)
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর ককোরোচ জনতা পার্টি নেতারা উদযাপনে নাচ-গানে মেতে উঠলেও, দিল্লিতে অনাহারে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন সাধারণ কর্মীরা। আন্দোলনের অন্যতম সমর্থক মেঘনাদ এস অভিযোগ করেন, জয়ের পর নেতাদের অসংবেদনশীলতার কারণেই যন্তর মন্তরে বিপাকে পড়েন কর্মীরা। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে দল।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফাকে ‘বড় জয়’ হিসেবে দেখিয়ে যখন ককোরোচ জনতা পার্টি-র শীর্ষ নেতারা উল্লাসে মেতেছেন, ঠিক তখনই দলের বিরুদ্ধে উঠেছে এক চরম অসংবেদনশীলতার অভিযোগ। আন্দোলনে শুরু থেকে পাশে থাকা বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ইউটিউবার মেঘনাদ এস অভিযোগ করেছেন— নেতাদের উদযাপনের মাঝেই দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারী ও স্বেচ্ছাসেবীদের কোনও খাবার বা আশ্রয় ছাড়াই অসহায় অবস্থায় ফেলে রেখে চলে গেছেন সিজেপি নেতৃত্ব।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে সোশ্যাল মিডিয়ায় সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাসের একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পর। ‘রেজিগনেশন পার্টি’ লেখা ওই ভিডিয়োতে দেখা যায়, জয় উদযাপনে নাচ-গানে মেতেছেন সৌরভ দাস-সহ অন্য নেতারা। উপস্থিত ছিলেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও। এই ভিডিয়ো দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মেঘনাদ। ভোর ৪টেয় এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি লেখেন,
“গত দুই দিন ধরে আমি এবং আমার কয়েকজন বন্ধু নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে ক্ষুধার্ত, পরিত্যক্ত কর্মীদের বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। আর সিজেপি নেতারা বলছে— ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে’! যন্তর মন্তরে যখন পুলিস এসে কর্মীদের জিনিসপত্র তুলে ফেলে দিল, নেতারা তখন কেটে পড়েছেন। ৭০ জনেরও বেশি প্রতিবাদীকে দিল্লিতে অভুক্ত ফেলে রাখা হয়েছে। অভিনন্দন CJP, তোমরাও শেষ পর্যন্ত বাকি প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোর মতোই হয়ে উঠলে!” মেঘনাদ পরবর্তীতে আটকে পড়া কর্মীদের বাড়ি ফেরার জন্য তাৎকাল ট্রেনের টিকিট এবং দিল্লিতে থাকার ব্যবস্থা হিসেবে ইন্ডিয়ান ইউথ কংগ্রেস-এর অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে সাহায্য বাড়িয়ে দেন।

জুনায়েদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ
শুধু মেঘনাদই নন, সিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন আরও অনেকেই। এতদিন ধরে আন্দোলনকারীদের খাবারের ব্যবস্থা করে দেওয়া জুনায়েদ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গেও নেতারা চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ‘লাইভ হিন্দুস্থান’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জুনায়েদ দাবি করেন, আন্দোলন শেষ করে যাওয়ার আগে সিজেপি নেতারা তাঁর সঙ্গে হাত মেলাতেও অস্বীকার করেন। এমনকি তিনি যখন আটক ছিলেন, তখন নেতারা তা নিয়ে কোনও তোয়াক্কা না করে পার্টিতে ব্যস্ত ছিলেন।
অভিযোগ অস্বীকার সিজেপি-র
এসব সমালোচনার মুখে পড়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছে সিজেপি। ‘ইন্ডিয়া টুডে TV’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, এটা কোনও ফাইভ স্টার হোটেলের পার্টি ছিল না, একটি সাধারণ বেসমেন্ট হলে ১৫০-২০০ জন স্বেচ্ছাসেবীকে ধন্যবাদ জানাতে মিটিং ডাকা হয়েছিল। নাচ-গানের আগে প্রতিটি স্বেচ্ছাসেবীর সঙ্গে আলাদাভাবে বসে কথা বলা হয়েছে এবং তাঁদের সম্মানিত করা হয়েছে।
ভিডিয়ো দেখে বিষয়টি অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে, ব্যাকগ্রাউন্ডে দল বা নেতারা বাকি সব সামলানোর কাজ ঠিকই করছিলেন। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা আদায়ের মতো বড় সাফল্য অর্জন করলেও, নিজেদের কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি এমন আচরণ সিজেপি-র মতো নতুন ধারার রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তিতে বড়সড় ধাক্কা দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
(Feed Source: zeenews.com)
