যতই ডায়েটিং করুন, কর্টিসল না কমলে পেটের মেদও গলবে না! ওষুধ নয়, এই সাধারণ খাবারেই কমবে ‘মন খারাপ করা’র হরমোন

যতই ডায়েটিং করুন, কর্টিসল না কমলে পেটের মেদও গলবে না! ওষুধ নয়, এই সাধারণ খাবারেই কমবে ‘মন খারাপ করা’র হরমোন

Cortisol & Weight Gain: সূর্যের আলো কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাই দিনের মধ্যে মাত্র আধ ঘণ্টা গায়ে রোদ লাগাতেই হবে। মানসিক চাপ বা উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ‘ডিপ ব্রিদিং’ অভ্যাসও ভাল। কোন কোন খাবার কর্টিসল কমায়?

সারাদিন হাজারটা বিষয়ে মানসিক চাপ! সংসারের চাপ, অফিসে কাজের চাপ, সন্তানকে বড় করার চাপ…এহেন নানা চাপে চিরেচ্যাপ্টা এই প্রজন্মর মাথায় যেন প্রেশার কুকারের সিটি বাজছে। সারা দিন উদ্বেগ, তাড়া, উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা। এর ফলে শরীরে কর্টিসল অর্থাৎ স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা চরচরিয়ে বাড়তে থাকে।

রক্তে কর্টিসল হরমোনের পরিমাণ বেড়ে গেলে কী হয়– কর্টিসল বেড়ে গেলে মানসিক চাপ বেড়ে যায়। উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ-২ ডায়াবিটিস, অস্টিয়োপোরোসিসের মতো সমস্যাও বেড়ে যেতে পারে।

কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে গেলে মেটাবলিজম কমে যায় ফলে ওজন বাড়তে থাকে। পাশাপাশি, এই হরমোনের প্রভাবে ঘন ঘন খিদে পায়। তাই কর্টিসল বাড়লে ওজন বাড়তে থাকে, বিশেষ করে মুখ ও পেটে জমে যায় জেদি মেদ। কর্টিসল বাড়লে ঘুমও উড়ে যায়। অনেকেই কর্টিসল কমাতে ওষুধ খান। কিন্তু সব ওষুধেরই কিছু সাইড এফেক্ট রয়েছে। ফলে প্রাকৃতিক উপায়ে ভরসা রাখুন! কোন কোন খাবার কমায় কর্টিসলের মাত্রা? জানালেন পুষ্টিবিদ সোমোশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়–

ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড–ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড প্রদাহ ও স্ট্রেস কমায়। স্যামন, ম্যাকারেল, সার্ডিনের মতো মাছ, চিয়া বীজ, ফ্ল্যাক্স বীজ আর আখরোটে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড আছে।

ম্যাগনেশিয়াম–২৮ গ্রাম কাজুবাদামে ৮৩ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম থাকে। পাশাপাশি, বাদাম ব্লাড সুগার ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে, হার্ট ভাল রাখে। পালং শাক, রাজমা, ঢ্যাঁড়শ, মটরশুঁটিতেও রয়েছে প্রচুর ম্যাগনেশিয়াম। ফ্ল্যাক্স, কুমড়োর বীজ, চিয়া বীজ-এ প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেশিয়াম থাকে। ২৮ গ্রাম কুমড়োর বীজে ১৬৮ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম থাকে। ফ্ল্যাক্সসিড কোলেস্টেরল কমায়, ব্রেস্ট ক্যানসার রোধে উপকারী। তৈলাক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেশিয়াম থাকে। ১০০ গ্রাম স্যামনে ৩০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম থাকে। পাশাপাশি তৈলাক্ত মাছ পটাশিয়াম, সেলেনিয়াম ও ভিটামিন বি-র খুব ভাল উৎস।

প্রোবায়োটিক– দুধ,গ্রিক ইয়োগার্ট, কিমচির মতো খাবারে প্রচুর প্রোবায়োটিক থাকে। প্রোবায়োটিক পেটের ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখে, হজমশক্তি বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য বা গ্যাসের সমস্যা কমায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও প্রোবায়োটিক কার্যকরী।

ডার্ক চকোলেট–ডার্ক চকলেটে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড এবং ম্যাগনেসিয়াম মানসিক চাপ ও অবসাদ কমায়। ডার্ক চকোলেট খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মস্তিষ্কে এনডোরফিন এবং ডোপামিন নিঃসৃত হয়, যা নিমেষে ডিপ্রেশন দূর করে, মন ভাল করে দেয়।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনল: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনল অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
ডার্ক চকোলেট, বেরি জাতীয় ফল (ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি),
গ্রিন টি-তে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনল আছে।

(Feed Source: news18.com)