তৃণমূল জমানায় সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছিল বিজেপি, অবশেষে তৃণমূলের সমর্থনে পঞ্চায়েত তৈরি করল শাসকদল

তৃণমূল জমানায় সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছিল বিজেপি, অবশেষে তৃণমূলের সমর্থনে পঞ্চায়েত তৈরি করল শাসকদল

 

গৌতম মণ্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: লক্ষ্মীনারায়ণপুরে অবশেষে পঞ্চায়েত তৈরি করল রাজ্যের শাসকদল বিজেপি। তৃণমূল জমানায় এই পঞ্চায়েতেই সব থেকে বেশি আসন পেয়েছিল বিজেপি। যদিও সেই সময় কোনও ভাবেই পঞ্চায়েত তৈরি করতে পারেনি তারা। সব থেকে বেশি আসন পেয়েও তাদের বসতে হয়েছিল বিরোধী আসনে। অবশেষে এবার বিজেপির সদস্য অমলেন্দু সর্দার পঞ্চায়েত প্রধান নির্বাচিত হলেন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর ১ নম্বর ব্লকের লক্ষ্মীনারায়ণপুর দক্ষিণ গ্রাম পঞ্চায়েতে ঘটল এই ঘটনা। মঙ্গলবার কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে ভোটাভুটিতে প্রধান নির্বাচিত হন অমলেন্দু সর্দার। আর সব থেকে তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হল যে, তাঁর পক্ষে ভোট দেন তৃণমূলের সদস্যরাও।

২১ আসনের এই গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপি ৮টি, তৃণমূল ৬টি, আইএসএফ ৫টি এবং সিপিএম ও নির্দল একটি করে আসনে জয়ী হয়েছিল। কোনও দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় তৃণমূল, আইএসএফ, সিপিএমের সমর্থনে নির্দল প্রার্থী খয়রুন বিবি লস্কর প্রধান নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ ওঠে। এরপর অনাস্থা ভোটে তাঁকে প্রধানের পদ থেকে অপসারণ করা হয়। নতুন করে প্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলে মঙ্গলবার ভোটাভুটির আয়োজন করা হয়।

নতুন প্রধান নির্বাচনে বিজেপির ৮ জন, তৃণমূলের ৫ জন, আইএসএফের ৪ জন এবং সিপিএমের এক সদস্য অমলেন্দু সর্দারের পক্ষে ভোট দেন। ফলে তৃণমূলের সমর্থন নিয়েই লক্ষ্মীনারায়ণপুর দক্ষিণ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হলেন বিজেপির অমলেন্দু সরদার। তৃণমূল জমানায় সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েও পঞ্চায়েত গঠন করতে পারেনি বিজেপি। এবার পরিবর্তনের বাংলায় তৃণমূল সদস্যদের সমর্থনে সেই পঞ্চায়েতের প্রধানের পদ বিজেপির দখলে গেল।

এর আগে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভার তমলুক ব্লকের নীলকুণ্ঠা গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল গিয়েছিল বিজেপির হাতে। সব থেকে অবাক করে যে বিষয়, তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যদের সমর্থনেই নতুন প্রধান নির্বাচিত হয়েছিলেন বিজেপির কার্তিক জানা। তবে উপপ্রধান পদে আগের মতোই রয়েছেন তৃণমূলের দীপালি মণ্ডল। কয়েকদিন আগেই নীলকুণ্ঠা গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান শ্রীকৃষ্ণ বারি ও উপপ্রধান দীপালি মণ্ডল পদত্যাগ করেন। তাঁদের ইস্তফার পর বুধবার নতুন করে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।