)
বৈভব সূর্যবংশীর ভয়াল বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল সব রেকর্ড! সচিন তেন্ডুলকরকে পিছনে ফেলেই বিরল ইতিহাসে নাম লিখিয়ে ফেলল টিনেজ সেনসেশন
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি২০আই সিরিজে যথাক্রমে ২-০ ও ৪-০ হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর ভারতের লজ্জায় মুখ লোকানোর জায়গা ছিল না। সূর্যকুমার যাদবের জুতোয় পা গলিয়ে, দেশের নয়া টি-২০ অধিনায়ক হিসেবে শ্রেয়স আইয়ারের শুরুটা একেবারেই সুখকর হয়নি। এই সব কিছু মাথায় রেখেই ভারত এসেছে জিম্বাবোয়েতে তিন ম্যাচের টি-২০আই সিরিজ খেলতে। যাক অবশেষে ৭ ম্যাচ পর ভারত টি-২০আইতে জিতল। কেকেআরের প্রাক্তন আইপিএলজয়ী অধিনায়ক শ্রেয়সও ক্যাপ্টেন হিসেবে প্রথম জয়ের স্বাদ পেলেন। ২৩ জুলাই, বৃহস্পতিবার হারারেতে ভারত ৭ উইকেটে সিকান্দর রাজার জিম্বাবোয়েকে হারিয়ে সিরিজে ১-০ এগিয়ে গেল। আর ম্যাচের সব লাইমলাইট কেড়ে নিলেন বৈভব সূর্যবংশী।
টিনেজ সেনসেশন বৈভব পরপর দুই মরসুম আইপিএল মাতিয়েই সিনিয়র টিমে জায়গা করে নিয়েছেন। তবে তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ারের শুরুটা ছিল বেশ কঠিন এবং সমালোচিত। ব্যাপক প্রত্যাশা নিয়ে সিনিয়র টিমে ঢোকা ১৫ বছর বয়সী বৈভব তার প্রথম তিন টি-টোয়েন্টিআই ইনিংসে যথাক্রমে ১৪, ১৩ ও ১৫ রান করেছিলেন। ওল্ড ট্রাফোর্ডে নিজের অভিষেক ম্যাচে তিনি ১০ বলে ১৪ রান (যার মধ্যে দু’টি ছক্কা ছিল) করেন এবং শেষ পর্যন্ত উইল জ্যাকসের বলে স্টাম্পড হয়ে সাজঘরে ফেরেন। এরপর ট্রেন্ট ব্রিজে তিনি ৫ বলে ঝোড়ো ১৩ রান এবং ব্রিস্টলে ১০ বলে ১৫ রান করেছিলেন। তবে এদিন বৈভব সুদে-আসলে সব মিটিয়ে দিলেন।
জিম্বাবোয়ের ইনিংস
এদিন হারারে স্পোর্টস ক্লাবে জিম্বাবোয়ে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ৭ উইকেটে ১২৫ রান তুলেছিল ২০ ওভারে। ময়াঙ্ক যাদব ও প্রিন্স যাদব দুই উইকেট করে নিয়েছেন। এক উইকেট শিবম দুবে ও রবি বিষ্ণোইয়ের। জিম্বাবোয়ে এদিন ১৪ ওভারে ৬৪ রান তুলতে গিয়েই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল। রায়ান বার্ল (৩৫ বলে ২৬), ওয়েসলি ম্যাডহিভিয়ার (৩৪ বলে ৩৯) ও তাদিওয়ানাশে মারুমানি (২০ বলে ২৭) যদি ক্রিজে কিছুক্ষণ না টিকতেন তাহলে জিম্বাবোয়ে ১০০ রানও করতে পারত কিনা সন্দেহ আছে! ভারতের হয়ে এদিন অভিষেক করেছিলেন গুজরাত টাইটান্সের জোরে বোলার অশোক শর্মা। ৪ ওভার বল করে ২৯ রান দিয়েছেন। কোনও উইকেট নিতে পারেননি।
ভারতের ইনিংস
১২৬ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ব্যাট করতে নেমেছিল ভারত। অভিষেক শর্মার সঙ্গে ওপেন করতে নামেন বৈভব। ৮ বলে ১ রান করেই অভিষেক ফিরে যান কেকেআর পেসার ব্লেসিং মুজারাবানির বলে। এরপর বৈভবের হাত শক্ত করতে আসেন ঈশান কিষান। দ্বিতীয় উইকেটে ৪৫ রান যোগ করেন তাঁরা। ১৯ বলে ৫০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে ফেরেন বৈভব। চারটি চার ও চারটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। এরপর ঈশান ২৪ বলে ৩৫ রান করে ফিরে যান। শ্রেয়স (২৪ বলে ২৮) ও তিলক ভার্মা (৫ বলে ৬) অপরাজিত থেকে অনায়াসে হেসেখেলে ম্যাচ বার করে আনেন। ৪০ বল হাতে রেখে ভারত জিতে যায়। আগামী শনি ও রবিবার সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় টি-২০আই ম্যাচ রয়েছে।
আর এবার দেখে নিন এদিন বৈভব কী কী করলেন
সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-২০ ফিফটি
১৫ বছর ১১৮ দিন বয়সে- ভারতের বৈভব সূর্যবংশী জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে হারারেতে ২০২৬ সালে
১৬ বছর ৫৬ দিন বয়সে- জিব্রাল্টার লুই ব্রুস মাল্টার বিরুদ্ধে আলবেরগারিয়ায় ২০২১ সালে
১৬ বছর ৭৬ দিনে বয়সে – ইন্দোনেশিয়ার কেভিন চাড্ডা সুইডেনের বিরুদ্ধে বালিতে ২০২৬ সালে
১৬ বছর ৮৯ দিন বয়সে- সিয়েরা লিওনের অ্যালুসিন তুরে ঘানার বিরুদ্ধে বেনোনিতে ২০২৩ সালে
১৬ বছর ১১৮ দিন বয়সে- ভুটানের তেঞ্জিন রাবগে চিনের বিরুদ্ধে কুয়ালালামপুরে ২০২৩ সালে
১৭ বছর ২৯৬ দিন বয়সে- আফগানিস্তানের রহমানুল্লাহ গুরবাজ জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে ২০১৯ সালে
(পূর্ণ সদস্য দেশের কোনও ব্যাটারের আগের রেকর্ড রহমানুল্লাহরই)
বৈভব পুরুষদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫০ বা তার বেশি রানের ইনিংস খেলা সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবেও ইতিহাস গড়েছেন এদিন। মাত্র ১৫ বছর ১১৮ দিন বয়সে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে হারারেতে প্রথম টি-২০ আন্তর্জাতিকেই তিনি এই রেকর্ড করেছেন। ১৬ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫০+ রানের ইনিংস খেলেছেন এমন ক্রিকেটারের সংখ্যা এখন মাত্র দু’জন। বৈভবের আগে এই কীর্তি ছিল শুধুমাত্র নেপালের কুশল মাল্লার দখলে। তিনি ২০২০ সালে কীর্তিপুরে আমেরিকার বিরুদ্ধে ওডিআই-তে ১৫ বছর ৩৪০ দিন বয়সে অর্ধশতরান করেছিলেন।
পূর্ণ সদস্য দেশগুলির হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম অর্ধশতরান করার সময় সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটারদের তালিকা:
১৫ বছর ১১৮ দিন বয়সে: বৈভব সূর্যবংশী (ভারত) বনাম জিম্বাবোয়ে, হারারে, ২০২৬ (টি-২০ আন্তর্জাতিক)
১৬ বছর ২১৩ দিন: সচিন তেন্ডুলকর (ভারত) বনাম পাকিস্তান, ফয়সালাবাদ, ১৯৮৯ (টেস্ট)
১৬ বছর ২১৪ দিন: শাহিদ আফ্রিদি (পাকিস্তান) বনাম শ্রীলঙ্কা, নাইরোবি, ১৯৯৬ (ওডিআই)
১৭ বছর ৩৯ দিন: মুশতাক মহম্মদ (পাকিস্তান) বনাম ভারত, কলকাতা, ১৯৬০ (টেস্ট)
১৭ বছর ৬৩ দিন: মহম্মদ আশরাফুল (বাংলাদেশ) বনাম শ্রীলঙ্কা, কলম্বো (এসএসসি), ২০০১ (টেস্ট)
(Feed Source: zeenews.com)
