)
Sanjay Dutt Mother: আমেরিকার হাসপাতালে কোমার সঙ্গে লড়ছেন মা নার্গিস। ঠিক সেই চরম মুহূর্তে সঞ্জয় দত্তের জীবনে নেমে এল বাবার এক অবিশ্বাস্য নির্দেশ! কেন চিকিৎসাধীন মা-কে ছেড়ে শ্যুটিং সেটে ফিরতে বাধ্য হয়েছিলেন তরুণ সঞ্জয়? বাবার সিদ্ধান্তের নেপথ্যে আসলে কী কারণ ছিল? প্রথম ছবি মুক্তির আগেই চিরতরে বদলে গেল সঞ্জয়ের জীবন!
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সঞ্জয় দত্ত নিজের ব্যক্তিগত জীবন এবং গভীর অনুভূতি নিয়ে প্রকাশ্যে খুব একটা মুখ খোলেন না। তবে সম্প্রতি এআইজি হাসপাতালের এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন তিনি। প্রথম ছবি ‘রকি’ মুক্তির ঠিক আগে কীভাবে মা, কিংবদন্তি অভিনেত্রী নার্গিসকে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করতে দেখেছেন এবং সেই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে বাবা সুনীল দত্তের নেওয়া এক সিদ্ধান্ত তাঁকে কতটা অবাক করেছিল—তা নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করলেন অভিনেতা।
আশির দশকের গোড়ার দিকে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হন নার্গিস। চিকিৎসার জন্য তাঁকে নিউ ইয়র্কের স্লোন কেটারিং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সঞ্জয় জানান, সেই সময়ে চিকিৎসা প্রযুক্তি আজকের মতো এত উন্নত ছিল না। সেই ট্রমাটিক সময়ের কথা মনে করে সঞ্জু বাবা বলেন, “তখন আমার বয়স মাত্র ১৯ বা ২০ বছর। বোনরা আমার থেকে ছোট। মাকে ওরকম কঠিন যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে দেখাটা আমাদের জন্য খুব মর্মান্তিক ছিল। আমরা প্লেটলেট দেওয়া থেকে শুরু করে সবরকম চেষ্টা করেছি। এর মধ্যেই আমার প্রথম ছবি ‘রকি’ মুক্তির সময় এসে গিয়েছিল।”
তিনি আরও যোগ করেন, “মা তখন কোমায়। ঠিক সেই সময় বাবা আমাকে দেশে ফিরে গিয়ে ছবির বাকি কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন। ওই বয়সে দাঁড়িয়ে বাবার সিদ্ধান্তটা আমি একেবারেই বুঝতে পারিনি—মা কোমার মধ্যে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন, আর এই অবস্থায় আমাকে ছবির কাজ শেষ করতে বলা হচ্ছে। কেন? কিন্তু বাবার কথা মেনে আমি ফিরে এসে কাজ শেষ করি।”
দেশে ফেরার পর চিরবিদায়
নার্গিসের শেষ দিনগুলোর কথা স্মরণ করে সঞ্জয় বলেন, “আমি দেখেছি মা কতটা লড়াই করছিলেন। আমার মনে হয়, মা যে কোনও উপায়ে শুধু দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন। তাই বোধহয় নিজের দেশে না ফেরা পর্যন্ত উনি লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন। বাড়ি ফেরার পরেই যেন সব লড়াই ছেড়ে দিলেন। দেশে ফেরার পরপরই আমরা মাকে হারাই।” ১৯৮১ সালে মাত্র ৫১ বছর বয়সে প্রয়াত হন নার্গিস। এর মাত্র কয়েক দিন পরেই মুক্তি পেয়েছিল সঞ্জয় দত্তের ডেবিউ ছবি ‘রকি’।
‘বাবা খুব কড়া মানুষ ছিলেন’
সাক্ষাৎকারে বাবা সুনীল দত্তের দেওয়া শিক্ষার কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন সঞ্জয়। তিনি বলেন, “বাবা অত্যন্ত কড়া মানুষ ছিলেন। আজ আমাদের মধ্যে প্রবীণদের বা ডাক্তারদের সম্মান করার যে মূল্যবোধটুকু আছে, তা বাবার কাছ থেকেই পাওয়া। আমার চেয়ে বয়সে ছোট কোনও চিকিৎসক হলেও আমি তাঁকে সমান সম্মান করি, কারণ তিনি আমার চিকিৎসক।” ২০০৫ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত হন সুনীল দত্ত। অন্যদিকে, সঞ্জয় দত্তকে সম্প্রতি আদিত্য ধরের ‘ধুরন্ধর’ ছবিতে দেখা গিয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
