
East Bengal: পিভি বিষ্ণুর একমাত্র গোলে ইস্টবেঙ্গল সেনাকে হারিয়ে উঠল ডুরান্ডের সেমিফাইনালে
শুভপম সাহা: ঠিক চার দিন আগে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু’র ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল ৪-১ গোলে কাতারের দল আল আরবিকে হারিয়ে লিগের মূলপর্বে উঠেছে| আন্তর্জাতিক ম্যাচে ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই ইস্টবেঙ্গল সেই যুবভারতীতেই খেলতে নামল ডুরান্ড কাপের দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে| প্রতিপক্ষ ইন্ডিয়ান আর্মি ফুটবল টিম| এককথায় সেনার দল|
রবি সন্ধ্যায় জিতলে শেষ চার, হারলে এবারের মতো ডুরান্ড শেষ| এই সহজ সমীকরণেই আন্তোনিয়ো লোপেজ হাবাস মাঠে নেমেছিলেন| এএফসি ম্যাচের দল তিনি প্রায় পুরোই বদলে ফেলেছিলেন| প্রথম একাদশে গোলকিপার-সহ ৮ পরিবর্তন আনেন| যা দেখে অনেকেই চমকে ছিলেন| এতদিন পরিবর্ত হিসেবে খেলা অজি ফরোয়ার্ড ইকোনোমিডিসকে তিনি রেখেছিলেন শুরু থেকেই| বাকি দুই বিদেশি ডানি রামিরেজ ও মহম্মদ রশিদ| মাঝমাঠে তাঁদের সঙ্গে রোহিত কুমার ও পিভি বিষ্ণু| দুই ফরোয়ার্ড ডেভিড লালহানসাঙ্গা ও ইকোনোমিডিস| রক্ষণে জয় গুপ্তার সঙ্গে নরেন্দর গাহলোট, বরিস সিং ও লালচুংনুঙ্গা|
শুরু থেকেই দুই দল গোলের জন্য ঝাঁপিয়েছিল| শুরুর ১০ মিনিটেই জোড়া গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল| ৬ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত ইস্টবেঙ্গল| বক্সের মধ্যে ডেভিডের দারুণ কাট-ব্যাক ছিল ডানি রামিরেজকে লক্ষ্য করে| তবে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার গোলকিপারকে একা পেয়েও গোল করতে পারেননি| ঠিক দু’মিনিট পর আর্মিও পেয়েছিল দারুণ সুযোগ| দূরপাল্লার শটে ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক পূর্বা লাচেনপাকে লাইনের বাইরে পেয়ে চমকে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন অভিষেক। তবে লাচেনপা দ্রুত পিছিয়ে এসে দুর্দান্ত ভাবে বলটি বারের উপর দিয়ে ঠেলে দেন। গোলের জন্য ইস্টবেঙ্গলকে ৩৯ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হল| প্রতিপক্ষকে লাগাতার চাপে রাখারই ফল মিলল। বক্সের বাঁ দিকে বল পেয়ে যান ইকোনোমিডিস। কিছুটা সময় নিয়ে তিনি নিখুঁত ক্রস বাড়ান বক্সের মাঝখানে। সেখান থেকে সবার আগে উঠে হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন বিষ্ণু। বিরতিতে ১-০ এগিয়েই মাঠ ছাড়ে ইস্টবেঙ্গল|
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই হাবাস বিষ্ণুকে তুলে বিপিন সিংকে নামান| ডেভিড ও ইকোনোমিডিসকেও তুলে নেন তিনি| জেসিন ও এডমুন্ডকে আনেন তাঁদের বদলে| ৬৬ মিনিটে বাঁ-দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে জেসিন বক্সের মধ্যে ক্রস বাড়ান। সেখানে বলের জন্য তৈরি ছিলেন রামিরেজ। কিন্তু হেডে নাকি পা দিয়ে শট নেবেন, সেই দ্বিধায় সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। ফলে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সহজ সুযোগ নষ্ট হয় ইস্টবেঙ্গলের। ৭৯ মিনিটে আবার জেসিন গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হন| বিপিনের মাপা ক্রসে পা ছুঁইয়ে দিলেই চলত| ৮২ মিনিটে রোহিতকে তুলে জিকসনকে নামিয়ে গতি বাড়াতে চেয়েছিলেন হাবাস| ৮৩ মিনিটে আবার জেসিনের কাট ব্যাক থেকে এবার বিপিন সুবর্ণ সুযোগ হারান| খেলা যত শেষের দিকে আসতে থাকে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের হৃদস্পন্দন বাড়তে থাকে| সেনার আচমকা আক্রমণই বুক কাঁপিয়ে দিয়েছিল যোগ করা সময়ে| সেই আর্মির অভিষেকের শটই দারুণ ভাবে রুখে দেন লাচেনপা| কোথাও সেনাকে হাল্কা ভাবে যেন নিয়ে ফেলেছিল ইস্টবেঙ্গল| সেই সময়ে আবার আর্মি একটি নিশ্চিত পেনাল্টি পেতে পারত বলেই মনে করা হচ্ছে| যদিও সেনা জোরাল আবেদনও করেনি| রেফারি জেহরুল ইসলামকে নিয়েও প্রশ্ন থাকবে| শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইন একই থাকে| তবে এদিন মাঠে মাত্র ৩৬৬১ জন এসেছিলেন! যা ভাবায় অনেক কিছুই|
শেষ চারে ইস্টবেঙ্গলের প্রতিপক্ষ এসসি দিল্লি| যারা দিনের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করে রায়েংদাইকে ৫-১ গোলে হারিয়ে শেষ চারের টিকিট কেটেছে। প্রথমার্ধে ০-১ গোলে পিছিয়ে থেকেও দ্বিতীয়ার্ধে পাঁচ গোল করে সেমিতে উঠেছে দিল্লির আইএসএল টিম| ১৯ অগাস্ট এই সল্টলেক স্টেডিয়ামেই মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল-দিল্লি|
(Feed Source: zeenews.com)
