পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী মধুমিতা মাইতি আন্তর্জাতিক মহাকাশ শিক্ষা কর্মশালা ‘মিশন শক্তিস্যাট’-এ অংশ নেওয়ার জন্য নির্বাচিত হয়েছে। বিশ্বের ১০৮টি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সে স্যাটেলাইট নির্মাণ ও মহাকাশ প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ নেবে।
মহাকাশ মিশনে মধুমিতা
মহিষাদল: পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী মধুমিতা মাইতি আন্তর্জাতিক মহাকাশ শিক্ষা কর্মশালা ‘মিশন শক্তিস্যাট’-এ অংশ নেওয়ার জন্য নির্বাচিত হয়েছে। বিশ্বের ১০৮টি দেশের স্কুলছাত্রীদের সঙ্গে এই কর্মশালায় যোগ দেবে সে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নির্বাচিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত শিক্ষক, পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।
আগামী ২৩ অগাস্ট থেকে দিল্লিতে শুরু হবে আট দিনের এই কর্মশালা। ভারতের মোট ২১ জন ছাত্রী এতে অংশ নেবে, তাঁদের অন্যতম মধুমিতা। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের স্যাটেলাইট অ্যাসেম্বলি, ইন্টিগ্রেশন এবং টেস্টিংয়ের ওপর হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি মহাকাশ বিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, পেলোড ডিজাইন, ইলেকট্রনিক্স, কোডিং, সমস্যা সমাধান, মহাকাশ মিশন পরিকল্পনা, নেতৃত্ব এবং দলগতভাবে কাজ করার বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ পাবেন তাঁরা।
মহিষাদলের লক্ষ্যা হাইস্কুলের শিক্ষক ও মধুমিতার গাইড শুভজিৎ দাস জানান, বিশ্বের প্রায় ১২ হাজার ছাত্রী এই কর্মশালায় অংশগ্রহণের প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছিল। মধুমিতা সফলভাবে অনলাইন লার্নিং মডিউল সম্পূর্ণ করে দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত হয়েছে। তাঁর কথায়, এটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল, তবে মহাকাশ গবেষণার প্রতি মধুমিতার আগ্রহই তাকে এই সাফল্য এনে দিয়েছে।
মিশন শক্তিস্যাটের জন্য ২১টি মডিউল ও ৩৬৫টি পাঠ নিয়ে বিশেষ পাঠক্রম তৈরি করা হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য স্কুলপড়ুয়া ছাত্রীদের মহাকাশ প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট উন্নয়নের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত, শিক্ষিত ও ক্ষমতায়ন করা। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্পেস প্রোমোশন অ্যান্ড অথরাইজেশন সেন্টার এবং ইসরোর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে মহাকাশ গবেষণায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
মধুমিতা জানিয়েছে, দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই তার অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ইচ্ছা তৈরি হয়। স্কুলের অটল টিংকারিং ল্যাবে কাজ করার সময় শিক্ষকদের উৎসাহেই সেই আগ্রহ আরও বেড়ে ওঠে।
(Feed Source: news18.com)