)
500% US Tariff Threat on India: মার্কিন কংগ্রেসের চার প্রভাবশালী সেনেটর জানান, রাশিয়ার উপর নতুন নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি বিল নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। খুব শীঘ্রই বিলটি কংগ্রেসে আনা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, সন্দেহ নেই, নতুন করে চাপে পড়তে পারে ভারত।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাশিয়ার কাছ থেকে যে দেশগুলি এখনও তেল কিনছে, সেই দেশগুলির বিরুদ্ধে কি কড়া পদক্ষেপ করার পথে এগোচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন? রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, আর উলুখাগড়ার প্রাণ যায়? হ্যাঁ, অনেকটা তেমনই শোনা যাচ্ছে। কেননা, রটেছে, ভারতের উপর ফের শুল্ক চাপাতে পারে আমেরিকা! সত্যিই? কতটা? আগে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল আমেরিকা। পরে তা সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধপরিস্থিতিতে রাশিয়ার থেকে তেল কেনাতেও ছাড় দিয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু, এবার সম্ভবত রাশিয়ার থেকে তেল কেনার বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
নতুন করে চাপে ভারত
হ্যাঁ, অনেকটা তেমনই অনুমান সংশ্লিষ্ট বাজারের। অর্থাৎ, রাশিয়ার কাছ থেকে যে দেশগুলি এখনও তেল কিনছে, সেই দেশগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার পথে এগোচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন করে শুল্ক চাপানোর চিন্তাভাবনাও চলছে তাদের তরফে। শোনা যাচ্ছে, এই সংক্রান্ত একটি বিলও আনতে পারে মার্কিন কংগ্রেস। মার্কিন কংগ্রেসের চার প্রভাবশালী সেনেটর জানিয়েছেন, রাশিয়ার উপর নতুন নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি বিল নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। খুব শীঘ্রই সেই বিল কংগ্রেসে আনা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, সন্দেহ নেই, নতুন করে চাপে পড়তে পারে ভারত।
কী রয়েছে বিলে?
চার সেনেটরের তরফে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতি থেকে জানা গিয়েছে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে চাপ আরও বাড়াতেই এই বিল আনা হচ্ছে। বিলটির নাম Sanctioning Russia Act of 2025। প্রস্তাবিত এই বিলে বলা হয়েছে, যে দেশগুলি রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, ইউরেনিয়াম বা অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য কিনবে, তাদের পণ্য ও পরিষেবার উপর আমেরিকা অতিরিক্ত শুল্ক চাপাতে পারে। বিলের প্রথম খসড়ায় ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব ছিল। যদিও পরে তা কিছুটা শিথিল করা হয়েছে বলে দাবি। সংশোধিত বিলের চূড়ান্ত খসড়া অবশ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
ভারতকেও হুঁশিয়ারি
আর রাশিয়াকে সমঝে দেওয়ার এই খেলায় ভারতকেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই বিলের অন্যতম সমর্থক সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, চিন ও ভারত যদি রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রকে জ্বালানি জোগাতে থাকে, তাহলে তার ফল ভোগ করতে হবে। অর্থাৎ, রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে দিনের পর দিন যুদ্ধ চালানোর জন্য বহু সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে রাশিয়ার থেকে তেল কিনে সাহায্য করলে চরম শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনে আসছে। আমেরিকার ট্রেজারি দফতর আগে একটি বিশেষ ছাড় দিয়েছিল। তবে সেই ছাড়ের মেয়াদ ১৭ জুন শেষ হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থন
এই বিলের পক্ষে মার্কিন সেনেটে ইতিমধ্যেই ৮৪ জন সেনেটর সমর্থন জানান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইউক্রেনযুদ্ধের ইতি টানতে রাশিয়ার উপর চাপ বাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে এই বিলকে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে ট্রাম্পের সমর্থনের ইঙ্গিত মিললেও বিলটি এখনও আইনে পরিণত হয়নি। ফলে এর চূড়ান্ত রূপ কী হবে এবং ভারত-সহ অন্যান্য দেশ কতটা প্রভাবিত হবে, তা এখনই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
শুল্কগুঁতোয় বিপদে
সন্দেহ নেই, মার্কিনি শুল্কগুঁতো খুবই বিপদে ফেলবে ভারতকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই আইন কার্যকর হয়, তাহলে রাশিয়ার তেলের উপর নির্ভরশীল দেশগুলির জন্য নতুন কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। ভারতের ক্ষেত্রেও জ্বালানি আমদানি, বাণিজ্য এবং আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের উপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
(Feed Source: zeenews.com)
