Kashmiri Panchmukhi Apple In Saran: ছাপরার তরুণ কৃষক সঞ্জীব কুমার সিং বিহারের সারন জেলার মাটিতে কাশ্মীরের পঞ্চমুখী জাতের আপেল চাষ করেছেন এবং দ্বিতীয় বছর থেকেই এতে ভাল ফলন হচ্ছে। তিনি পরীক্ষামূলকভাবে এই আপেল গাছ লাগিয়েছিলেন, কিন্তু সেই পরীক্ষা সফল হয়েছে। এবার তিনি বৃহত্তর পরিসরে এই আপেলের চাষ করার পরিকল্পনা করছেন।
কাশ্মীরের আপেল ফল দিচ্ছে ‘এই’ রাজ্যের মাটিতে
বিশাল কুমার, ছাপরা: বিহারের ছাপরার কৃষকরা এখন আর শুধু প্রচলিত চাষাবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তাঁরা ফসলের পাশাপাশি ফল, ফুল এবং সবজির চাষও করছেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই ধরনের চাষাবাদ ও বাগানচর্চায় তরুণ কৃষকদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। এই প্রতিবেদনে এমনই এক তরুণ কৃষকের কথা বলা হচ্ছে, যিনি কাশ্মীরে চাষ হওয়া উন্নত মানের আপেলের একটি জাত বিহারের সারন জেলার মাটিতে লাগিয়ে দারুণ ফলন পেয়েছেন। সারনের মানঝি ব্লকের মনসাঠ গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জীব কুমার সিং ওরফে রিঙ্কু সিং পরীক্ষামূলকভাবে হাজিপুর থেকে একটি আপেল গাছের চারা কিনে লাগিয়েছিলেন, যা দ্বিতীয় বছর থেকেই ফল দিতে শুরু করেছে।
আপেল চাষের ভাবনা কীভাবে এল?
সঞ্জীব কুমার সিংয়ের বাড়িতে একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র পরিচালিত হয়, যেখানে শিশুদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই তিনি দু’বছর আগে ফলের গাছের চারা কেনার জন্য হাজিপুরের একটি নার্সারিতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তিনি মাল্টা ও সবেদা চারার পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে একটি আপেলের চারাও কিনে আনেন, যা এখন ফল দিচ্ছে। এই গাছটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পুষ্টি বাগান কর্মসূচির মাধ্যমেই তাঁর আপেলের চারা লাগানোর ভাবনা আসে এবং তাতে তিনি সফল হয়েছেন।
সারনের মাটিতেই দিচ্ছে ফল:
সঞ্জীব সিং ওরফে রিঙ্কু সিং হাজিপুরের একটি নার্সারি থেকে পঞ্চমুখী জাতের আপেলের চারা কিনে লাগিয়েছিলেন। এই আপেলের ফল আকারে লম্বাটে এবং রঙে সবুজ হয়। তবে এর মিষ্টতা অনেক বেশি। এই জাতটি উষ্ণ অঞ্চলেও চাষ করা সম্ভব এবং কৃষকেরা ভাল ফলন পেতে পারেন। বর্তমানে গাছে ১০০টিরও বেশি আপেল ধরেছে। একটি থোকায় ৮ থেকে ১০টি ফল ঝুলতে দেখে মন ভরে যায়।
দ্বিতীয় বছর থেকেই ফল ধরতে শুরু:
Local18-কে সঞ্জীব জানান, ‘‘আমার কাছে একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র পরিচালিত হয়। অঙ্গনওয়াড়ির অধীনে দুই বছর আগে পুষ্টি বাগান তৈরির সুযোগ পেয়েছিলাম। সেই সময় পরীক্ষামূলকভাবে একটি আপেল গাছ কিনে এনে লাগিয়েছিলাম। গাছটি লাগানোর দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ফল দিতে শুরু করে। প্রথমবার ফলন কম হয়েছিল, কিন্তু এবার গাছে ১০০টিরও বেশি ফল দেখা যাচ্ছে। আমি এটি পরীক্ষামূলকভাবে লাগিয়েছিলাম, তবে এখন পাঁচ কাঠা জমিতে এই একই জাতের আপেলের বাগান করব।’’
পঞ্চমুখী জাতের আপেল:
তিনি আরও জানান, এই জাতের আপেল চাষ করতে খুব বেশি খরচ হয় না। চারা লাগানোর সময় জৈব সার ব্যবহার করতে হয় এবং সময়মতো জল দিতে হয়। এরপর গাছ খুব দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই ফল দিতে শুরু করে। মাত্র দুই বছরে গাছটির অনেক উন্নতি হয়েছে এবং ফল ধরাও শুরু হয়েছে। এটি পঞ্চমুখী জাতের আপেল, যা সারনের মাটিতে খুব ভালভাবে ফলন দিচ্ছে। কৃষকেরা যদি এই আপেলের বাগান করেন, তাহলে গম ও ধানের চাষের তুলনায় বহু গুণ বেশি আয় করতে পারবেন।
(Feed Source: news18.com)