জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আবু দুহুর (Abu Duhur) সামরিক বিমানঘাঁটিতে তীব্র বিমানহানা ইজরায়েলের। সিরিয়া ভূখণ্ডে বিদেশি মদতপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সামরিক বিল্ডিং লক্ষ্য করে চালানো এই হানায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা বাড়তে থাকায় এই নতুন আক্রমণকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে বিরাট প্রতিক্রিয়া। বিশেষ করে এই হামলার প্রেক্ষিতে পরিস্থিতির সার্বিক অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
সামরিক ও কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সিরিয়ার ইদলিব ও আলেপ্পোর সংযোগস্থলে আবু দুহুর বিমানঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান থেকে পরপর ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে ইজরায়েলি সেনা (IDF)।
কৌশলগত লক্ষ্য: ইজরায়েলের দীর্ঘদিনের দাবি, সিরিয়ার এই সমস্ত সামরিক ঘাঁটি ও বিমানবন্দরগুলিকে অস্ত্র পরিবহন, ড্রোন মোতায়েন এবং ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র মিলিশিয়াদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
হামলার প্রভাব: বিমানহানায় ওই সামরিক ঘাঁটির রানওয়ে, অস্ত্রাগার এবং রাডার ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা সূত্রে খবর মিলেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও মার্কিন উদ্বেগ
সিরিয়া ভূখণ্ডে ইজরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক তৎপরতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ধরনের লাগাতার সামরিক অভিযান সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর স্থিতাবস্থাকে আরও বিপন্ন করে তুলতে পারে।
সংঘাতের বিস্তার রোধ: মার্কিন প্রতিরক্ষা ও বিদেশ মন্ত্রকের পর্যবেক্ষকদের মতে, একযোগে একাধিক রণাঙ্গনে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে সিরিয়া, লেবানন ও সমগ্র অঞ্চলে সরাসরি আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।
কূটনৈতিক সতর্কবার্তা: সংঘাত যাতে অনিয়ন্ত্রিত রূপ না নেয় এবং নিরীহ সাধারণ নাগরিক ও অসামরিক পরিকাঠামো যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সংযম বজায় রাখার কূটনৈতিক বার্তা দেওয়া হয়েছে।
সিরিয়ার পরিস্থিতি ও ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য
দীর্ঘদিন ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের পর দেশটির ভৌগোলিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত স্পর্শকাতর পর্যায়ে রয়েছে। অতীতেও দামাস্কাস ও আলেপ্পোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সহ একাধিক সামরিক পরিকাঠামোয় ইজরায়েলি হানা হয়েছে। ইজরায়েলের বক্তব্য, সীমান্ত পেরিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি কোনো হুমকি যাতে তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই ‘প্রি-এমপ্টিভ’ বা প্রতিরোধমূলক আক্রমণ চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে সিরীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এই আক্রমণ অন্য দেশের সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
আবু দুহুর বিমানঘাঁটিতে এই বড় বিমানহানা এবং ওয়াশিংটনের উদ্বেগ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সামরিক শক্তি প্রদর্শনের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের কালো মেঘ ঘনিয়ে উঠছে।
(Feed Source: zeenews.com)