‘আরও একটা পাকিস্তান হয়ে উঠছে বাংলাদেশ, এখনই থামানো না গেলে বিপদ’, সতর্কবার্তা হাসিনা-পুত্রের

‘আরও একটা পাকিস্তান হয়ে উঠছে বাংলাদেশ, এখনই থামানো না গেলে বিপদ’, সতর্কবার্তা হাসিনা-পুত্রের

নয়াদিল্লি : ২০২৪ সালের অগাস্টে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশত্যাগ। তারপর দিল্লিতে আয়োজিত প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে এখন দোষী সাব্যস্ত জঙ্গিদের খোলা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। একই সুরে অভিযোগ তুললেন তাঁর পুত্র ও উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। ‘আরও একটা পাকিস্তান হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ’, এমনই অভিযোগ তাঁর।  

তিনি বলেন, “ভারতের পক্ষে যেটা সবথেকে উদ্বেগের হতে পারে তা হল, ভারতের পূর্বদিকে বাংলাদেশ আরও একটা পাকিস্তান হয়ে উঠেছে। ইস্টার্ন ফ্রন্টে আজ আরও একটা পাকিস্তান আছে…অলকায়দা লোকেরা জনসমক্ষে বক্তব্য রাখছে। এটাই এখন বাংলাদেশে চলছে, যা ভারত বা বৃহত্তর ক্ষেত্রে বিশ্বের পক্ষে ভাল পূর্বাভাস নয়। ভবিষ্য়তে, বিশ্ব সন্ত্রাসবাদীদের পরবর্তী প্রজন্ম বাংলাদেশ থেকে আসতে চলেছে যদি না এটা থামানো যায়।”

দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাসিনাপুত্র আরও বলেন, “প্রথমত, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে চলা এই বিক্ষোভের সময় প্রাণহানির ঘটনা সম্পর্কে আপনারা বারবার শুনেছেন। এ বিষয়ে মৃতের সংখ্যার ক্ষেত্রে বিভিন্ন হিসাব বা পরিসংখ্যান রয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের দেওয়া সংখ্যাটি হল ১,৪০০, যেখানে সরকারের দেওয়া সংখ্যাটি ৮০০-এর কিছু বেশি। এই অতিরিক্ত ৬০০ জন মানুষ কারা ? রাষ্ট্রসংঘ এই নামগুলি কোথায় পেল? আমাদের দল রাষ্ট্রসংঘের কাছে চিঠি দিয়েছে, আমাদের আইনজীবীরাও বারবার তাদের কাছে চিঠি লিখেছেন। অথচ আজ পর্যন্ত রাষ্ট্রসংঘ কোনও নাম প্রকাশ করেনি। তবে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, রাষ্ট্রসংঘের তথ্যে কেবল ২০২৪ সালের ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত সময়কালকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু আমরা জানি যে মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। আর সবচেয়ে উদ্বেগজনক যে বিষয়টি—এবং আমি মনে করি সংবাদমাধ্যম, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এ বিষয়ে সত্যিই মনোযোগ দেওয়া উচিত। ইউনূস প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পরপরই যে কাজগুলির মধ্যে অন্যতম একটি ছিল একটি অর্ডিন্যান্স জারি করা—যা পরবর্তীকালে আইনে পরিণত হয়—আর তা হল ‘ইনডেমনিটি বিল’ বা দায়মুক্তি আইন। এর মাধ্যমে সকল বিক্ষোভকারীকে—অর্থাৎ প্রত্যেককে—সম্পূর্ণ দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কোনও ধরনের হত্যাকাণ্ডের জন্য তাদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না; আর এই হত্যাকাণ্ডের তালিকায় সাধারণ নাগরিক, আমাদের দলের সদস্য এবং পুলিশ কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন… এটি নজিরবিহীন। যে-কারোর দ্বারা সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের—বিশেষ করে পুলিশ কর্মকর্তাদের হত্যার ক্ষেত্রে কীভাবে এমন ঢালাও আইনি সুরক্ষা দেওয়া যেতে পারে ? এটি নজিরবিহীন। এটি মানবাধিকার এবং শালীনতার সকল রীতিনীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।”

(Feed Source: abplive.com)