
Inspirational Story: একসঙ্গে দুই হাত ও এক পা দিয়ে ভিন্ন তিনটি ছবি আঁকা থেকে মাত্র ৩ মিনিটে ৩০টি শিল্পকর্ম! বারাসাত রবীন্দ্রভবনে পারফর্ম করে সাড়া ফেললেন বিশ্ব রেকর্ডধারী ‘সব্যসাচী’ স্পিড পেইন্টার রবিন বর। লাইভ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখা তাঁর নিজস্ব শৈলী।
উওর ২৪ পরগনা, রুদ্র নারায়ণ রায়: বাংলার মাটি থেকে বিশ্বমঞ্চে রবিন বর। দুই হাত ও এক পায়ে একসঙ্গে ছবি আঁকা সহ রয়েছে ৩ মিনিটে ৩০ শিল্প কর্মের নজির। প্রতিভার কদর যে সীমান্ত পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও পৌঁছতে পারে, তারই অনন্য উদাহরণ স্পিড পেইন্টার রবিন বর। পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে তাঁর শৈশবের গভীর যোগ থাকলেও বর্তমানে অসমের বাসিন্দা এই শিল্পী। তাঁর অসাধারণ শিল্পসৃষ্টি এবং অবিশ্বাস্য দ্রুততার কারণে দেশ-বিদেশে তৈরি হয়েছে আলাদা পরিচিতি। ক্যানভাসে রং-তুলির সাহায্যে ছবি আঁকা শিল্পীদের কাছে স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু একই সময়ে দুই হাত এবং একটি পা দিয়ে তিনটি আলাদা ছবি আঁকা এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না।
আর এই অসম্ভব কাজকেই অনায়াসে সম্ভব করে দেখান রবিন বর। তাঁর এই অনন্য দক্ষতার জন্য অনেকেই তাঁকে ‘সব্যসাচী’ শিল্পী বলে অভিহিত করেন। এদিন বারাসাত রবীন্দ্রভবনে বিশেষ এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতনামা এই শিল্পী। তবে রবিন বরের প্রতিভার সবচেয়ে বড় চমক তাঁর আঁকার গতি। মাত্র তিন মিনিটে দুই বাই তিন ফুট কাগজে ৩০টি ছবি এঁকে ফেলার নজির রয়েছে তাঁর। শুধু তাই নয়, আধ ঘণ্টার মধ্যেই সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার একাধিক শিল্পকর্ম তৈরি করে দর্শকদের চমকে দিতে পারেন তিনি। রবিন বরের শিল্পের অন্যতম আকর্ষণ তাঁর ‘সিগনেচার আর্ট’। সাধারণ মানুষের সইকে কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই অর্থপূর্ণ একটি ছবিতে পরিণত করেন তিনি। তাঁর এই অভিনব শিল্পকৌশল ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ তাঁর এই শিল্পকর্ম দেখে মুগ্ধ। শুধু রং-তুলি বা ক্যানভাসেই থেমে নেই তাঁর শিল্পচর্চা। বালি, আগুন এবং বিভিন্ন মিশ্র মাধ্যম ব্যবহার করে লাইভ পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে ছবি আঁকেন তিনি। ফলে তাঁর প্রতিটি পরিবেশনা একই সঙ্গে শিল্প এবং বিনোদনের এক অনন্য মেলবন্ধন হয়ে ওঠে। বাংলার সঙ্গে তাঁর শৈশবের যোগ থাকায় রবিন বরও বাংলার শিল্প-সংস্কৃতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান। তাঁর বক্তব্য, বাংলার মাটিতে প্রতিভাবান শিল্পীর অভাব নেই। প্রয়োজন সেই প্রতিভাকে যথাযথভাবে তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে শিল্পের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা। সেই লক্ষ্যেই বাংলার শিল্প ও শিল্পীদের আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিতে চান তিনি।
(Feed Source: news18.com)
