)
একজন রূপান্তরকামীকে কীভাবে ক্রিকেট খেলার ছাড়পত্র দেওয়া হল? ‘রিডিকিউলাস’ বলেই বাঙ্গারতনয়া অনয়াকে ছিঁড়ে খেলেন কিংবদন্তি
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দিন তিনেক আগেই অনয়া বাঙ্গার জানিয়েছেন যে, আগামী বছর মার্চ মাস থেকেই তিনি অস্ট্রেলিয়ায় এলিট পর্যায়ের নারী ক্রিকেট খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ফেলবেন। এর ফলে উইমেনস বিগ ব্যাশ লিগে খেলার পথও খুলে যাচ্ছে তাঁর। ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার ও কোচ সঞ্জয় বাঙ্গারের কন্যা অনয়ার আগে নাম ছিল আরিয়ান। তিনি পুরুষ হয়েই জন্মেছিলেন। ২০২১ সালে জেন্ডার-অ্যাফার্মিং সার্জারি (লিঙ্গ নিশ্চিতকরণ অস্ত্রোপচার) সম্পন্ন করে আরিয়ান থেকে অনয়া হয়েছেন। লিঙ্গবদল করা কন্যাকে কি করে ক্রিকেটে ফেরার ছাড়পত্র দেওয়া হল! একজন রূপান্তরকামী কেন ক্রিকেট খেলবে? ঠিক এই মর্মেই প্রশ্ন তুললেন কিংবদন্তি অলরাউন্ডার মারিজান ক্যাপ। চার টেস্ট, ১৬২টি ওডিআই এবং ১২৬টি টি-টোয়েন্টিআই খেলা স্টার মানতেই পারছেন না। অনয়াকে ছিঁড়ে খেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার স্টার। ইনস্টায় স্টোরি দিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন ২০১৫ সালের ওডিআই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। মারিজান লিখলেন, ‘একেবারে হাস্যকর, ওকে অনুমতি দেওয়া একদমই উচিত নয়!’ তিনি উইমেনস বিগ ব্যাশ লিগকেও পোস্টে ট্যাগ করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার উদার মানসিকতায় অয়নার উড়ান
লিঙ্গ পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার পর খেলা থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল অনয়াকে। মুম্বইতে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট সরফরাজ খান, মুশির খান ও যশস্বী জয়সওয়ালরা ছিলেন তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার উইমেন অ্যান্ড গার্লস অ্যাকশন প্ল্যানের লক্ষ্যই হল বিগ ব্যাশ লিগ-সহ সামগ্রিক ভাবে এই খেলায় অংশগ্রহণ, বিনিয়োগ এবং সুযোগের পরিধি বাড়ানো। সেই দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ট্রান্সজেন্ডার ও জেন্ডার-ডাইভার্স (লিঙ্গ-বৈচিত্র্যময়) খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরেই এক নীতি অনুসরণ করে আসছে। তাদের নির্দেশিকায় কমিউনিটি ক্রিকেট এবং এলিট ক্রিকেটের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। যেখানে ডব্লিউবিবিএলকে স্পষ্ট ভাবে একটি এলিট বা শীর্ষস্থানীয় প্রতিযোগিতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঠিক সেই কারনেই সেই দেশের এলিট লিগ খেলার ছাড়পত্র পেয়েছেন অনয়া। কিন্তু তাঁর এন্ট্রি কিছুতেই মানতে পারছে না মারিজান। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা আইসিসি কিন্তু রূপান্তরকামীদের খেলার অনুমতি দেয় না। আইসিসির লিঙ্গ যোগ্যতা নীতিমালা অনুযায়ী সাফ লেখা রয়েছে যে, কোনও ক্রিকেটার যদি পুরুষ হিসেবে বয়ঃসন্ধিকাল পার করে থাকেন, তবে সে পরবর্তীতে অস্ত্রোপচার বা হরমোন থেরাপি করে নারী হয়ে গেলে, সে আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটে অংশ নিতে পারবেন না।
(Feed Source: zeenews.com)
