
নব্বইয়ের দশকের পরকীয়ার অভিযোগ থেকে নবাগত কোমলের সঙ্গে নাম জড়ানো— বিতর্কের তীব্র আগুনের মাঝেই ‘মিষ্টির দোকান’ তত্ত্ব টেনে নতুন ধোঁয়াশা তৈরি করলেন গোবিন্দা। সহ-অভিনেত্রীদের প্রেম, প্রয়াত মায়ের প্রশ্রয় আর স্ত্রী সুনীতার ক্ষোভের মাঝে অভিনেতার এই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি কি বহুদিনের দাম্পত্য ভাঙনের ইঙ্গিত, নাকি নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও গল্প?
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা গোবিন্দার বিবাহিত জীবন, সহ-অভিনেত্রীদের সঙ্গে নাম জড়ানো এবং স্ত্রী সুনীতা অহুজার তোলার পরকীয়ার অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় চলছে বিনোদন জগতে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের অতীত জীবন, দাম্পত্য টানাপোড়েন এবং সহ-অভিনেত্রীদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন হিরো নম্বর ১।
সাক্ষাৎকারে গোবিন্দা স্বীকার করেন যে ৩৪ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত ‘নিষ্পাপ’ ছিলেন, যা নিয়ে এখন তিনি নিজেই কিছুটা লজ্জিত বোধ করেন। নিজের জীবন ও সম্পর্কের স্বপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি এক বিতর্কিত মন্তব্য করেন, “আপনি যদি মিষ্টির দোকানে থেকে খালি পেটে বা ক্ষুধার্ত অবস্থায় বেরিয়ে আসেন, তবে তো সেটা খুবই দুঃখজনক!” তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, বিবাহিত হলেও বহু পুরুষ প্রলোভনে পড়ে বিভিন্ন ভুলের দিকে পরিচালিত হয় এবং পরে অনুশোচনা করে। তবে মহিলারা পরিবারের মঙ্গলের জন্য সময়মতো রাশ টেনে ধরেন। গোবিন্দার মতে, ২১ থেকে ৩৪ বছর বয়স পর্যন্ত তাঁর জীবনে কী ঘটছিল, তা তিনি নিজেও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেননি।
সহ-অভিনেত্রীদের সঙ্গে প্রেম ও প্রয়াত মায়ের ভূমিকা
নব্বইয়ের দশকে একের পর এক সুপারহিট গানের পেছনের রহস্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে গোবিন্দা জানান, সমস্ত মূল নায়িকাদের সঙ্গে তাঁর কাজের ভিত্তিই ছিল ভালোবাসার সম্পর্ক। এই প্রসঙ্গে তিনি তাঁর প্রয়াত মা নির্মলা দেবীর উপদেশ স্মরণ করেন। তাঁর নাম ‘গোবিন্দা’ হওয়ার কারণে তাঁর মা তাঁকে সবসময় হেসেখেলে এবং আনন্দের পরিবেশ তৈরি করে রাখতে বলতেন। সুনীতা যখনই গোবিন্দার সঙ্গে সহ-অভিনেত্রীদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতেন, তখন তাঁর মা নাকি রসিকতা করে সুনীতাকে বলতেন— “সুনীতা, তোর জন্যই তো ও শ্যুটিং শেষ করে অন্য নায়িকাদের সঙ্গে অতিরিক্ত সময় না কাটিয়ে সোজা বাড়ি চলে আসে!”
রবিনা ট্যান্ডনের প্রস্তাব ও নায়িকাদের ‘ভালোবাসার জল’
সুনীতা এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, গোবিন্দার হিট ছবি ‘দিওয়ানা মস্তানা’, ‘দুলহে রাজা’, ‘বড়ে মিঞা ছোট মিঞা’ ও ‘আন্টি নম্বর ১’-এর সহ-অভিনেত্রী রবিনা ট্যান্ডন নাকি বলেছিলেন— গোবিন্দা বিবাহিত না হলে তিনি তাঁকেই বিয়ে করতেন। সাক্ষাৎকারে গোবিন্দা স্বীকার করেন যে কথাটি শতভাগ সত্য ছিল। অন্যান্য নায়কদের সঙ্গে সম্পর্কের তুলনা টেনে গোবিন্দা দাবি করেন, অন্য কোনও অভিনেতার কথা জিজ্ঞেস করলে নায়িকারা হয়তো হেসে কথা শেষ করেন, কিন্তু তাঁর কথা উঠলে তাঁদের চোখে ভালোবাসা ফুটে ওঠে। আর কোনও নারীর চোখের এই ভালোবাসা অর্থ দিয়ে কেনা যায় না।
স্ত্রীর বকাঝকা ও সংসারের সফলতার কৃতিত্ব
স্ত্রীর তোলা অভিযোগ বা বকাঝকা নিয়ে গোবিন্দা বলেন, “সুনীতা আমাকে খুব ভালোবেসে গালিগালাজ করে, আর আমিও তা ভালোবেসে গ্রহণ করি। সে আমাকে অপমান করার আগে অন্তত চারবার আমার প্রশংসাও করে, তাই ওর শাসনের মধ্যেও আমি ভালোবাসাই খুঁজে পাই”। জীবনের সমস্ত উত্থান-পতনের দিনে পাশে থাকার জন্য সুনীতাকে ধন্যবাদ জানান গোবিন্দা। তিনি তাঁর সফল কেরিয়ার এবং দুই সন্তান— হর্ষবর্ধন ও টিনা অহুজাকে সঠিকভাবে বড় করে তোলার সমস্ত কৃতিত্ব স্ত্রীকে দেন। বর্তমানে হর্ষবর্ধন অভিনয়ে পা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং টিনা সম্প্রতি ZEE5-এর রিয়্যালিটি শো ‘মা হ্যায় না’-তে তাঁর মায়ের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন।
বিমানবন্দর কাণ্ড ও নতুন বিতর্ক
সম্প্রতি গোবিন্দাকে তাঁর প্রেমিকা কোমল রানীর সঙ্গে বিমানবন্দরে দেখা যাওয়ার পর এবং তা নিয়ে সুনীতা অহুজার তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসার পর তাঁদের এই পারিবারিক বিবাদ ও পরকীয়ার জল্পনা পুনরায় নতুন মাত্রা পেয়েছে। সুনীতাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি খুব বিরক্তির সঙ্গেই বলেন, এসব গোবিন্দার ফ্যানেদের জিজ্ঞেস করুন। আমি এ বিষয়ে কিছুই বলতে বা শুনতে চাই না। সেই সঙ্গে পরিষ্কার করে বলে দেন যে, কোমল নামের কাউকেই তিনি সহ্য করতে পারেন না। তা সে যেই হোক না কেন!
(Feed Source: zeenews.com)
