Jalpaiguri News: রাত হলেই স্কুলে নেশার আসর! সকালে ঝাঁটা হাতে মদের বোতল, মাংসের হাড় কুড়োন প্রধান শিক্ষিকা? জলপাইগুড়ির স্কুলে এ কী কাণ্ড

Jalpaiguri News: রাত হলেই স্কুলে নেশার আসর! সকালে ঝাঁটা হাতে মদের বোতল, মাংসের হাড় কুড়োন প্রধান শিক্ষিকা? জলপাইগুড়ির স্কুলে এ কী কাণ্ড

 

Jalpaiguri School News: জলপাইগুড়ির একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘিরে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। অভিযোগ প্রায় প্রতিদিন সকালে ক্লাস শুরুর আগে স্কুল চত্বর থেকে খালি মদের বোতল, ডিসপোজেবল গ্লাস, মাংসের হাড় ও অন্যান্য আবর্জনা পরিষ্কার করেই পড়ানো শুরু করতে হচ্ছে প্রধান শিক্ষিকাকে

খুদে পড়ুয়াদের পড়ানোর আগে মদের বোতল, মাংসের হাড় কুড়োয় প্রধান শিক্ষিকা! এই স্কুলের অবস্থা দেখে চমকে উঠবেন আপনিও। এটা স্কুল নাকি মদের ঠেক? কেনই বা শিক্ষিকা করেন এই কাজ? জলপাইগুড়ির এই স্কুলেই বসছে নিত্যদিন মদের আসর! তাই সকালে খালি বোতল-হাড় কুড়িয়ে তবেই হয় খুদে পড়ুয়াদের ‘প্রার্থনা’,তারপর পড়াশোনা। ভাবছেন কেন এই দুর্দশা।

বিদ্যালয়ে সকালের সূচনা হওয়ার কথা ছোটদের সুমিষ্ট কণ্ঠে প্রার্থনা আর কলকাকলিতে। কিন্তু জলপাইগুড়ির একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতি সকালে দেখা যাচ্ছে এক চরম অনভিপ্রেত ও লজ্জাজনক দৃশ্য। শিশুদের পাঠদান শুরুর আগে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রথম কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা খালি মদের বোতল, ডিসপোজেবল গ্লাস, মাংসের হাড় ও চানাচুরের প্যাকেট কুড়িয়ে পরিষ্কার করা! ঘটনাটি জলপাইগুড়ি পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের দেশবন্ধু নগর আর আর-২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

অভিযোগ, প্রতিদিন স্কুল ছুটি হওয়ার পর সন্ধ্যা নামলেই বিদ্যালয় চত্বর যেন বদলে যায় দুষ্কৃতীদের আড্ডাস্থলে। অনায়াসে ঢুকে পড়ে তারা স্কুলের বাগান, বারান্দা এবং শ্রেণিকক্ষের সামনে বসায় নেশার জমজমাট আসর। চলে দেদার মদ্যপান ও এলাহি ভোজ। আর পরদিন সকালে সেই নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ পরিষ্কার করেই কচিকাঁচাদের ক্লাসে বসাতে বাধ্য হন শিক্ষকেরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সঙ্গীতা রায় সান্যাল ক্ষোভের সঙ্গে জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই ভোগান্তি সহ্য করতে হচ্ছে তাঁদের। প্রতিদিন সকালে এসে এই আবর্জনা পরিষ্কার না করলে বাচ্চাদের বসানোই সম্ভব নয়। স্থানীয় কাউন্সিলর এবং পুলিশ প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও স্থায়ী কোনও সমাধান মেলেনি। অথচ সারা বছরই এই বিদ্যালয়ে খুদে পড়ুয়াদের নিয়ে নানা ধরনের অনুষ্ঠান ও শিক্ষামূলক কর্মসূচির আয়োজন করেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। যেখানে পঠনপাঠনের পাশাপাশি সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে, সেখানে রাতের অন্ধকারে এহেন অসামাজিক কার্যকলাপ চলায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।

এ বিষয়ে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সন্দীপ ঘোষ জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আশা করছেন খুব দ্রুতই পুলিশ গুরুত্ব সহকারে ব্যবস্থা নেবে। তবে অভিভাবক ও স্থানীয়দের একটাই দাবি, অবিলম্বে স্কুলে নিয়মিত পুলিশি টহল ও কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করে পঠনপাঠনের উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।

(Feed Source: news18.com)