
তবে এই রীতি শুধু বেনিপুর চাক গ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বলেও দাবি স্থানীয়দের। একই বংশ বা গোত্রের অন্যান্য জায়গায় বসবাসকারী কয়েকটি পরিবারও নাকি রক্ষাবন্ধন পালন করেন না।
গোটা দেশে ধুমধাম করে পালিত হয় রক্ষাবন্ধন। ভাইয়ের হাতে বোনের রাখি বাঁধার এই উৎসব ঘিরে থাকে আবেগ, ভালোবাসা এবং পারিবারিক বন্ধনের নানা মুহূর্ত। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলার একটি গ্রামে ছবিটা একেবারেই আলাদা। বেনিপুর চাক গ্রামের বহু পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম রক্ষাবন্ধন পালন করেন না। বোনেরা ভাইদের হাতে রাখি পরান না। এর নেপথ্যে রয়েছে কয়েকশো বছরের পুরনো এক পারিবারিক কাহিনি, যা আজও স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত। (File Photo)
স্থানীয়দের দাবি, এই অদ্ভুত রীতির সূত্রপাত তাঁদের পূর্বপুরুষদের আদি গ্রাম আলিগড়ের আত্রৌলি এলাকায়। কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছে রাখি বাঁধা, এক বোনের মজার ছলে করা দাবি এবং সেই দাবিকে ঘিরে দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতি।
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, আত্রৌলি এলাকার একটি ঠাকুর পরিবারে একসময় কোনও পুত্রসন্তান ছিল না। পরিবারের মেয়েরা একটি যাদব পরিবারের ছেলেদের রাখি পরাতে শুরু করেন। এর ফলে তাঁদের মধ্যে ভাই-বোনের সম্পর্ক তৈরি হয়।
একদিন রাখি বাঁধার পর ঠাকুর পরিবারের এক মেয়ে মজা করে তাঁর ‘ভাই’-এর কাছে রাখির উপহার হিসেবে পরিবারের গ্রামের সম্পত্তির একটি অংশ দাবি করেন। দাবি ছিল নিছকই রসিকতা। কিন্তু যাদব পরিবার সেই কথাকে গুরুতর প্রতিশ্রুতি হিসেবে নেয় বলে স্থানীয়দের দাবি।
পরিবারের সদস্যরা মেয়েটিকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তিনি মজা করেই কথাটি বলেছিলেন। কিন্তু তাঁদের পূর্বপুরুষরা দেওয়া কথা রাখার সিদ্ধান্ত নেন। স্থানীয় কাহিনি অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত সম্পত্তি নিয়ে সেই পরিস্থিতি এড়াতে তাঁরা আদি গ্রাম ছেড়ে সম্ভলে এসে বসতি গড়েন।
এই ঘটনার পর থেকেই পরিবারটি রক্ষাবন্ধন পালন করা বন্ধ করে দেয় বলে দাবি স্থানীয়দের। প্রজন্মের পর প্রজন্ম সেই রীতি চলে আসছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, রাখি বাঁধা বা রাখিকে কেন্দ্র করে কোনও প্রতিশ্রুতি দিলে ফের একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সেই বিশ্বাস থেকেই উৎসবটি এড়িয়ে চলেন পরিবারের সদস্যরা।
এই প্রথার আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল—বিয়ের পর মেয়েরা অন্য জায়গায় চলে গেলেও তাঁরা নাকি এই রীতি মেনে চলেন। স্থানীয়দের দাবি, বেনিপুর চাকের বাইরে শ্বশুরবাড়িতে থাকলেও পরিবারের মেয়েরা ভাইদের হাতে রাখি বাঁধেন না।
কয়েকশো বছরের পুরনো এই পারিবারিক কাহিনি কতটা ঐতিহাসিক এবং কতটা লোকমুখে প্রচলিত, তা নিয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই। তবে স্থানীয়দের বিশ্বাস ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই রীতিই বেনিপুর চাককে রক্ষাবন্ধনের সময় অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে
(Feed Source: news18.com)
