)
Sadhguru on Nepal Flash Floods: নেপালের হড়পা বান দেখে ব্যথিত সদগুরু! চিনা কর্তৃপক্ষের কাছে এক আবেগঘন আবেদন জানিয়ে সদগুরু অনুরোধ করেছেন, নিখোঁজ পুণ্যার্থীদের সন্ধানে সহায়তা করতে যেন তাঁকে ও তাঁর ছোট স্বেচ্ছাসেবী দলটিকে দ্রুত গিরং যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নেপাল দেখে ব্যথিত সদগুরু! গভীর বেদনার মধ্য়ে আছেন তিনি। নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী গিরং শহরে ঘটে যাওয়া প্রলয়ঙ্কর হড়পা বানে নিখোঁজ হয়েছেন কৈলাস মানসরোবরফেরত ৮০ জন ভারতীয় পুণ্যার্থী। প্রকৃতির এই ধ্বংসলীলায় স্বজনহারা পরিবারগুলির মতোই গভীর যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছেন আধ্যাত্মিক গুরু ও ইশা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদগুরু জাগ্গি বাসুদেবও। বৃহস্পতিবার চিনা কর্তৃপক্ষের কাছে এক আবেগঘন আবেদন জানিয়ে তিনি অনুরোধ করেছেন, নিখোঁজ পুণ্যার্থীদের সন্ধানে সহায়তা করতে যেন তাঁকে ও তাঁর একটি ছোট স্বেচ্ছাসেবী দলকে দ্রুত গিরং যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
গভীর কষ্টে লিখছি…
সদগুরু জানান, তাঁর সংগঠনের একটি দলের সদস্যরা কৈলাসযাত্রা শেষ করে ফেরার পথে গিরংয়ের এক ইমিগ্রেশন সেন্টারে ছিলেন। ঠিক তখনই কোনও পূর্বাভাস ছাড়াই ওই জলকাদা আর পাথরের দানবীয় স্রোত ইমিগ্রেশন সেন্টারের গোটা বাড়িটাকে গিলে ফেলে। সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে চলে যায়। চরম বেদনাহতর সুরে সদগুরু বলেন, আমাদের দল থেকে ৮০ জন মানুষকে হারানোর গভীর কষ্টে এই কথাগুলো লিখছি। বন্যার পর থেকে তাঁদের বিষয়ে আর কোনও তথ্য আমরা পাচ্ছি না।”
তিব্বতে সদগুরু
জানা গিয়েছে, সদগুরু এখন তিব্বতের সাগা অঞ্চলে অবস্থান করছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজে কোনও ধরনের বাধা তৈরি করা তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। বরং নিখোঁজদের কোনও সন্ধান বা সূত্র খুঁজে পেতে চিনা উদ্ধারকারী দলের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করতে চান তাঁরা। তীব্র উৎকণ্ঠায় থাকা পরিবারগুলির মনে একটু স্বস্তির প্রলেপ দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য।
মহাবিপর্যয়
এতক্ষণে সকলে জেনে গিয়েছেন, নেপাল-তিব্বত সীমান্তে এক বিশাল হিমবাহ ধসের কারণেই এই আকস্মিক দুর্যোগের সূত্রপাত ঘটেছে নেপালের সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, ধসের তীব্রতা এতই ভয়াবহ ছিল যে এর জেরে ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমান কম্পন তৈরি করেছিল। সেই প্রকাণ্ড ভূমিধসের ফলে বরফ পাথর ও কাদাস্রোত লেন্দে খোলা নদীতে পড়ে। এর জেরে নদী উপচে উঠে ধ্বংসের প্লাবন বইয়ে দেয় নীচে। এরই জেরে গিরং অঞ্চলে এখনও পর্যন্ত ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক-সহ অন্তত ৫৫৮ জন মানুষ নিখোঁজ। অন্য দিকে, সীমান্তের ওপারে নেপালে এই বিপর্যয়ে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৬৩ জনের এবং নিখোঁজ সাড়ে সাতশোরও বেশি মানুষ। যার মধ্যে ১৩৩ জনই ভারতীয় তীর্থযাত্রী।
প্রযুক্তির ব্যর্থতা না কি উদাসীনতা?
এদিকে এই হড়পা নিয়ে শুরু হয়েছে চিন-নেপাল তরজা। নেপালের ন্যাশনাল প্ল্যানিং কমিশনের প্রাক্তন সহ-সভাপতি ডঃ গোবিন্দরাজ পোখরেল জানান, চিনের উন্নত উপগ্রহ প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও তারা কেন কোনো পূর্বাভাস দিতে পারল না, তা খুবই হতাশাজনক। নদীর নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা তৈরি হওয়ার সামান্য সময়ও পাননি। এমনকি, মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করার সময় পুলিসকর্মীরাও জলের তোড়ে ভেসে যান।
জলবায়ু পরিবর্তন
উঠে আসছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গও। জলবায়ু পরিবর্তনের এই সংবেদনশীল অঞ্চলে অবাধে নির্মাণকাজ চালানোর ফলে হিমবাহে ধস ও প্লাবন প্রায় নিয়মিত এক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কৃত্রিম বাঁধভাঙা বন্যা নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তন ও ভৌগোলিক নড়বড়ে পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট হওয়া এক তীব্র প্রাকৃতিক বিপর্যয়। যদিও দুই দেশের মধ্যে রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা যথাযথ না থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
