India’s First Hydrogen Train: বলুন তো, দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের রং নীল কেন হল? প্ল্যাটফর্ম টিকিটের চেয়ে দামে সস্তা,ভাড়া কত জানেন?

India’s First Hydrogen Train: বলুন তো, দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের রং নীল কেন হল? প্ল্যাটফর্ম টিকিটের চেয়ে দামে সস্তা,ভাড়া কত জানেন?

India’s First Hydrogen Train: ভারতীয় রেলের মুকুটে নয়া পালক! হরিয়ানার জিন্দ-সোনিপত ৮৯ কিমি রুটে ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বলুন তো, দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের রং নীল কেন হল? কারণ জানলে চমকে যাবেন।

ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের নীল রঙটি শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। বিশ্বের প্রথম হাইড্রোজেন যাত্রীবাহী ট্রেনটি (যা ২০১৮ সাল থেকে জার্মানিতে চলছে) উজ্জ্বল নীল রঙের। কানাডা, জাপান এবং চীনে চলাচলকারী হাইড্রোজেন ট্রেনগুলোও নীল রঙের।

আসলে, হাইড্রোজেন ট্রেন জলের (H₂O) সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। সাধারণ ট্রেন ডিজেল বা বিদ্যুতে চলে, কিন্তু হাইড্রোজেন ট্রেন সম্পূর্ণ ভিন্ন উপায়ে কাজ করে। এর জন্য ট্রেনের বিশেষ ট্যাঙ্কে হাইড্রোজেন গ্যাস ভরা হয়। ফুয়েল সেলে হাইড্রোজেন + অক্সিজেন বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে এবং শুধুমাত্র জলীয় বাষ্প নির্গত হয়।এতে কোনও ধোঁয়া বা দূষণ হয় না, এবং একে সবুজ বা পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি বলা হয়।

হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলে যখন হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন মিলিত হয়, তখন শুধু জল (H₂O) উৎপন্ন হয়। নীল রঙকে জল, আকাশ এবং পরিচ্ছন্নতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাপানের হাইবারি ট্রেনটিও নীল রঙের এবং এতে জলের নকশা রয়েছে। জার্মানির হাইড্রোজেন ট্রেন, কোরাডিয়া আইলিন্ট, সেটিও উজ্জ্বল নীল রঙের। ফলস্বরূপ, ভারতের হাইড্রোজেন ট্রেনটিও নীল রঙের হবে।

হাইড্রোজেল ট্রেন প্রচলিত ট্রেন থেকে আলাদা। এর নীল রঙটি আকর্ষণীয় ও আধুনিক। বিশ্বজুড়ে (জার্মানি, জাপান, চীন, কানাডা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) হাইড্রোজেন ট্রেনগুলো বেশিরভাগই নীল রঙের। ভারতও এই বৈশ্বিক ধারা অনুসরণ করছে।

আটটি প্যাসেঞ্জার কোচ এবং দুটি পাওয়ার কার নিয়ে গঠিত ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনটি ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ জিন্দ-সোনিপত রুটে চলবে। এতে ৬৮২টি আসন এবং ২,৬০০ যাত্রী ধারণক্ষমতা রয়েছে। এই হাইড্রোজেন ট্রেনটি শুধু পরিবেশের জন্যই অত্যন্ত উপকারী নয়, যাত্রীদের জন্যও সাশ্রয়ী। এর ভাড়া একটি প্ল্যাটফর্ম টিকিট বা দিল্লি মেট্রোর ভাড়ার চেয়েও কম।

হাইড্রোজেন ট্রেনটি থামবে জিন্দ সিটি, গোহানা, পান্ডু পিন্দারা, ললিত খেদা, ভাম্ভেভা, ইসাপুর খেরি, বুটানা, খান্দ্রাই, রাবরা, লাঠ, মোহনা এবং সোনিপাত স্টেশনে। ট্রেনের সচল গতি ৭৫ কিমি/ঘণ্টা। ট্রায়ালের সময়, এটি ১২০ কিমি/ঘণ্টায় পৌঁছেছিল।

ট্রেনে হাইড্রোজেন গ্যাস ব্যবহারের কারণে নিরাপত্তার ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। হাইড্রোজেন লিক ডিটেক্টর, ফায়ার ডিটেক্টর এবং মনিটরিং সিস্টেম-সহ বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এই পাইলট প্রকল্পের (ট্রেন ও পরিকাঠামো) ব্যয় প্রায় ১১২ কোটি টাকা।

জিন্দে একটি রেলওয়ে হাইড্রোজেন রিফুয়েলিং প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে হাইড্রোজেন সংরক্ষণ, সংকুচিতকরণ এবং পুনরায় ভর্তি করার জন্য একটিসম্পূর্ণ ব্যবস্থা রয়েছে। প্ল্যান্টটি লিক ডিটেক্টর, ফ্লেম ডিটেক্টর, অটো-শাটডাউন সিস্টেম, ওয়াটার স্প্রে সিস্টেম এবং ফায়ার অ্যালার্ম দিয়েও সজ্জিত।রেলওয়ে ‘হাইড্রোজেন ফর হেরিটেজ’ উদ্যোগের অধীনে ৩৫টি হাইড্রোজেন ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করেছে।

(Feed Source: news18.com)