
ভারতে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সেরগিও গোর প্রকাশ্যে ট্রাম্প এবং মোদির বৈঠক নিয়ে একাধিক দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, মোদি কোনও প্রশ্ন গ্রহণ করবেন না বলে আগেই ভারতের তরফে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। সেই নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের এক সূত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, অন্য রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের ‘অপ্রত্যাশিত আচরণে’র দরুণই ভারত পুরোদস্তুর প্রেস কনফারেন্সের দিকে এগোয়নি। জনসমক্ষে রাষ্ট্রনেতাদের বৈঠক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা সাধারণ প্রোটোকলের মধ্যেই পড়ে এবং তা কূটনৈতিক রীতিনীতিরই অংশ। (Modi-Trump Press Conference)
STORY | Caution over Trump’s ‘unpredictable’ behaviour drove India to opt against full presser after Modi’s meeting: Sources
Concerns over US President Donald Trump’s “unpredictable behaviour” towards many foreign leaders led the Indian side to opt against a full press… pic.twitter.com/yzu6YDv83h
— Press Trust of India (@PTI_News) August 24, 2026
জি-৭ সম্মেলন চলাকালীন গত ১৭ জুন ফ্রান্সে সংবাদমাধ্যমের সামনে বৈঠক করেন ট্রাম্প এবং মোদি। সেখানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিলেও, কোনও প্রশ্ন গ্রহণ করেননি মোদি। সেই নিয়ে শনিবার মুখ খোলেন সেরগিও। তিনি জানান, সপ্তাহান্তেই ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে অনুরোধ পাঠানো হয় সেই নিয়ে। তাঁর কথায়, “ভারতের তরফে প্রশ্ন গ্রহণ করা হবে না শুনে প্রথমে রাজি ছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নকে স্বাগত জানান। ৪৫ মিনিট ধরে প্রশ্নোত্তর পর্ব চলে।”
ঠিক কী ঘটেছিল ওই সময়, তা নিয়ে সেরগিও বলেন, “আমরা মঞ্চের পিছনে ছিলাম। একটা সময় পর প্রেসিডেন্ট আমাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘ভারত কী ইস্যু তুলবে?’ আমরি কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করি। উনি জানতে চান, ‘ওদের তরফে কি প্রশ্ন আছে?’ ভারতের বিদেশমন্ত্রক একটিই অনুরোধ করেছিল যে, ‘সংবাদমাধ্যমকে ডাকুন, কিন্তু পুরদস্তুর প্রেস কনফারেন্স হবে না’। আমি প্রেসিডেন্টকে সেকথা বলি। জানাই, ভারতের তরফে প্রশ্ন গ্রহণ করা হবে না। উনি বলেন, ‘ঠিক আছে, সমস্যা নেই’। কিন্তু বৈঠক শুরু হতে সংবাদমাধ্যম পৌঁছে যায়। ৫০টির মতো ক্যামেরা ছিল। প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী বসে কয়েক মিনিট কথা বলেন। হঠাৎই সাংবাদিকদের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন আছে কি না জানতে চান প্রেসিডেন্ট। আর তাতেই শুরু হয় প্রশ্নোত্তর পর্ব। ৪৫ মিনিটের প্রেস কনফারেন্স হয়, আলোচনা হয় সব কিছু নিয়ে।”
হরমুজ় প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে আমেরিকার হামলায় তিন ভারতীয়ের মৃত্যুর পর ফ্রান্সে মুখোমুখি হয়েছিলেন ট্রাম্প এবং মোদি। ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার কথা ওঠে সেখানে। এতদিন পর সেই নিয়ে খুঁটিনাটি তুলে ধরলেন সেরগিও। ট্রাম্পের যে ‘অপ্রত্যাশিত আচরণে’র কথা তুলে ধরেছেন কেন্দ্রীয় সূত্র, আগে তার সাক্ষী হয়েছে গোটা বিশ্ব। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ওভাল অফিসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে রীতিমতো সর্বসমক্ষে তিরস্কার করেন ট্রাম্প এবং আমেরিকার বাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। পরিস্থিতি এমন হয় যে মাঝপথে বৈঠক বন্ধ করে দিতে হয়। দ৭িণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল আর-এর সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটে।
