)
India’s concern about PoK: PoK ভারতেরই! আন্তর্জাতিক মঞ্চে এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় এই বিষয়ে ভারত বার বার স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছে যে, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত এই অংশকে কোনও বৈধ অঞ্চল হিসেবে ভারত স্বীকার করে না। PoK ফেরতের দাবি জানানো ভারতের বিদেশনীতির অন্যতম অ্যাজেন্ডা।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত অবস্থান বহু দশক ধরেই অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও অবিচল। ১৯৪৭ সালের অন্তর্ভুক্তি চুক্তির ভিত্তিতে জম্মু-কাশ্মীর সমগ্রটাই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাকিস্তানের অবৈধ প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, চরম মানবাধিকার লংঘন, সেখানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অভাব এবং ভূ-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র নিয়ে ভারত আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক মঞ্চে ধারাবাহিকভাবে কঠোর আপত্তি জানিয়ে আসছে।
ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব এবং ‘অবৈধ দখলদারিত্ব’
ভারত সর্বদা বলে এসেছে যে সমগ্র জম্মু-কাশ্মীর এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লদাখ ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক বারবার জোর দিয়ে বলেছে যে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান বলপূর্বক ও বেআইনিভাবে কাশ্মীরের একটি বড় অংশ দখল করে নেয়। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় এই বিষয়ে ভারত বার বার স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছে যে, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত এই অংশকে কোনও বৈধ অঞ্চল হিসেবে ভারত স্বীকার করে না। বরং একে স্পষ্ট ভাষায় “অবৈধ দখলদারিত্ব” হিসেবে অভিহিত করেছে। অবিলম্বে এই ভূখণ্ড খালি করার দাবিও জানিয়েছে।
প্রহসনমূলক নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ
পাকিস্তান সরকার PoK-এ ‘আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর’ প্রশাসন গঠন করলেও, ভারত এই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সাজানো বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। দিল্লি বহুবার উল্লেখ করেছে যে এই অঞ্চলে অনুষ্ঠিত পরিষদীয় নির্বাচনগুলো সম্পূর্ণটাই প্রহসনমূলক নির্বাচন। কেবল “লোকদেখানো অনুশীলন”, যা পাকিস্তানের অবৈধ শাসনকে কোনও আইনি বৈধতা দিতে পারে না। ভারতের স্পষ্ট বক্তব্য, PoK-এর মূল প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ইসলামাদের ‘কাশ্মীর কাউন্সিল’-এর হাতে ন্যস্ত, যা সেখানকার স্থানীয় জনগণকে মৌলিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। সেখানে কোনও বাস্তবভিত্তিক রাজনৈতিক স্বাধীনতা নেই।
মানবাধিকার লঙ্ঘন
PoK-এর অধিবাসীদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সামরিক ও বেসামরিক দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ভারত বারবার বিশ্বমঞ্চে সোচ্চার হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্বিচারে গ্রেফতার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ভারত বার বার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এসেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খাদ্য, বিদ্যুৎ ও মৌলিক অধিকারের দাবিতে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের আন্দোলনকে পাকিস্তানি সেনা যেভাবে বলপূর্বক দমন করেছে, তাকে ভারত মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন বলে চিহ্নিত করেছে।
সিপেক (CPEC) ও চিনার পরিকাঠামোগত অংশীদারিত্ব
পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের ওপর দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (China-Pakistan Economic Corridor) বা CPEC। ভারত CPEC-এর যে কোনও প্রকল্পের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ভারতের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ণ করে ভারতীয় ভূখণ্ডের ওপর তৃতীয় কোনও দেশের পরোক্ষ কিংবা প্রত্যক্ষ নির্মাণকাজ মেনে নেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ ও লঞ্চপ্যাড
পাক অধিকৃত কাশ্মীরেই সামরিক মদতে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে ভারতে সন্ত্রাসবাদী অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে আসছে। নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) বরাবর বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ‘লঞ্চপ্যাড’। আন্তর্জাতিক দরবারে বার বার তথ্যপ্রমাণ-সহ যা তুলে ধরেছে ভারত। কীভাবে PoK-কে ভারতে অস্থিরতা তৈরির জন্য ব্যবহার করছে ইসলামাবাদ, তার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পাকিস্তানের অবৈধ অবস্থান, দখলদারি, প্রশাসনিক অপশাসন ও ভূ-রাজনৈতিক চক্রান্তকে ভারত কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তার হুমকি হিসেবেই দেখে না, বরং দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে। অদূর ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক স্তরেও PoK ফেরতের দাবি জানানো ভারতের বিদেশনীতির অন্যতম অ্যাজেন্ডা।
(Feed Source: zeenews.com)
