
ছোট থেকেই তাঁর প্রতিভা ছিল মারাত্মক৷ অভিনয় দক্ষতা ছিল তুখোড়৷ কিন্তু নাম নিয়ে ছিল একটা সমস্যা৷ সেই নামের ফাঁড়া কাটতেই তাঁকে আর আটকে রাখা যায়নি৷ তারপর তিনিই হলেন বিখ্যাত নায়িকা৷
ফুটফুটে সুন্দরী মেয়ে, বাবা-মা খুব আদর করে নাম রেখেছিলেন আলডা৷ একটু আধুনিকা নাম রাখতে গিয়ে পরে তাঁরাই পড়েছিলেন সমস্যায়৷ কারণ স্কুলের বন্ধুরা মজা করে আলডা নামটি করে দেয় ডালডা৷ ফলে সেই মেয়েকে ডালডা-ডালডা বলে ক্ষেপাত তারা৷
স্বাভাবিক ভাবে ছোট্ট মেয়েটি বিরক্ত হয়, মন খারাপ হয়ে যেত এই ধরনের ব্যাবহারে৷ তারপর নাম বদল করে রাখা হয় নাজমা৷ সেই সময় থেকেই শিশু অভিনেতা হিসেবে সিনেমায় কাজ করা শুরু করেছিল ছোট্ট মেয়েটি৷
জয় বৈষ্ণ দেবী, শ্রী কৃষ্ণ লীলা থেকে রোশনারা ছবিতে তার অভিনয় অনেকের নজর কাড়ে৷ ফলে এই মেয়েকে আর কলকাতায় আটকে রাখা যায়নি৷ সোজা চলে যান মুম্বই৷ আর সেখান বদলে যায় তাঁর নাম! বলতে পারবেন, এই নায়িকার নাম কী?
বলিউড এবং টলিউড মিলিয়ে তিনি প্রচুর ছবিতে অভিনয় করেছেন৷ তাঁর অভিনয় করা সেরা বাংলা ছবির মধ্যে রয়েছে পৃথিবী আমারে চায়, সাথী হারা, লুকোচুরি, কবিতা৷ এবার বুঝতে পারলেন কে এই বিখ্যাত নায়িকা?
তিনি আর কেউ নন, মালা সিনহা৷ তাঁর বাবার নাম ছিল অ্যালবার্ট সিনহা৷ তাঁর বাবা-মা নেপাল থেকে কলকাতায় চলেছে আসেন৷ কলকাতায় জন্ম হয় ছোট্ট মালার৷ কিন্তু তখন তাঁর নাম ছিল আলডা৷
মালা সিনহা তার ক্যারিয়ারে অসংখ্য সুপারহিট ছবি উপহার দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে বাদশা, হেলমেট, পিয়াসা, নয়া জামানা, এক গাঁও কি কাহানি, চন্দন, ফির সুবাহ হোগি, পরওয়ারিশ, উজালা এবং ম্যায় নাশা মে হুনের মতো চলচ্চিত্র। তার পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে, তিনি ধর্মেন্দ্র, মনোজ কুমার, সঞ্জয় খান, রাজেশ খান্না থেকে শুরু করে অমিতাভ বচ্চন পর্যন্ত সবার সাথে কাজ করেছেন। তিনি প্রায় 40 বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে শাসন করেছেন এবং এই দিনগুলিতে, তিনি সিনেমা গসিপ থেকে অনেক দূরে রয়েছেন।
ষাটের দশকের একজন প্রখ্যাত অভিনেত্রী মালা সিনহা অভিনয় এবং সঙ্গীত উভয় বিষয়েই অনুরাগী ছিলেন। অভিনয়ের জন্য তাঁকে সঙ্গীতের প্রতি ভালবাসা ত্যাগ করতে হয়েছিল।
(Feed Source: news18.com)
