)
PM Modi on Gen Z: নিট পেপার লিকের বিরুদ্ধে দিল্লিতে হওয়া বিক্ষোভের জেরে সরে যেতে হয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মন্দ্র প্রধানকে। তার পরই প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জেন জি-দের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে চলার
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জীবনে জিজ্ঞাসু মনভাবকে বাঁচিয়ে রাখুন। শেখার ইচ্ছেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। শনিবার দিল্লি আইআইটির ৫৭তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এমনটাই বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওই অনুষ্টানে উপস্থি ছিলেন ৩০০ হাজার গ্রাজুয়েট ও ৫৮৭ পিএইচডি স্কলার।
নিট পেপার লিকের বিরুদ্ধে দিল্লিতে হওয়া বিক্ষোভের জেরে সরে যেতে হয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মন্দ্র প্রধানকে। তার পরই প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জেন জি-দের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে চলার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের মনের কোণে হয়তো অন্য কিছু একটা চলছে। আমি কোনও বাবা বাগেশ্বর নই, তবে এটা নিশ্চিত যে আপনাদের প্রত্যেকের মনেই কোনও না কোনও চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে। আপনাদের সবার মনেই ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজস্ব একটা দৃষ্টিভঙ্গি বা স্বপ্ন রয়েছে। পরিচয় পর্ব থেকে সমাবর্তন পর্যন্ত—আপনার এই যাত্রার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করুন এবং একই সাথে জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরুর দিকে এগিয়ে চলুন।
পড়ুয়াদের প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ, এই দিনগুলোকে পুরোপুরি উপভোগ করার। ভবিষ্যতে যখন দায়িত্ব বাড়বে তখন এই স্মৃতিগুলোই আপনার যাত্রার এক মধুর স্মারক হয়ে থাকবে। আপনাদের পুরনো দিনে ফিরয়ে নিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পড়শোনার ক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব আরও বাড়াতে হবে। সেরা ছাত্র-ছাত্রীদের তালিকায় ভারতের আরও বেশি ছাত্রী থাকা উচিত। পাশাপাশি এমন এক পরিবেশ তৈরি করা উচিত যেখানে যেখানে তরুণীরা শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যেতে পারেন।
মোদী বলেন, বর্তমান পড়ুয়ারা যে বিশ্বে পা রাখতে যাচ্ছে সেই দুনিয়াটা প্রতি নিয়ত বদলে যাচ্ছে। প্রযুক্তি, শিল্পকারখানা, পেশা, এমনকি বিশ্বশক্তির সমীকরণগুলোও দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ফলে আগামী ২০-৩০ বছর ঠিক কেমন হবে, তা এখন নিখুঁত বলা অসম্ভব। তবে দক্ষতার গুরুত্ব সবসময়ই থেকে যাবে। এর জন্য চাই শেখা বা শেখার মানসিকতা।
আইআইটি স্নাতকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যাঁরা নিরন্তর শিখে যাবেন, তাঁরাই সফল হবেন। সেই সঙ্গে যে কৌতূহল তাঁদের আইআইটি দিল্লি পর্যন্ত নিয়ে এসেছে, তা কখনো হারিয়ে যেতে না দেওয়ার যাবে না।
তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের মতোই এই প্রজন্মের তরুণরাই ভারতের স্টার্টআপ বিপ্লবকে গড়ে তুলেছেন। দেশকে শক্তিশালী করেছেন। আইআইটি দিল্লি থেকেই বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। একটিমাত্র প্রতিষ্ঠানের এই সাফল্যই বুঝিয়ে দেয় পুরো দেশজুড়ে কতটা সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। একটিমাত্র প্রতিষ্ঠান যদি এত কিছু অর্জন করতে পারে, তবে ভেবে দেখুন পুরো দেশজুড়ে কতটা বিশাল এক শক্তি গড়ে উঠছে।
সদ্য আইআইটি স্নাতকদের গবেষণায় যাওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। নতুন চিন্তাভাবনাকে সমর্থন জানাতে এবং ভারতে গবেষণাকে আরও শক্তিশালী করতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর রিসার্চ ফেলোশিপ, রিসার্চ, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন স্কিম এবং ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশনের মতো বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। গবেষণা খাতের জন্য প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি ‘ওয়ান নেশন ওয়ান সাবস্ক্রিপশন’ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে জানান, এর মাধ্যমে ছোট শহরসহ পুরো দেশজুড়ে নামীদামী আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকীগুলো কোনো বাড়তি খরচ ছাড়াই সবার জন্য সহজলভ্য করা হচ্ছে।
কঠিন চ্যালেঞ্জকে গুরুত্ব দিলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। প্রধানমন্ত্রী তার অন্যতম উদাহরণ হিসেবে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর খাতে উন্নতির কথা তুলে ধরেন। ভারত যখন প্রথম এই খাতে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করে, তখন দেশেই সেমিকন্ডাক্টর তৈরি করা সম্ভব কি না—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু আজ প্রথম সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্টে উৎপাদন শুরু হয়ে গেছে। মোদী বলেন, “আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, চিপস থেকে শুরু করে বড় বড় জাহাজ—সবকিছুই একদিন আপনাদের হাতে এই ভারতেই তৈরি হবে।”
কোনও বড় সমস্যা দেখে ভয় না পাওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যখনই কোনো বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন, ভয় পাবেন না। সেটাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিন। শিক্ষার্থীরা যেভাবে কোনো সমাধানের আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বা দিনের পর দিন সিমুলেশন নিয়ে কাজ করে, তিনি সে কথা স্মরণ করিয়ে দেন। জীবনে নানা সমস্যা আসবেই, তবে যাঁরা সতর্ক থাকেন এবং নতুন সমাধান খুঁজে বের করতে প্রস্তুত থাকেন—এই সমস্যাগুলোই তাঁদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করে দেয়।
(Feed Source: zeenews.com)
