)
Right to Privacy is Not Absolute in Marriage: বিচারপতি মনমোহন এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় স্বামীর করা আপিল খারিজ করে দিয়ে বলেন, ‘দিল্লি হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে হস্তক্ষেপ করার কোনও প্রয়োজন এই আদালত দেখছে না।’
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিবাহবিচ্ছেদ এবং পারিবারিক মামলায় প্রমাণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। স্বামীর বিরুদ্ধে আনা বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের (Adultery) অভিযোগ প্রমাণ করতে স্ত্রী চাইলে আদালতের সাহায্য নিয়ে স্বামীর হোটেলের বুকিং রেকর্ড এবং কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) তলব করতে পারেন। দিল্লি হাইকোর্টের দেওয়া এই ঐতিহাসিক রায়কে বহাল রেখে শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়েছে, এই ধরনের নথিপত্র তলব করলে স্বামীর ‘ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার’ (Right to Privacy) লঙ্ঘিত হয় না।
বিচারপতি মনমোহন এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় স্বামীর করা আপিল খারিজ করে দিয়ে বলেন, ‘দিল্লি হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে হস্তক্ষেপ করার কোনও প্রয়োজন এই আদালত দেখছে না।’
মামলার প্রেক্ষাপট
সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছনো এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়েছিল পারিবারিক আদালত (Family Court) থেকে। এক মহিলা তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতা ও বিবাহেতর সম্পর্কের অভিযোগ এনে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন। স্ত্রীর দাবি ছিল, ২০২২ সালের এপ্রিলে তাঁর স্বামী অন্য এক মহিলার সঙ্গে জয়পুরের একটি নামী হোটেলে রাত কাটিয়েছিলেন এবং তাঁদের একটি সন্তানও রয়েছে।
অভিযোগ প্রমাণ করার জন্য স্ত্রী প্রথমে হোটেলের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ সংরক্ষণের আবেদন জানান। কিন্তু হোটেলের পলিসি অনুযায়ী ততদিনে সেই ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছিল। এর পর স্ত্রী আদালতের কাছে আবেদন করেন, যাতে ওই নির্দিষ্ট সময়ে হোটেলের রুম বুকিংয়ের নথি, ঘরে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয়পত্র (ID Proof), পেমেন্টের বিবরণ এবং স্বামীর কল রেকর্ড (CDR) তলব করা হয়। পারিবারিক আদালত এই আবেদনে সাড়া দিলে স্বামী সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে যান।
স্বামীর যুক্তি বনাম আদালতের পর্যবেক্ষণ
হাইকোর্টে স্বামীর মূল আইনি যুক্তি ছিল, তাঁর ব্যক্তিগত কল রেকর্ড বা হোটেলের নথি জনসমক্ষে আনা হলে তা সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাঁর ‘মৌলিক গোপনীয়তার অধিকার’ খর্ব করবে। এটি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে আদালতের এক ধরনের ‘অনধিকার চর্চা’।
২০২৩ সালের ১০ মে দিল্লি হাইকোর্ট স্বামীর এই যুক্তি খারিজ করে দেয়।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল:
১. গোপনীয়তার অধিকার চরম বা পরম (Absolute) নয়: সংবিধানে গোপনীয়তার অধিকার থাকলেও তা যুক্তিযুক্ত নিয়মের অধীন। যখন জনস্বার্থ বা আইনি অধিকারের প্রশ্ন আসে, তখন এটি শিথিল করা যেতে পারে।
২. বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক প্রমাণ করা কঠিন: বিয়ের পরও অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক বা ‘অ্যাডাল্ট্রি’র মতো বিষয় সরাসরি কোনও প্রত্যক্ষদর্শী দিয়ে প্রমাণ করা যায় না। এটি মূলত পারিপার্শ্বিক প্রমাণের (Circumstantial Evidence) ওপর নির্ভর করে। স্ত্রী যদি যুক্তিসঙ্গত কারণে মনে করেন যে এই ডিজিটাল তথ্যগুলি তাঁর অভিযোগ প্রমাণে সাহায্য করবে, তবে আদালতের উচিত তাঁকে সাহায্য করা।
৩. ফ্যামিলি কোর্ট অ্যাক্টের ক্ষমতা: আদালত ‘ফ্যামিলি কোর্টস অ্যাক্ট, ১৯৮৪’-এর ১৪ নম্বর ধারার উল্লেখ করে জানায়, পারিবারিক আদালতগুলির কাছে অত্যন্ত ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে। বিবাদের মীমাংসার স্বার্থে তারা এমন যেকোনও নথি বা তথ্য প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করতে পারে, যা সাধারণ সাক্ষ্য আইনের (Evidence Act) অধীনে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।
ভারসাম্য বজায় রাখার নির্দেশ
ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার রুখতে এবং তৃতীয় পক্ষের গোপনীয়তা রক্ষা করতে আদালত একটি বিশেষ সুরক্ষাকবচও দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এবং হাইকোর্ট উভয়েই স্পষ্ট করেছে যে, এই সমস্ত নথিপত্র খোলা আদালতে বা জনসমক্ষে আনা হবে না। হোটেল কর্তৃপক্ষ এবং টেলিকম সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তারা সমস্ত তথ্য একটি ‘বন্ধ খামে’ (Sealed Cover) সরাসরি পারিবারিক আদালতের কাছে জমা দেয়।
যদিও ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট ‘জোসেফ শাইন’ মামলায় ভারতে ব্যভিচার বা বিবাহেতর সম্পর্ককে ফৌজদারি অপরাধের (Criminal Offence) তালিকা থেকে বাদ দিয়েছিল, তবে হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী এটি এখনও বিবাহবিচ্ছেদের একটি অন্যতম বৈধ দেওয়ানি ভিত্তি। সুপ্রিম কোর্টের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দেশজুড়ে পারিবারিক মামলাগুলিতে ডিজিটাল ও পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পথ অনেকটাই সহজ হল।
(Feed Source: zeenews.com)
