)
Comprehensive Sex Education: সোমবার (১৩ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি. ভি. নাগারথনা এবং বিচারপতি আর. মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। কেন্দ্রের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি আদালতকে জানান যে, সরকারের তরফ থেকে বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট গ্রহণ করা হয়েছে এবং শীর্ষ আদালতের সবুজ সংকেত পেলেই এটি সারা দেশে কার্যকর করা হবে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দেশের সব স্কুল ও কলেজ শিক্ষায় ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। দীর্ঘদিন ধরে যা নিয়ে সমাজে এক ধরনের জড়তা বা ‘ট্যাবু’ কাজ করত, এবার সেই ‘যৌন শিক্ষা’ (Sex Education) প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে চলেছে। দেশের সমস্ত স্কুল ও কলেজে ‘কম্প্রিহেনসিভ সেক্স এডুকেশন’ বা যৌন শিক্ষা চালু করার পক্ষে সম্মতি প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। জাতীয় বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এই প্রস্তাবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিলেই দেশজুড়ে এটি কার্যকর করা হবে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি. ভি. নাগারথনা এবং বিচারপতি আর. মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। কেন্দ্রের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি আদালতকে জানান যে, সরকারের তরফ থেকে বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট গ্রহণ করা হয়েছে এবং শীর্ষ আদালতের সবুজ সংকেত পেলেই এটি সারা দেশে কার্যকর করা হবে।
কেন এই উদ্যোগ?
মূলত পকসো (POCSO) আইনে নাবালিকার অন্তস্বত্ত্বা হয়ে পড়া এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের পারস্পরিক সম্মতির প্রেমের সম্পর্কগুলোতে অপরাধ প্রবণতা থেকে রক্ষা করার উপায় খুঁজতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশের আলোকেই কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি ২৬ সদস্যের জাতীয় বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে টাটা ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্সেস (TISS)-এর বিশেষজ্ঞ, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রক এবং রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা ছিলেন। তাঁদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই নতুন পাঠ্যক্রম চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ কমিটির মূল সুপারিশ:
১. পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্তি: কমিটির সদস্যরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, ‘যৌন শিক্ষা’ এবং ‘শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ’ সংক্রান্ত বিষয়গুলিকে স্কুলের মূল পাঠ্যক্রমের (Core Syllabus) অংশ করতে হবে যাতে, ব্যাপারগুলো সহজ হয় অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে আর অপরাধপ্রবণতা কমে।
২. প্রাথমিক স্তর থেকেই শুরু: একদম প্রাথমিক স্তর (Foundational Stage) থেকেই শিশুদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, পরিচ্ছন্নতা এবং ‘নিরাপদ ও অনিরাপদ স্পর্শ’ (Safe and Unsafe Touch) সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হবে। শরীরের কোথায় ছোঁয়া যায়, কোথায় যায় না– এই নিয়ে সম্যক ধারণা দিতে হবে স্কুলপড়ুয়াদের।
৩. নির্দিষ্ট সময় ও শিক্ষক: প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে উচ্চতর ক্লাস পর্যন্ত এই বিষয়গুলি পড়ানোর জন্য একজন নির্দিষ্ট বিশেষজ্ঞ শিক্ষক থাকবেন। সপ্তাহে অন্তত দু’দিন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য এই ক্লাস নেওয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
৪. জাতীয় শিক্ষানীতির মেলবন্ধন: ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতির (NEP) মূল নীতি যেমন– শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশ, যৌক্তিক চিন্তাভাবনা ও জীবনশৈলী গঠনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই নতুন সিলেবাস তৈরি করবে এনসিইআরটি (NCERT)।
৫. অভিভাবকদের সচেতনতা: শুধু পড়ুয়ারা নয়, সন্তানদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন বোঝার জন্য শিক্ষক এবং অভিভাবকদের নিয়ে বিশেষ ওয়ার্কশপ বা বৈঠকের আয়োজন করা হবে।
সুপ্রিম কোর্টের নিয়োজিত বিশেষ সহায়তাকারী প্রবীণ আইনজীবীরাও এই রিপোর্টের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় এই পদক্ষেপটিকে অত্যন্ত প্রগতিশীল বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে ইন্টারনেটের বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে কিশোর-কিশোরীদের রক্ষা করা যাবে এবং তারা নিজেদের অধিকার ও নিরাপত্তা সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন হতে পারবে। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের পরই বোঝা যাবে দেশের শিক্ষাঙ্গনে এই নতুন নীতি কবে থেকে কার্যকর হচ্ছে।
(Feed Source: zeenews.com)
