)
MASSIVE EARTHQUAKE VIRAL VIDEO: লহমায় সব শেষ হয়ে গেল! হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল বিরাট বিরাট বাড়ি। ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা না জানে কত? ভারতের ৮০ তম স্বাধীনতা দিবসে মাত্র ৩-৪ হাজার কিলোমিটার দূরের দেশ থেকে এল বুক কাঁপানো আপডেট…
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইন্দোনেশিয়া থেকে এল বুক কাঁপানো খবর। ১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ওশেনিয়ায় অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপরাষ্ট্রের পূর্ব প্রান্তে রয়েছে ফ্লোরেস দ্বীপ। শনিবার ভোরে সেখানেই এক ভয়াল ভূমিকম্প হয়েছে। রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৭.৭ ম্যাগনিটিউড। ঘটনা প্রাণ কেড়েছে ২০ জনের। পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। বিপর্যয়ের পর এক উদ্ধারকর্মী ফাতুর রহমান সংবাদসংস্থা এএফপি-কে জানান যে, পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় এই দ্বীপের চারটি ভিন্ন শহর থেকে অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর নিশ্চিত খবর পাওয়া গিয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা নাগেকিও রিজেন্সিতে নৌকায় করে যাওয়ার পথে টেলিফোনে ফাতুর বলেন, ‘আমরা যে তথ্য পেয়েছি তাতে দেখা যাচ্ছে, ২০ জন মারা গিয়েছেন, ছ’জন আহত এবং দুজন এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে!পার্শ্ববর্তী মাঙ্গারাই রিজেন্সিতে ধ্বংসস্তূপের নীচে দু’জন ব্যক্তি জীবিত আটকে পড়েছেন বলেও খবর। ফাতুর আরও বলেন ‘ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও জানান যে, ভূমিধসের কারণে বেশ কয়েকটি সড়ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে নিকটবর্তী এলাকা নাগেকিও-র বাসিন্দারা এদিন সমুদ্রের জল সরে যেতে দেখে দ্রুত উঁচু স্থানের দিকে ছুটে যান। সমুদ্রের জল সরে যাওয়াটা আসন্ন সুনামির একটি সম্ভাব্য লক্ষণ হতে পারে বলেই ধারণা! যা এএফপি-র সাংবাদিকরা প্রত্যক্ষ করেছেন। পরবর্তীতে সুনামির সতর্কতা তুলে নেওয়া হলেও, আফটারশক বা পরবর্তী কম্পনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলি ধসে পড়ার আশঙ্কায় লোকজনকে সেগুলিতে ফিরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার আফটারশক অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৬.১।
ইন্দোনেশিয়ায় কেন বারবার ভূমিকম্প হয়?
ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা বিএমকেজি প্রাথমিক ভাবে সম্ভাব্য সুনামির বিষয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে এবং মানুষকে উঁচু জায়গায় সরে যেতেও বলেছে। শহর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য মানুষের লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে। কেউ হেঁটে তো কেউ বাইকে বা গাড়িতে, আবার কেউ কেউ পিকআপ ট্রাকের পিছনে গাদাগাদি করেও শহর ছাড়ছেন। ভূমিকম্প ও সুনামি বিষয়ক ডিরেক্টর বিজায়ান্তো (অনেক ইন্দোনেশীয়র মতো তিনিও কেবল এই নাম ব্যবহার করেন) বলেন, ‘আমরা সুনামির সতর্কবার্তা প্রত্যাহার করে নিয়েছি, তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখব।’ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ‘রিং অফ ফায়ার’-এ অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়া ও এর প্রতিবেশী দেশগুলিতে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়। এটি এমন একট অঞ্চল যেখানে তীব্র ভূ-কম্পনমূলক কার্যকলাপ দেখা যায় এবং যা জাপান থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকা পর্যন্ত বিস্তৃত। ১৯৯২ সালে ফ্লোরেস দ্বীপে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যার ফলে সুনামির এসেছিল এবং এতে প্রায় ২৫০০ মানুষ প্রাণ হারিয়ে ছিলেন। ইন্দোনেশিয়ার ভয়াবহ ভূমিকম্পের ইতিহাসের মধ্যে অন্যতম হল ২০০৪ সালের ৯.১ মাত্রার বিধ্বংসী কম্পন। যা সুমাত্রা উপকূলের কাছে আঘাত হেনেছিল এবং সৃষ্ট সুনামিতে পুরো অঞ্চলজুড়ে ২ লাখ ২০ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিলেন। এর মধ্যে কেবল ইন্দোনেশিয়াতেই প্রাণ হারিয়েছিল প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ। ‘বক্সিং ডে’-র সেই ট্র্যাজেডি ছিল লিপিবদ্ধ ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ২০১৮ সালে লম্বক দ্বীপে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে এবং পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে আরও বেশ কয়েকটি কম্পন অনুভূত হয়। এতে পর্যটন দ্বীপ লম্বক ও পার্শ্ববর্তী সুম্বাওয়ায় ৫৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। ওই বছরের শেষের দিকে সুলাওয়েসি দ্বীপের পালু শহরে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প ও পরবর্তী সুনামিতে ৪,৩০০-এরও বেশি মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন।
(Feed Source: zeenews.com)
