)
Taslima Nasrin: দীর্ঘ ২০ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! ফের কলকাতায় ফিরছেন মুক্তচিন্তা ও মৌলবাদ বিরোধী আন্দোলনের জ্বলন্ত প্রতীক, কবি ও লেখিকা তসলিমা নাসরিন। আগামী ১ অগাস্ট, শনিবার ঠিক সন্ধ্যা ৫:৩০টায় রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত হতে চলেছে এক ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান। ‘সেক্যুলার মিশন’, ‘HRBFF’ এবং ‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য’ সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। থাকবে তসলিমা নাসরিনের নিজের ডিজাইন করা কবিতা ও গানের এক অনন্য কোলাজ।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দীর্ঘ দুই দশকের অপেক্ষার অবসান। সমস্ত বাধা-বিপত্তি এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েন পেরিয়ে ফের তিলোত্তমায় পা রাখছেন মৌলবাদ বিরোধী আন্দোলনের অগ্নিসম প্রতীক, প্রখ্যাত কবি ও লেখিকা তসলিমা নাসরিন। আগামী ১ আগস্ট, শনিবার, কলকাতার সংস্কৃতি কেন্দ্র রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত হতে চলেছে এক অনুষ্ঠান। ‘সেক্যুলার মিশন’, ‘HRBFF’ এবং ‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য’— এই তিন সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে ও আয়োজনে আগামী ১ অগাস্ট সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটায় এই বিশেষ অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। মূল অনুষ্ঠানটি চলবে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে মোহিত রায় জানিয়েছেন, তসলিমা নাসরিনের এই প্রত্যাবর্তন স্রেফ একটি সাধারণ সফর নয়, এটি একটি বিরাট ঘটনা। মুক্তচিন্তা ও প্রতিবাদের এক আন্তর্জাতিক প্রতীককে উদযাপন করতেই এই বিশেষ নাগরিক সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে। এই মেগা ইভেন্টে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সিএমও (CMO) বা মুখ্যমন্ত্রী দপ্তরের চূড়ান্ত লিখিত সম্মতির বিষয়ে আয়োজকরা এখনই খোলসা করে কিছু বলতে চাননি। তাঁদের দাবি, প্রাথমিক কথাবার্তা ইতিবাচকভাবেই সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র বা প্রোগ্রাম কার্ড প্রকাশ করে সমস্ত বিশিষ্ট অতিথিদের নাম সর্বসমক্ষে আনা হবে।
উল্লেখ্য, কলকাতার সঙ্গে তসলিমা নাসরিনের সম্পর্ক এবং তাঁর নির্বাসনের ইতিহাস অত্যন্ত দীর্ঘ ও বিতর্কিত। ২০০৫ সালে কলকাতায় বাংলাদেশের হিন্দুদের নিয়ে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন তসলিমা। এর ঠিক দু’বছর পর, ২০০৭ সালে উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে তাঁকে কার্যত জোরপূর্বক কলকাতা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। আয়োজকদের দাবি, তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার তাঁকে তাড়ানোর পর, পরবর্তী তৃণমূল সরকারও সেই নির্বাসনের ‘লিগ্যাসি’ বা ধারা বজায় রেখেছিল। ফলে বিগত সরকারগুলির জমানায় তসলিমাকে কলকাতায় ফিরিয়ে আনার কোনো অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। আয়োজক সংগঠনগুলির মতে, পূর্বতন দুই সরকারের অনমনীয় মনোভাবের বিপরীতে বর্তমান সরকার এই কবি-লেখিকার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সহায়কের ভূমিকা পালন করছে। এই ধরনের স্পর্শকাতর ও হাই-প্রোফাইল সফরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো নিরাপত্তা। আয়োজকদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, বর্তমান সরকারের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় সমস্ত রকম নিরাপত্তার আশ্বাস ও সবুজ সংকেত মিলেছে। সরকারি স্তরে এই নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তসলিমাকে কলকাতায় ফিরিয়ে আনা কোনোভাবেই সম্ভব হত না।
১ অগাস্টের এই সান্ধ্যকালীন অনুষ্ঠানে তসলিমা নাসরিনকে কেন্দ্র করে এক অভিনব সাংস্কৃতিক কোলাজ দেখতে পাবেন কলকাতার দর্শকরা। বিশিষ্টজনেদের বক্তব্যের পাশাপাশি অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ হতে চলেছে তসলিমার নিজের লেখা কবিতা এবং সেই কবিতাগুলির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া গানের এক বিশেষ পরিবেশনা। এই সম্পূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও ডিজাইন স্বয়ং তসলিমা নাসরিন নিজেই করেছেন। এর আগে বিদেশের মাটিতে এই ধরনের অনুষ্ঠান প্রশংসিত হলেও, কলকাতায় এই প্রথমবার নিজের ডিজাইন করা অনুষ্ঠান মঞ্চে পরিবেশন করবেন তিনি। স্বভাবতই, এই খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই কলকাতার বুদ্ধিজীবী মহল থেকে শুরু করে সাধারণ পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সম্পূর্ণ সূচি ও কার্ড প্রকাশ পাওয়ার পর এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে পারদ আরও চড়বে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
(Feed Source: zeenews.com)
