)
Flash Floods Hit Northern Nepal: সহসাই ঘোরতর রহস্যের গন্ধ নেপালে! নেপালের এই ভয়াল ফ্ল্যাশফ্লাডের পিছনে কি চিনা ড্রাগনের লেজের ঝাপটা রয়েছে? কালপ্রিট কি জি জিনপিং? কীভাবে? চিনের ষড়যন্ত্র এটা? কেনই-বা? নেপালের আকস্মিক বন্যা কি চিনের ভূতাত্ত্বিক বিপর্যয়-বাঁধের কারণেই? সব অভিযোগ শুনে কী জবাব দিল বেইজিং? নেপাল কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিনকেই তাদের দেশের এই মহা বিপর্যয়ের জন্য দায়ী করছে। প্রকৃত সত্যটা কী?
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নেপালে এই মহা বিপর্যয়ের পরে নেপালের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে– চিন কি সময়মতো আগাম সতর্কবার্তা দিলে বিপুল এই ধ্বংস ক্ষতি প্রাণহানি এড়ানো যেত? তিব্বতে উৎপন্ন এক ভয়াবহ হড়পা বন্যার জেরে নেপাল ও চিনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৭৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। নিখোঁজ কয়েকশো। এই ভয়ংকর বিপর্যয়ের পরেই চিনের ভূমিকা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে নেপাল। শুধু প্রশ্ন নয়, নেপাল এ নিয়ে অভিযোগও করছে। তবে, চিন সব অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে ‘ভুয়ো খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু প্রকৃত সত্যটা কী? চিনের কি কোনও ভূমিকা এখানে আছে?
আগাম খবর কেন নয়?
নেপালের ক্ষোভ তারা ঠিক সময়ে সতর্কবার্তা পায়নি। নেপালের সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করেছেন, রসুওয়াগধি-গিরং (Rasuwagadhi-Gyirong) সীমান্ত অঞ্চলের তিব্বত-অংশে বিপর্যয় শুরু হলেও চিন নেপালকে কোনো আগাম খবর দেয়নি। তাদের দাবি, নেপাল সবসময় প্রতিবেশীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেয়, কিন্তু তাদের উত্তর দিকের প্রতিবেশী (চিন) বিপর্যয়ের আগাম খবর না দিয়ে চরম ক্ষতি করল। আরও প্রশ্ন, চিন থেকে বারবার বিপর্যয় নেমে এলে নেপালকেই কেন প্রতিনিয়ত তার খেসারত দিতে হবে? অভিযোগ তোলা হয়েছে, তিব্বত সীমান্তে চিনা সরকার যে ‘শাওখাং’ (Xiaokang) আবাসন ও গিরং (Gyrong) শহরের সম্প্রসারণ করছে, সেজন্যই পাহাড় কাটা ও নদীর প্রাকৃতিক গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। গিরং সীমান্ত বন্দরটি নদীর সঙ্গমস্থলে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা প্লাবনজলের গতি নেপাল ভূখণ্ডের দিকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
প্রযুক্তির ব্যর্থতা না কি উদাসীনতা?
নেপালের ন্যাশনাল প্ল্যানিং কমিশনের প্রাক্তন সহ-সভাপতি ডঃ গোবিন্দরাজ পোখরেল জানান, চিনের উন্নত উপগ্রহ প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও তারা কেন কোনো পূর্বাভাস দিতে পারল না, তা খুবই হতাশাজনক। নদীর নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা তৈরি হওয়ার সামান্য সময়ও পাননি। এমনকি, মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করার সময় পুলিসকর্মীরাও জলের তোড়ে ভেসে যান।
চিনের জবাব
নেপালে অবস্থিত চিনা দূতাবাস এই সংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। এবং একটি বিবৃতিও দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, “অভিযোগটি ভুয়ো (Fake)”! চিনে কোনো ভূতাত্ত্বিক বিপর্যয়বাঁধ ভাঙার ফলে নেপালে এই বন্যা ধেয়ে এসেছে– এই দাবিকে চিন ভিত্তিহীন বলেছে। বেইজিংয়ের বরং দাবি, নেপাল সীমান্ত অঞ্চলে ভূকম্পন বা হিমবাহ ধসের (Glacier Collapse) কারণে কাদাপাথরের যে বিশাল ধস (Mudslide) নামে, তাতে চিনের গিরং বন্দরেও বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেশ কয়েকজন চিনা নাগরিক নিখোঁজ ও নিহত হয়েছেন। তবে, শুধু সাফাই নয়, সহযোগিতার বার্তাও দিয়েছে চিন। চিনা দূতাবাস জানিয়েছে, “একে অপরের দিকে আঙুল তুলে লাভ নেই, যৌথ প্রক্রিয়াই জীবন বাঁচাতে পারে।”
কিন্তু, বন্যার প্রকৃত কারণ কী?
বলা হচ্ছে, এটি হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণের (GLOF) ঘটনা। পরিবেশ সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমবাহের বরফ ও পাথরের বিশাল একটি চাপ খসে পড়ে নদীর গতিপথ আটকে দেয়। কোনও কোনও পক্ষ বলছে, কোনো হিমবাহ হ্রদে আছড়ে পড়ে হিমবাহের বরফপাথর। রসুওয়াগধি সীমান্ত থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে তিব্বত-নেপাল সীমান্তে এই ধস নামার ফলে বরফ, কাদা ও জলের ভয়াবহ ঢল লেন্দে খোলা (Lhende Khola) নদী হয়ে সরাসরি ভোটে কোশী (Bhote Koshi) নদীতে গিয়ে পড়ে, যা নিম্নাঞ্চল ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
জলবায়ু পরিবর্তন
উঠে আসছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গও। জলবায়ু পরিবর্তনের এই সংবেদনশীল অঞ্চলে অবাধে নির্মাণকাজ চালানোর ফলে হিমবাহে ধস ও প্লাবন প্রায় নিয়মিত এক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কৃত্রিম বাঁধভাঙা বন্যা নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তন ও ভৌগোলিক নড়বড়ে পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট হওয়া এক তীব্র প্রাকৃতিক বিপর্যয়। যদিও দুই দেশের মধ্যে রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা যথাযথ না থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
