Maharashtra iPhone Tragedy Update: ‘আমার পরিবারকে শেষ করে দিয়েছো, সাত প্রজন্ম ভুগবে…’, কাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন মৃত কিশোরের মা? আইফোন কাণ্ডে নয়া মোড়

Maharashtra iPhone Tragedy Update: ‘আমার পরিবারকে শেষ করে দিয়েছো, সাত প্রজন্ম ভুগবে…’, কাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন মৃত কিশোরের মা? আইফোন কাণ্ডে নয়া মোড়

শুধুমাত্র আইফোনের ইএমআই দেওয়া নিয়ে বচসার জেরেই কুণাল আত্মহত্যা করতে পাহাড় চূড়ায় পৌঁছেছিল, এই যুক্তিও মানতে নারাজ পুলিশ

শুধুমাত্র আইফোনের ইএমআই দেওয়া নিয়ে বচসাই যে মহারাষ্ট্রে গোটা পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার একমাত্র কারণ নয়, সে বিষয়ে ক্রমেই নিশ্চিত হচ্ছে৷ পুলিশ৷ বরং এই ঘটনার মূলে যে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা সাংসারিক অশান্তি রয়েছে, তা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে তদন্তকারীদের কাছে৷ এবার মৃত কিশোর কিরণ ছান্দগুড়ের মা সঙ্গীতার একটি পুরোনো ভিডিও সামনে আসার পর সাংসারিক অশান্তির বিষয়টি নিয়ে আরও নিশ্চিত হওয়া গেল৷
পুরোনো ওই ভিডিওতে নাম না করে কোনও একজনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে শোনা গিয়েছে সঙ্গীতাকে৷ এমন কী, ওই ব্যক্তিকে অভিশাপও দেন তিনি৷ সঙ্গীতা বলেন, ‘তুমি আমার সন্তানদের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছো, সব সম্পত্তি দখল করেছো৷ দুই ভাইয়ের সঙ্গে কোনওদিন তাঁদের বাবা-মাকে এক হতে দেওনি৷ আমার হাসিখুশি পরিবারকে শেষ করে দিয়েছো৷ আমার পরিবারে বিষ ছড়িয়ে দিয়েছো৷ বাবা মায়ের থেকে আমার সন্তানদের আলাদা করেছো তুমি৷ তোমার সাত প্রজন্ম এর ফল ভোগ করবে৷ আমি এই অভিশাপ দিলাম৷’ যদিও কাকে তিনি এই অভিশাপ দিলেন, তা বলেননি সঙ্গীতা৷
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার সকালে মহারাষ্ট্রের সম্ভাজিনগরের পাহাড় চূড়োর উপর থেকে নীচে পড়ে মৃত্যু হয় ১৮ বছরের কিরণ ছান্দগুড়ে এবং তাঁর বাবা মুরলিধর ও মা সঙ্গীতার৷ পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি একটি আইফোন ফোন কেনে কিরণ৷ কিন্তু সেটির ইএমআই দিতে পারছিল না সে৷ এই নিয়ে বাবা মায়ের সঙ্গে অশান্তি শুরু হয় কিরণের৷
শুক্রবার সকালে মহারাষ্ট্রের কোহদ্যা ডোঙ্গারে মর্মান্তিক এই ঘটনাক্রমের সূত্রপাত হয়৷ সঙ্গীতা এবং তাঁর স্বামী মুরলিধর ছাংগুড়ের ১৮ বছর বয়সি ছেলে কুণাল হেঁটে ওই পাহাড়চূড়ায় পৌঁছয়৷ ছেলে পাহাড় চূড়োয় গিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বলে খবর পেয়েই বিপদের আভাস পান মুরলিধর৷ দ্রুত স্ত্রীকে নিয়ে সেখানে পৌঁছন তিনি৷ মুরলিধর এবং তাঁর স্ত্রী মিলে ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টা করেন৷ স্থানীয় বাসিন্দারাও কুণালকে বোঝাতে শুরু করেন৷
কুণাল যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সেখানে পৌঁছন মুরলিধর৷ এর পর ছেলেকে টেনে সরিয়ে আনতে যান তিনি৷ ধস্তাধস্তিতে ভারসাম্য হারিয়ে দু জনেই তখন ২৫০ ফুট নীচে খাদে পড়ে যান৷ স্বামী এবং ছেলে পড়ে যেতে দেখে সঙ্গীতাও মরণঝাঁপ দেন৷ ঘটনাস্থলেই তিন জনের মৃত্যু হয়৷
তবে এই প্রথম নয়৷ গত বছরও মহারাষ্ট্রের সম্ভাজিনগরের ওই একই পাহাড়ের চূড়া থেকে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেছিল কুণাল ছান্দগুড়ে৷ গত শুক্রবার পাহাড় চূড়ো থেকে পড়ে কুণাল এবং তার বাবা- মায়ের মৃত্যুর ঘটনার পর এমনই দাবি করেছে পুলিশ৷
এনডিটিভি-তে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরও এই একই পাহাড়ের মাথায় উঠে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিল কুণাল৷ পুলিশ তখন তাকে বুঝিয়ে চরম পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত করে৷ বাড়িতে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যায় কুণাল৷
তদন্তকারীদের দাবি, কুণাল মারাত্মক মানসিক চাপের মধ্যে ছিল৷ বাবা মায়ের সঙ্গেও সম্পর্ক ভাল ছিল না তার৷ আর সেই সবমিলিয়ে অবসাদগ্রস্ত হয়েই কুণাল সম্ভবত শুক্রবার পাহাড়ের মাথা থেকে ঝাঁপ দিতে যায় সে৷ পুলিশ আরও জানিয়েছে, মুরলিধর এবং সঙ্গীতার দুই সন্তান ছিল৷ ৬ বছর আগে বড় ছেলের মৃত্যু হয়৷ এর পর থেকেই কুণালের সঙ্গে তার বাবা মায়ের সম্পর্কে চিড় ধরে বলেই জানতে পেরেছে পুলিশ৷ সম্ভবত সেই হতাশাই গ্রাস করেছিল কুণালকে৷
(Feed Source: news18.com)