
Indian Cricketer Acquitted Of Criminal Case: গুজরাতের ভাদোদরায় জন্মানো জ্যাকব মার্টিন ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন। ১৯৯৮-৯৯ রনজি ট্রফি মরশুমে তিনি ১,০০০-এরও বেশি রান সংগ্রহ করেথিলেন, তারপর রূপকথার শুরুটা গড়িয়ে গেল চরম কালো অধ্যায়ে৷
নয়াদিল্লি: সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীনে তাঁর ভারতীয় ক্রিকেটের আঙিনায় অভিষেক হয়েছিল৷ তারপর জীবনে লেগেছিল মারাত্মক কলঙ্ক দাগ৷ দায়ের হয়েছিল ক্রিমিনাল কেস -অবশেষে বদল হল সেই পরিস্থিতিতে৷ ২২ বছরের পুরনো একটি ফৌজদারি মামলায় পাতিয়ালা হাউস কোর্ট ভারতের এক প্রাক্তন ক্রিকেটারকে বেকসুর খালাস দিয়েছে। ১৯৯৯ সালে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই ক্রিকেটার ভারতের হয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক করেছিলেন। তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার মাত্র দুই বছরের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। ভারতের হয়ে তিনি তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলেছিলেন প্রায় ২৭ বছর আগে। ভারতের এই লেগ-স্পিনার মাত্র ১০টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে মোট ১৫৮ রান করেছিলেন।
২০০৪ সালে দায়ের করা একটি ফৌজদারি মামলায় পাতিয়ালা হাউস কোর্ট জ্যাকব মার্টিনকে খালাস দিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইপিসি (IPC)-র ৪২০, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১২০বি ধারা এবং পাসপোর্ট আইনের ১২ নম্বর ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ—যার মধ্যে ছিল যুক্তরাজ্যের জাল অভিবাসন সিল (স্ট্যাম্প), ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়—প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। আর্থিক লেনদেন কিংবা ‘আজওয়া স্পোর্টস ক্লাব’-এর মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে জ্যাকব মার্টিনের বিরুদ্ধে পাতিয়ালা হাউস কোর্ট কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পায়নি। বেশ কয়েকজন সাক্ষীও অভিযোগগুলির সপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
বেকসুর খালাস জ্যাকব মার্টিন
২২ বছরের পুরনো মামলায় আদালত গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে
এর ফলে পাতিয়ালা হাউস কোর্ট জ্যাকব মার্টিনকে বেকসুর খালাস দেয়। পরবর্তীতে জ্যাকব মার্টিন গণমাধ্যমের সামনে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০০৪ সালের দলের এক সদস্যের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাজ্যে থেকে যাওয়া এবং পরে ভুয়া ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্প নিয়ে ভারতে ফিরে আসার ঘটনা থেকেই এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রাথমিক এফআইআর-এ তাঁর নাম না থাকলেও তদন্ত চলাকালীন তা যুক্ত করা হয়েছিল।
প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার খালাস
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হওয়ার কারণেই জ্যাকব মার্টিনকে এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। তিনি জানান যে, ২২ বছরের পুরনো এই মামলার কারণে তাঁকে প্রচণ্ড মানসিক চাপের সম্মুখীন হতে হয়েছিল এবং এর ফলে এমনকি রেলওয়েতে তাঁর চাকরিটিও চলে গিয়েছিল। মামলা থেকে খালাস পেয়ে তিনি গভীর স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং বিষয়টিকে তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে অভিহিত করেন। মার্টিন বললেন, “২০০৪ সালে আমার একটি দল খেলতে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিল। দলের সবাই ফিরে এলেও একজন ছেলে সেখানে থেকে গিয়েছিল। তার ভিসার মেয়াদ ছিল ছয় মাস, তাই সে চাইলে সেই সময়টুকু সেখানে থাকতে পারত; কিন্তু সে অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় সেখানে থেকে যায়। সে কারও মাধ্যমে একটি ভুয়া সিল বা স্ট্যাম্পের ব্যবস্থা করে ফেলেছিল।”
একটি নকল সিল সংগ্রহের পর ভারতে ফিরে আসার সময় তাঁকে যুক্তরাজ্য থেকে ফেরত পাঠানো হয়। আইজিআই (IGI) বিমানবন্দরে তাঁকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মার্টিন আরও বলেন, “এফআইআর-এ (FIR) আমার নাম ছিল না, কিন্তু তদন্ত চলাকালীন আমাকে এই মামলায় জড়িয়ে ফেলা হয় কারণ আমি একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলাম। এই ২২ বছরে বিসিসিআই-এর কাছ থেকেও আমি কোনো সাড়া পাইনি। রেলওয়েতে আমার চাকরিটাও চলে গিয়েছিল। এসব কারণে আমি প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে ছিলাম, তবে এখন রায় বেরিয়ে এসেছে—আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি।”
(Feed Source: news18.com)
