)
Severe Heatwave: ফুটছে ইউরোপ! উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানীরা! ফ্রান্সে প্রায় ১০০০ অতিরিক্ত মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। যেসব অঞ্চল ‘রেড অ্যালার্টে’র আওতায় ছিল, সেগুলিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কীভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব?
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইউরোপে ভয়াবহ পরিস্থিতি। তাপপ্রবাহে হাঁসফাস অবস্থা ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানির। প্রতিদিন রেকর্ড ভাঙছে ইউরোপের তাপমাত্রা! ফ্রান্সে অতিরিক্ত মৃত্যু প্রায় ১ হাজার। ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বোর্দেওক্সে ক’দিন আগেই পারদ রেকর্ড ৪১.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে ঠেকেছিল! এই শহরের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ!
১০০০ অতিরিক্ত মৃত্যু
ইউরোপজুড়ে গত কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ফ্রান্সে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রবিবার ফ্রান্সে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও এর আগে কয়েকদিন ধরে দেশের অনেক এলাকায় পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য সংস্থা পাবলিক হেলথ ফ্রান্স আজ রবিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ২৪ জুন থেকে এ পর্যন্ত আগের মাসগুলির একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১০০০ অতিরিক্ত মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৮৫ শতাংশই ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ছিলেন। বলা হয়েছে, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। যেসব অঞ্চল ‘রেড অ্যালার্টে’র আওতায় ছিল, সেগুলি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ইউরোপে বিভীষিকা
এদিকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ শনিবার তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড গড়েছে। জার্মানি, ডেনমার্ক ও চেক প্রজাতন্ত্রে সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার প্রাথমিক রেকর্ড তৈরি হয়েছে! সুইৎজারল্যান্ডে ভেঙেছে রেকর্ড। ফ্রান্স ও ব্রিটেনেও নতুন রেকর্ড হয়েছে। জার্মান আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের ময়েকার্ন-ড্রেভিৎস এলাকায় শনিবার তাপমাত্রা ৪১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছয়, যা আগের দিনের ৪১.৩ ডিগ্রির রেকর্ড ভেঙে দেয়। ডেনমার্কে আরহুস শহরের উত্তরে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা ১৮৭৪ সালে পরিমাপ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ। চেক প্রজাতন্ত্রেও প্রাগের উত্তরে ৪০.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। আর স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় শুক্রবার ছিল ইতিহাসের উষ্ণতম রাত।
ক্লাইমেট চেঞ্জ, জনস্বাস্থ্য সংকট
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া এই তীব্র তাপপ্রবাহ প্রায় অসম্ভব। তাঁদের মতে, বর্তমানে রাতের তাপমাত্রা দু’দশক আগের তুলনায় ১০০ গুণ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। জার্মানির গ্রিন পার্টির এক প্রাক্তন পার্লামেন্টারি নেতা বলেছেন, এটি আর মনোরম গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়া নয়, এ একটি জনস্বাস্থ্য সংকট! বার্লিনে শনিবার তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছলে মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পুলিস দুটি জলকামান মোতায়েন করে। তাপপ্রবাহের কারণে ইউরোপ জুড়ে নানা ধরনের প্রভাব পড়েছে। জার্মানিতে প্রায় সারা দেশেই চরম তাপমাত্রা-সতর্কতা জারি হয়েছে। পোল্যান্ডের অধিকাংশ এলাকায় তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়েছে। হাঙ্গেরিতে দানিয়ুব নদীর জল উষ্ণ হয়ে উঠেছে।
হাওয়াবদল, বৃষ্টি
আবহাওয়াবিদদের মতে, গ্রিক বর্ণ ওমেগার আকৃতির মতো দেখতে একটি উচ্চচাপ বলয় তৈরি হয়েছে। যাকে ‘ওমেগা ব্লক’ বলা হচ্ছে। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের জলবায়ু গবেষক ক্লেয়ার বার্নস রয়টার্সকে বলছেন, এই আবহাওয়া-পরিস্থিতি ‘ওমেগা ব্লক’ নামে পরিচিত! যা উত্তর আফ্রিকা ও সাহারা মরুভূমি থেকে গরম বাতাস টেনে আনছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি খুব ধীর গতিতে চলছে। যে কারণে স্বস্তিদায়ক কোনো সুবাতাস ঢুকছে না আবহাওয়ায়। যে কারণে এই ভয়াল তাপপ্রবাহ দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। আর এই ‘ওমেগা ব্লক’ তৈরি হওয়ায় বিপুল পরিমাণে গরম বাতাস দীর্ঘ সময় ধরে ইউরোপের উপর আটকে রয়েছে। এর ফলেই মরসুমের স্বাভাবিক গড়ের তুলনায় অনেক বেশি তাপমাত্রা দেখা দিচ্ছে এবার। তবে সপ্তাহান্তে এই চরম তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে কমতে পারে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্র-সহ ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও পূর্বাভাস রয়েছে।
ইউরোপের হিমবাহর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ
ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মিলান, রোম, তুরিন, ভেনিস, জেনোয়া, ফ্লোরেন্স ও বোলোনিয়া-সহ ১৮টি শহরে রবিবার সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। ইতালির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পো নদী। এই নদীর জলপ্রবাহ আশঙ্কাজনক ভাবে কমে যাওয়ায় সমুদ্রের লবণাক্ত জল অনেক ভেতরে ঢুকে পড়ছে, যা কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বিপদ তৈরি করেছে। আল্পস অঞ্চলেও রাতে স্বস্তি নেই! এই পরিস্থিতিতে পরিবেশবিদরা ইউরোপের হিমবাহগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
(Feed Source: zeenews.com)
