)
East Bengal AFC Champions League Two: এক গোলে পিছিয়ে থাকা ইস্টবেঙ্গল যে কী জিনিস তা হাড়ে হাড়ে বুঝে গেল কাতারের টিমও| অনবদ্য প্রত্যাবর্তনের ইতিহাস লিখে ইস্টবেঙ্গল ৪-১ গোলে আল আরবিকে হারিয়ে চলে গেল এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-র মূলপর্বে…
শুভপম সাহা: আইএসএল চাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল| তবে ‘ভারতসেরা’ দল এই মুহূর্তে রীতিমতো ভাঙাচোরা| একাধিক সমস্যায় জর্জরিত| সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর বিদেশির মারাত্মক আকাল| ডিফেন্ডার নাচোর লাল-হলুদ ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন জল্পনা-কল্পনা চলছেই| নাইজেরিয়ার স্ট্রাইকার এনসুংগুসি এফিয়ং এখনও দলে যোগ দেননি| ইস্টবেঙ্গলের যেখানে দুই বিদেশি (দানি রামিরেস ও মহম্মদ রশিদ) সেখানে আল আরবির পাঁচ বিদেশি| গোদের উপর বড় বিষফোঁড়ার মতো ডিফেন্সের তারকা লালচুংনুঙ্গার না থাকা! এফসি চ্যালেঞ্জ লিগে আর্কাদাগ এফসির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় পর্বে লাল কার্ড দেখায় নির্বাসিত তিনি| অগত্যা আনোয়ারের সঙ্গী সন্দীপ মান্ডি|
প্ৰথমার্ধ যেমন ছিল
এই অবস্থায় আন্তোনিয়ো লোপেস হাবাসের টিম যুবভারতীতে খেলতে নেমেছিল এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২ | ইস্টবেঙ্গলের প্রতিপক্ষ কুয়েতের কুলীন ক্লাব আল আরবি এসসি! গত মরশুমে কুয়েত প্রিমিয়র লিগের রানার্সরা পূর্ণশক্তির স্কোয়াড নিয়েই কলকাতায় পা রেখেছে! আল আরবির ঝুলিতে ৬৪টি সরকারি ট্রফি। ভূরি ভূরি ট্রফি জেতা ক্লাবের ডাকনাম ‘দ্য ক্যাসল অফ ট্রফিজ’। তবে প্রথমার্ধে তাদের খেলা দেখে একবারও মনে হল না যে, অমন বায়োডেটা! বা ইস্টবেঙ্গলের চেয়ে ধারেভারে এগিয়ে থাকা একটা বিদেশি টিম| উল্টে হাবাসের টিম অনেক ভালো খেলল| যদিও তবে তা ঢাকা পড়ে গেল! কারণ একাধিক সুযোগ নষ্ট, মিস পাস ও বোঝাবুঝির অভাবেই তাদের চরম হতশ্রী দেখাল| ২৩ মিনিটে আল আরবি একটাই সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল| ফরোয়ার্ড কেনান মালেকো অল্পের জন্য আটকে গেলেন প্রভসুখন গিলের গোললাইন সেভের জন্য| বিরতির আগে দুই দলকে আলাদা করা যায়নি|
দ্বিতীয়ার্ধ যেমন গেল
গোলের মুখ খুলতে দুই দলই মরিয়া ছিল স্বাভাবিক ভাবেই| তবে ৫০ মিনিটে গোলের সহজতম সুযোগ হেলায় হারান বিপীন সিং! মিসের খাতায় নিজের নাম লিখিয়ে নেন| ৭৪ মিনিটে বক্সের ভিতরে মালেকোর জার্সি টেনে ফেলে দেন সন্দীপ মান্ডি। পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দিতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি তাজাকস্তানের রেফারি। দারুণ শটে গোল করে আল আরবিকে এগিয়ে দেন আনায়ো ইউয়ালার| সবাই যখন ধরেই নিয়েছিল যে ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ থেকে ছিটকেই গিয়েছে, ঠিক তখনই সবাইকে চমকে দেন জয় গুপ্তা| ৯০ মিনিটে রশিদের ফ্রি-কিক থেকে হেডে অনবদ্য গোল করে লাল-হলুদ জনতাকে সেলিব্রেশনে মাতিয়ে দেন ২৭ নম্বর জার্সিধারী ডিফেন্ডার|
এক্সট্রা টাইম
দুই অর্ধ মিলিয়ে দুই দলকে আলাদা করা যায়নি| ফলে নকআউটের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ গড়ায় এক্সট্রাটাইমে| ইস্টবেঙ্গল গোল শোধ করার পরেই কিছুটা তেড়েফুঁড়ে ওঠে| একটা সময় হাবাসের শিষ্যদের দেখে মনে হচ্ছিল যে জেতার ইচ্ছাটাই নেই| তবে ইস্টবেঙ্গল জিয়ার বদলে সব হিসেব বদলে দিল| এক্সট্রা টাইমের প্রথম পনেরো মিনিট গোলশূন্য ছিল| কিন্তু ১০৮ মিনিটে সেই সুপারস্টার রশিদ| ডান প্রান্ত থেকে ধৈর্য ধরে আক্রমণ থেকে আসে চিপড পাস। বল পেয়ে হাফ-ভলিতে অনবদ্য শট নেন রশিদ। বিশ্বমানের স্ট্রাইক জাল ছিঁড়ে দেয় আল আরবির| এই ‘কাগুজে বাঘ’ কাতারি টিমকে এরপর ছিঁড়ে খেয়ে নেয় ইস্টবেঙ্গল| ডেভিড লালহানসাঙ্গা ও রোহিত দানু নয় মিনিটের মধ্যে জোড়া গোল করে ইতিহাস লিখে দেন| এক গোলে পিছিয়ে থাকা ইস্টবেঙ্গল ৪-১ জিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের পতাকা আবারও তুলে ধরল ভারতের হয়ে| ইস্টবেঙ্গল চলে গেল এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-র মূলপর্বে…
(Feed Source: zeenews.com)
