এবার RSS-কে নিষিদ্ধ করার দাবি আমেরিকায়, মোহন ভাগবতের সফরের ঠিক আগে

এবার RSS-কে নিষিদ্ধ করার দাবি আমেরিকায়, মোহন ভাগবতের সফরের ঠিক আগে

 

নয়াদিল্লি: কানাডার পর এবার আমেরিকায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ম সেবক সঙ্ঘ (RSS)-কে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠল। বিজেপি-র অভিভাবক সংস্থা RSS-কে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি, সংগঠনের নেতাদের কোনও রকম সম্মান জানানো, তাঁদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করা যাবে না বলেও দাবি উঠল সেখানে। সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবত আমেরিকা সফরে যাচ্ছেন। তার ঠিক আগে RSS-কে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলল আমেরিকার ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটি US Commission on International Religious Freedom (UCIRF). (RSS Band Demands in US)

বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে সরকারকে রিপোর্ট এবং পরামর্শ দেয় USCIRF. তাদের তরফেই RSS-কে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবি তোলা হয়েছে। USCIRF-এর চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ, ভারতে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের তত্ত্ব তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও RSS-এর সদস্য। RSS-কে তিনি ‘অভিভাবক সংস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, RSS-এর শাধা সংগঠনগুলি ভারতে সংখ্যালঘুদের উপর অত্য়াচার চালায়। (Mohan Bhagwat US Visit)

USCIRF-এর X হ্যান্ডলে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে মাহমুদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাতে লেখা রয়েছে, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাষ্ট্রীয় স্বয়ম সেবক সঙ্ঘের সদস্য, যা একটি অভিভাবক সংস্থা, যার শাখা সংগঠনগুলি খ্রিস্টান এবং মুসলিম-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার চালায়। RSS নেতা মোহন ভাগবত এখন আমেরিকা সফরে আসার পরিকল্পনা করছেন’। USCIRF-এর কমিশনার জিন মিলসেরও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে, যাতে তাঁর বক্তব্য, ‘RSS নেতৃত্ব, তাঁরা যদি ভারত সরকারের সঙ্গে যুক্তও হন, উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক বা কূটনৈতিক সৌজন্যের খাতিরে তাঁদের সম্মান জানানো উচিত নয়। বরং আমেরিকার সরকারের উচিত, ধর্মাচারণের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের জন্য দায়ী RSS সদস্যদের নিষিদ্ধ করা’।

যে সময় আমেরিকায় RSS-কে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে USCIRF, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ একদিন আগেই ভারতে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সেরগিও গোর জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে উল্লেখ করেন। উপত্যকায় পা রাখা নিয়ে এতদিন যে সতর্কবার্তা ছিল তাঁদের, তা প্রত্যাহার করা হবে বলেও জানান তিনি। আর তার ঠিক পর পরই RSS-কে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলল UCIRF. আগামী ২৯ অগাস্ট নিউ ইয়র্কে American Hindus for Engagement and Dialogue অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ভাগবতের।

তবে শুধু USCIRF-ই নয়, Hindus for Human Rights-ও ভাগবতের সফর নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তরা জানিয়েছে, খ্রিস্টান এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে RSS-এর যে হিংসার নেটওয়র্ক, তার থেকে ভাগবতের সফরকে আলাদা করা যায় না। সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা লেখে, ‘একাত্মতার উদযাপন ধর্মীয় শ্রেষ্ঠত্ববাদের রাজনীতিকে আড়াল করতে পারে না’।

এর আগে, চলতি বছরের মার্চ মাসে বার্ষিক রিপোর্টে ভারতে সংখ্যালঘুদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে USCIRF. ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের কথা বলতে গিয়ে RSS, R&AW-র কথা উল্লেখ করে তারা। ভারত যদিও সেই রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে। তথ্য় বিকৃত করে পেশ করা হয়েছে বলে জানায় দিল্লি। পাশাপাশি, USCIRF-এর চেয়ারম্যান মাহমুদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বেশ কিছু দিন ধরেই। পাকিস্তানে জন্ম মাহমুদের। দেশের রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথা উঠে এসেছে আগেও। ঘটনাচক্রে, সম্প্রতি ভাগবতের কানাডা সফর নিয়েও বিতর্ক বাধে। সেখানেও RSS-কে নিষিদ্ধ করার দাবি ওঠে।