
১৪ অগাস্ট দেশের স্বাধীনতা দিবসে বক্তৃতা করছিলেন জ়ারদারি। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। ওদের নিজেদের অ্যাজেন্ডা রয়েছে। ওরা অখণ্ড ভারতে বিশ্বাসী। কিন্তু তার মধ্যিখানেও অনেক কিছু আছে,যা ভুলে গিয়েছে ওরা। আমরা মুসলিম। ওরা নয়। আমরা এমন মুসলিম, যাঁরা সহ্য করার মানসিকতায় বিশ্বাসী। পাকিস্তানে ৩-৪ শতাংশ হিন্দু রয়েছেন। অন্যত্র যেমন স্বাধীন ছিলেন, সুখে ছিলেন, এখানেও তেমনই রয়েছেন। বরং ওদের চেয়ে আমাদের সঙ্গে থাকতে রাজি ওঁরা।” (Hindu Minorities in Pakistan)
ZARDARI INVOKES ‘AKHAND BHARAT’ WHILE CLAIMING PAKISTAN IS TOLERANT
Pakistan President Asif Ali Zardari says Indians believe in “Akhand Bharat” but claims Pakistan, as a Muslim-majority country, has a “mindset that tolerates.”
He further claimed Pakistan’s Hindu population is… pic.twitter.com/k7ebdydE9J
— Subodh Kumar (@kumarsubodh_) August 15, 2026
পাকিস্তানের সহিষ্ণু আচরণের কথা তুলে ধরতেই জ়ারদারি ওই মন্তব্য করেন বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। কিন্তু সহিষ্ণুতার পরিবর্তে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ‘সহ্য’ করার কথা বলতে শোনা যায় জ়ারদারিকে, যা পাকিস্তানের সংবিধানেরই পরিপন্থী। দেশের সংবিধানে যেখানে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সেখানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ‘সহ্য’ করার কথা বলে জ়ারদারি আসলে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিয়ে পাক সরকারের মনোভাব তুলে ধরেছেন বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।“
পেশায় আইনজীবী, লেখক তথা ‘অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনে’র গবেষক অমিত কৃষ্ণকান্ত পাল বলেন, “দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, ৮০ বছরও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট দেশের স্বাধীনতা দিবসে বিভেদ উস্কে দিচ্ছেন, তাও আবার ভুল তথ্য়ের ভিত্তিতে।” যে সময় জ়ারদারি এই মন্তব্য করেছেন, তাও তাৎপর্যপূর্ণ। পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে তাঁর সংঘাতের খবর সামনে আসছে। জ়ারদারিকে সরিয়ে, তাঁর জায়গায় আসিম অধিষ্ঠিত হতে চান বলে জোর গুঞ্জন।
পাশাপাশি, দেশে সংখ্যালঘু নাগরিকদের যে সংখ্যা পেশ করেছেন, তাও ভুল। কারণ ২০২১ সালে দেশে যে জনগণনা হয়, সেই অনুযায়ী, পাকিস্তানে হিন্দুদের সংখ্যা ৫২ লক্ষ, যা দেশের মোট জনসংখ্যার ২.১৭ শতাংশ। পাকিস্তান ব্যুরো অফ স্ট্যাটিস্টিক্সের রেকর্ড বলছে দেশে ৫২ লক্ষ ১০ হাজার হিন্দু রয়েছেন, যার মধ্যে ৩৮.৬৮ লক্ষ ‘হিন্দু জাতি’ এবং ১২.৪৯ লক্ষ তফসিলি জাতি। যত সময় যাচ্ছে পাকিস্তানে সংখ্যালঘু হিন্দুদের সংখ্যা কমছে।
আমেরিকার আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশন USCIRF জানিয়েছে, পাকিস্তানে খ্রিস্টান এবং আহমেদিয়া মুসলিমদের উপর হিংসা, আক্রমণ চলছেই। হিন্দু এবং খ্রিস্টানদের ধর্মান্তরণও অব্যাহত। তাই জ়ারদারির মন্তব্য বিভেদমূলক এবং উস্কানিপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ‘সহ্যে’র কথা বলে তিনি জোর করে চাপিয়ে দেওয়া বলতে চেয়েছেন কি না, তা নিয়েও কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। নিজের চেয়ার বাঁচাকেই জ়ারদারি বিভেদ উস্কে দিয়েছেন বলেও উঠছে দাবি। পাকিস্তানি হিন্দুরা সেখানে থাকাই শ্রেয় মনে করেন বলে যে মন্তব্য করেছেন জ়ারদারি, তার সঙ্গে কোনও ভাবেই মিলছে না পরিসংখ্যান।
(Feed Source: abplive.com)
