সময় একই অর্থে ব্যবহার করা হলেও, আইনগতভাবে এদের মধ্যে পার্থক্য আছে।* Lawyer (লইয়ার): যিনি আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তিনি আইনি পরামর্শ দিতে পারেন, তবে সব ক্ষেত্রে আদালতে মক্কেলের হয়ে সওয়াল করার অধিকার নাও থাকতে পারে। বিভিন্ন দেশে এর সংজ্ঞা কিছুটা ভিন্ন।* Advocate (অ্যাডভোকেট): যিনি আইনজীবী হিসেবে নির্ধারিত নিয়ম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট বার কাউন্সিলে নিবন্ধিত হয়েছেন এবং আদালতে মক্কেলের পক্ষে মামলা পরিচালনা ও সওয়াল করার অধিকার অর্জন করেছেন।
Lawcolloquy-এর মতে, আইনজীবীরা বিভিন্ন ভূমিকায় তাঁদের পেশাগত পরিষেবা প্রদান করতে পারেন। তাঁরা আইনি উপদেষ্টা (লিগ্যাল অ্যাডভাইজার), পরামর্শদাতা (কনসালট্যান্ট), শিক্ষাবিদ (অ্যাকাডেমিশিয়ান), কোনও প্রতিষ্ঠানের ইন-হাউস লিগ্যাল কাউন্সেল বা কর্পোরেট সংস্থায় কর্মরত আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে পারেন। এছাড়াও তাঁরা চুক্তিপত্র (কনট্রাক্ট), দলিল (ডিড), উইলসহ বিভিন্ন আইনি নথি খসড়া তৈরির কাজও করেন।(Representative Image)
Advocates Act 1961 -2(a) অনুযায়ী, ‘অ্যাডভোকেট’ বলতে এই আইনের বিধান অনুসারে যে কোনও তালিকাভুক্ত আইনজীবীকে বোঝায়। একই আইনের ধারা Act; 2(i) অনুযায়ী, “লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার” বলতে অ্যাডভোকেট, ভকিল (Vakil), যে কোনও হাইকোর্টের প্লিডার (Pleader), মুখতার (Mukhtar) অথবা রেভিনিউ এজেন্টকে বোঝায়। বেশিরভাগ ব্যারিস্টার স্বনিযুক্ত (Self-employed) হিসেবে কাজ করেন এবং অন্যান্য ব্যারিস্টারদের সঙ্গে চেম্বার্স (Chambers)-এ যুক্ত থাকেন। এর ফলে তাঁরা অফিসের ভাড়া, প্রশাসনিক ব্যয় এবং অন্যান্য পরিকাঠামোগত খরচ ভাগ করে নিতে পারেন। এছাড়াও ব্যাঙ্ক, কর্পোরেট সংস্থা এবং সলিসিটর ফার্মে ইন-হাউস আইনি উপদেষ্টা হিসেবেও তাঁরা নিযুক্ত হতে পারেন। আইন নিয়ে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিন বছর মেয়াদি ব্যাচেলর অব লজ (এলএলবি) (অনার্স) কোর্সে ভর্তি হওয়া উচিত। (Representative Image)
(Feed Source: news18.com)
