
লস্কর-ই-তইবার শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে একমঞ্চে দেখা গেল পাকিস্তানের প্রাক্তন মন্ত্রী শেখ রশিদ আহমেদকে। সেখানে উপস্থিত ছিল লস্করের শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার খালিদ মাসুদ সান্ধু। সে আবার ‘পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগ’-এর সভাপতিও।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পাকিস্তানের প্রাক্তন মন্ত্রী শেখ রশিদ আহমেদ এক নতুন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। একটি প্রকাশ্য সমাবেশে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা-র শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তাঁকে একই মঞ্চে দেখা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, সেখান থেকে মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সঈদের ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি ভারতের বিরুদ্ধে চরম উস্কানিমূলক ও হুমকি দিয়ে মন্তব্য করেছেন তিনি। বললেন, ভারতে আর কোনও পাখি ডাকবে না, কোনও মন্দিরে ঘণ্টাও বাজবে না।
প্রকাশ্যে আসা একটি ভিডিয়ো অনুযায়ী, শেখ রশিদ মঞ্চ শেয়ার করেছেন খালিদ মাসুদ সান্ধুর সঙ্গে, যিনি একজন শীর্ষ লস্কর কমান্ডার এবং পাকিস্তান মরকজি মুসলিম লিগ-এর সভাপতি এবং কারি মুহাম্মদ ইয়াকুব শেখের সঙ্গে, যিনি ওই জঙ্গি সংগঠনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য। যদিও এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি জি ২৪ ঘণ্টা।
হাফিজ সঈদকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রশিদ প্রকাশ্যেই হাফিজ সঈদের প্রতি নিজের আনুগত্য প্রকাশ করেন। ভিডিয়োতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমি হাফিজ সাহেবের গোলাম।” এছাড়া তিনি দাবি করেন, অতীতে আমেরিকায় থাকাকালীন তাঁর ফোনে হাফিজ সঈদের নম্বর ভেসে উঠেছিল, যার জেরে তাঁকে আমেরিকা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি আর কোনও বিস্তারিত তথ্য দেননি।
ভারতের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক হুমকি
ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে রশিদ বলেন, পাকিস্তান যদি ভারতের দিকে চোখ তুলে তাকায়, তবে আল্লাহ ভারতকে ধ্বংস করে দেবেন। তিনি আরও হুমকি দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গেলে ভারতে কোনও পাখি ডাকবে না এবং মন্দিরে কোনও ঘণ্টি বাজবে না। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন যে তাঁরা পাকিস্তান এবং হাফিজ সঈদের সঙ্গেই রয়েছেন।
পূর্বের বিতর্ক ও পটভূমি
শেখ রশিদ, এর আগে ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইমরান খান সরকারের আমলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি আওয়ামি মুসলিম লিগ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নেতা। অতীতেও তাঁর বিরুদ্ধে জিহাদ এবং পরমাণু যুদ্ধ নিয়ে নানা উস্কানিমূলক মন্তব্য করার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের জনসমক্ষে কট্টরপন্থী মতাদর্শের স্থান পাওয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
(Feed Source: zeenews.com)
