West Bengal
-Ritesh Ghosh
রাতভর প্রবল ও একটানা বৃষ্টিতে কার্যত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে কলকাতা, শহরতলি ও পার্শ্ববর্তী জেলার বিভিন্ন এলাকা। এদিন শুক্রবার সকাল থেকেই চারিদিকে জল জমে স্কুলযাত্রী থেকে অফিসযাত্রী সকলের ত্রাহি অবস্থা। দুর্যোগের জেরে সাতসকালে কাজে বেরোনো অফিসযাত্রী, স্কুল-কলেজের পড়ুয়া এবং সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গে আগামী তিন চারদিন এই বৃষ্টিপাত চলবে।
শহরের সমস্ত নিচু এলাকাগুলিতে প্রচুর জল জমে গিয়েছে। জল নিষ্কাশনের জন্য কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে অধিকাংশ পাম্পিং স্টেশনগুলিকে সক্রিয় রাখা হলেও অবিরাম বৃষ্টিতে সমস্যা বেড়েছে। বৃষ্টি কমলেই জল দ্রুত সরে যাবে বলেই আভাস মিলেছে প্রশাসন সূত্রে।

হাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই মুহূর্তে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয়। একইসঙ্গে একটি সক্রিয় মৌসুমী অক্ষরেখা বর্তমানে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এই জোড়া প্রভাবেই বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গে প্রবেশ করেছে, যার ফলে কয়েকদিন বৃষ্টিপাত চলবে।
বৃহস্পতিবার থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে। শুক্রবার তা অনেক বেড়ে গিয়েছে। এবং দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলাতেও আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় আগামী সোমবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও বৃষ্টিপাত চলবে।
এদিকে উপকূলে সতর্কতামূলক নজরদারি চলছ। উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে সমুদ্র সৈকতে মোতায়েন করা হয়েছে যাতে পর্যটকরা কোনওভাবেই উত্তাল সমুদ্রে নেমে বিপদে না পড়েন। এছাড়া সুন্দরবন ও প্লাবিত হতে পারে এমন এলাকাতেও প্রশাসন সচেতন।
উত্তরবঙ্গেও দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টির কারণে হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের সব জেলাতেই ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত চলবে। বিপর্যয় এড়াতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। আমজনতাকেও সচেতন হতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
(Feed Source: oneindia.com)
