
একেবারে জেন জি-র প্রেমের গল্প বলছে, বনি-অঙ্গনার ‘প্রেম শর্টস’। কেমন প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন বনি? অভিনেতা বলছেন, ‘প্রত্যেকে আমায় একটাই কথা বলেছেন যে, কোথাও এটা মনে হয়নি যে আমি অভিনয় করছি। মনে হয়েছে, চরিত্রটা একেবারে আমার মতোই। এটা আমার কাছে একটা বড় পাওয়া। পাশাপাশি এই গল্পে একটা নতুন প্রজন্মের ছাপ রয়েছে, সেই স্বাদটা দর্শকদের ভীষণ ভাল লাগছে।’ সিরিজে বনি-অঙ্গনার চুম্বন দৃশ্য নিয়ে যথেষ্ট চর্চা রয়েছে। বলা হয়েছে, এই দৃশ্যের প্রভাব নাকি কৌশানীর সঙ্গে সম্পর্কেও পড়েছে? সত্যিটা কী? সিরিজ দেখে কী বললেন খোদ কৌশানী? বনির উত্তর, ‘কৌশানীর কিন্তু সিরিজটা দেখে ভাল লেগেছে। ও আমার অভিনয়ের প্রশংসা করেছে। আসলে সিরিজটা দেখলেই মানুষ বুঝতে পারবেন, কেন ওই দৃশ্যটা জরুরি ছিল। ওখান থেকেই গল্পটা একটা নতুন মোড় নয়। এমন নয় যে, শুধুমাত্র সেনসেশন তৈরি করার জন্য চরিত্রটি চিত্রনাট্যে যোগ করা হয়েছে।’
একটা সময়ে বনির বিপরীতে শুধুমাত্র কৌশানীকেই দেখা যেন নায়িকা হিসেবে। বর্তমানে বনির বিপরীতে কখনও অঙ্গনা তো কখনও স্বস্তিকা দত্ত। কৌশানীও নতুন জুটিতে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। কোথাও কি মানুষের কাছে বনি-কৌশানী জুটি একঘেয়ে হয়ে গিয়েছিল? অভিনেতা বলছেন, ‘আসলে ২ রকম মানুষ রয়েছেন। কেউ আমাদের ফের পর্দায় একসঙ্গে দেখতে চান, কেউ আবার নতুন জুটিকেই ভালবাসা দিয়েছেন। আসলে কেরিয়ারের একটা দীর্ঘ সময় আমি আর কৌশানী একসঙ্গে কাজ করেছি। একটা সময়ের পরে আমরাই সিদ্ধান্ত নিলাম, এর একটা বিরতি দরকার। কথা বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, আপাতত আর একসঙ্গে কাজ করব না। প্রমাণ করার ছিল যে, অন্য নায়ক বা নায়িকার সঙ্গেও আমরা সফল সমীকরণ তৈরি করতে পারি। শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে, কৌশানীর সাফল্য তো অস্বীকার করা যায় না।’
টলিউডে দীর্ঘদিন কাজ করছেন, কিন্তু তারপরেও বনির কখনও মনে হয়েছে যে, তিনি একঘেয়ে চরিত্র পাচ্ছেন? অভিনেতা বলছেন, ‘শিল্পী হিসেবে আমরা তো সবসময়েই চ্যালেঞ্জ নিতে ভালবাসি, কিন্তু পরিচালকদের ও তো সুযোগ দিতে হবে। যাঁরা ভিন্ন ধারার চরিত্রে অভিনয় করেন, তাঁরাই শুধু সুযোগ পাবেন আর আমাদের ওপর একটা কমার্শিয়াল ট্যাগ বসে যাবে, এটা হওয়া উচিত নয়। একটা সময়ে মনে করা হত, কৌশানী গ্ল্যামারাস চরিত্র আর নাচ-গান ছাড়া কিছুই পারে না। অথচ ও নজর কাড়ল ডি-গ্ল্যাম লুকেই। আমি তো চাই নতুন নতুন চ্যালেঞ্জিং চরিত্র আমার কাছে আসুক। মুম্বইতে অডিশন দিয়ে কাস্টিং করা হয়, সেটা টলিউডেও করতে সমস্যা কোথায়? অডিশন নেওয়া হোক, লুক সেট করা হোক… যদি না পারি, তাহলে বাতিল করা হোক। কিন্তু সুযোগ না দিয়ে, শুধু কমার্শিয়াল চরিত্রে জনপ্রিয়তা পেয়েছি বলে দাগিয়ে দেওয়াটা উচিত নয়।’
সিরিজের সৌজন্যে অঙ্গনার সঙ্গে প্রথম জুটি, কেমন অভিজ্ঞতা হল বনির? অভিনেতা বলছেন, ‘অঙ্গনা আমার থেকে বয়সে অনেকটাই ছোট, তবে ভীষণ ম্যাচিওর। শ্যুটিং করতে গিয়েই ওর সঙ্গে বন্ধুত্ব। ওর একটা জিনিস ভীষণ ভাল লেগেছে। সেটে ও সবার সঙ্গে সমান ব্যবহার করে। যে, যে পদেই থাকুন না কেন, সবার সঙ্গে হেসে কথা বলে। এই সৌজন্য আমার খুব ভাল লাগে। আমি নিজেও এটা করার চেষ্টা করি। আসলে বাবার থেকেই শিখেছি। অঙ্গনা এত ছোট বয়সে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, কিন্তু দেখলাম ওর পা-টা মাটিতেই রয়েছে।’
রাজ্যে সরকার বদলেছে, টলিউডে পরিবর্তন প্রত্যাশা করেন? বনির সাফ জবাব, ‘দেখুন, শিল্পীদের মধ্যে একতা থাকলে এইসব ব্যান কালচার বা অন্যান্য সমস্যা সহজেই অতিক্রম করা যায়। আমি আসা রাখি সেগুলো ধীরে ধীরে হয়ে যাবে। কিন্তু আমার মনে হয়, সরকারের সিঙ্গল স্ক্রিনগুলো খোলার দিকে নজর দেওয়া উচিত। আমরা দেখেছি, সিঙ্গল স্ক্রিন আমাদের কীভাবে ব্যবসা দিয়েছে। আর সেই সিঙ্গল স্ক্রিন এখন একের পর এক বন্ধের মুখে। শুধু হল খোলা নয়, যেগুলি চলছে সেখানেও আরও সুযোগ সুবিধা দেওয়া উচিত। দর্শকদের আরামের দিকটাও দেখা উচিত। ছবির সংখ্যা কমছে তার পিছনে অন্যতম কারণ ব্যবসা কমছে। সমস্যাটার মূল থেকে সমাধান দরকার।’
(Feed Source: abplive.com)
