
সারা জীবন তিনি ছিলেন খ্যাতির শিখরে, এমন সব গান তৈরি করে সকলকে চমকে দিয়েছিলেন৷ কিন্তু শেষ জীবনে তিনি হয়ে গিয়েছিলেন একঘরে৷ সেই সময় কী ঘটেছিল তাঁর সঙ্গে?
মুম্বই: সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র আর ডি বর্মন৷ তাঁর কেরিয়ারে অজস্র হিট গান উপহার দিয়েছেন তিনি৷ পঞ্চম নামে তিনি পরিচিত৷ তাঁর পরিচালনায় তৈরি হয়েছিল ১৯৪২ আ লাভ স্টোরির সব গান, যা কালজয়ী৷ আর এটাই ছিল আরডি-র শেষ কাজ৷ সেই সময়টা কোনও কাজ পেতেন না সঙ্গীত পরিচালক৷ যিনি একসময় বলিউড কাঁপিয়েছেন, তিনিই ছিলেন ব্রাত্য৷ নিজের ছবির গানের জন্য বিধু বিনোদ চোপড়া যোগাযোগ করেন আরডি বর্মনের সঙ্গে৷ ছবির জন্য তিনি চেয়েছিলেন শান্ত মিউজিক৷
এক সাক্ষাৎকারে বিধু জানান যে, আর ডি বর্মন শুরুতে ‘কুছ না কহো’ গানটি একটি দ্রুত লয়ের গান হিসেবে গেয়েছিলেন। যা বিধুর একেবারে পছন্দ হয়নি৷ পঞ্চমের মুখের উপর সে কথা জানিয়ে দেন তিনি৷ পরিন্দা ছবিতে আরডি-র গান তাঁর ভাল লেগেছিল এবং তাই তিনি পঞ্চমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন৷ যদিও সেই সময় কোনও মিউজিক কোম্পানি একেবারেই আরডি-র গান পছন্দ করত ন৷ প্রথমে আরডি তৈরি গান বিধুর ভাল লাগেনি এবং আরডির যুক্তি ছিল, ‘আজকাল তো এটাই বিক্রি হয়, তুমি দেখ অনু মালিক এমন গান বানাচ্ছে’। এই শুনে তিনি রেগে গিয়েছিলেন।
এরপর যা ঘটল, তা সবকিছু বদলে দিল। চলচ্চিত্র নির্মাতা বলতে থাকলেন, “আমি এসডি বর্মনের (আরডি বর্মনের বাবা এবং কিংবদন্তী সঙ্গীত পরিচালক) ছবির দিকে ইশারা করে বললাম, ‘আমি ওনাকে খুঁজছি। উনি মারা গেছেন, আমার বিশ্বাস আপনি এই দেশের সেরা সঙ্গীত পরিচালক। আর আপনি আমাকে এটা দিচ্ছেন?’ তিনি বললেন, ‘এক কথায় কী গণ্ডগোল!’ আমি বললাম, ‘এটা ফালতু। আসলে, এটা বাজে কথা।’
এরপর তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমি সঙ্গীত করছি কি না?’ আমি বললাম, ‘দাদা, এটা আপনি নন। সঙ্গীতই কথা বলে। এটা ঠিক না।’” সে এক সপ্তাহ সময় চাইল, আমি বললাম আমি যে গানটা চাই তা দেওয়ার জন্য আমি তাকে এক বছর সময় দেব। তাঁর চোখে জল এসে গিয়েছিল, আমিও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লাম। পরের শুক্রবার, সে আমাকে ফোন করল। আমি ভেবেছিলাম সে বলবে যে সে এটা করতে পারবে না। সে আমাকে তার বাবার একটা ক্যাসেট শুনতে বলল। পরের সপ্তাহেই সে তার হারমোনিয়াম নিয়ে হাজির। তিনি ‘কুছ না কহো’-র শুরুর সুরটা দিয়ে শুরু করলেন, আর আমি চোখ বন্ধ করে ‘অসাধারণ’-এর সঙ্কেত দিলাম। তিনি বললেন, ‘এখনও গান শুরু হয়নি!’ আমি বললাম, ‘দাদা, এই প্রথম নোটটাই এমন।’ এটা ছিল এস ডি বর্মনের একটা নোট। আর ডি এটাকে বলতেন ‘বাপ কা মাল’। আর তারপর যা ঘটে, তা বলিউডের সঙ্গীত জগতে এক ইতিহাস হয়ে থেকে যাবে৷
(Feed Source: news18.com)
