)
Nepal Flash Flood: নেপাল-চিন সীমান্তে ভোতে কোশি নদীর বন্যায় ৬১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও নিখোঁজ প্রায় ১,৯২৪ জন, যার মধ্যে ৩২০ জন ভারতীয় রয়েছেন। ভারত ইতিমধ্যেই ৫৭.৫ টন ত্রাণসামগ্রী ও চিকিৎসক দল পাঠিয়েছে।
রাজীব চক্রবর্তী: নেপাল-চিন সীমান্ত সংলগ্ন ভোতে কোশি নদী উপত্যকায় ভয়াবহ হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে এখনও পর্যন্ত ৬১৬। এখনও নিখোঁজ ১,৯২৪ জন। ধ্বংসস্তূপ, নদীখাত এবং প্রত্যন্ত এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছেন সেনা ও পুলিসকর্মীরা। এখনও পর্যন্ত ৪,৪৫১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। হেলিকপ্টারে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে চলছে উদ্ধার ও আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর কাজ।
তবে, বিপদ কাটেনি। ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী সংলগ্ন এলাকায় ফের জলস্তর বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও ধস ও জল-কাদায় নদীর গতিপথে বাধা তৈরি হয়েছে। চিন ও সীমান্তবর্তী এলাকায় সম্ভাব্য নতুন বন্যা নিয়ে সতর্ক করেছে। ফলে উদ্ধারকাজে থাকা কর্মী এবং নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ই পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। তিনটি সামরিক পরিবহণ বিমানে এখনও পর্যন্ত ৫৭.৫ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসক ও প্যারামেডিকের দলও পাঠিয়েছে নয়াদিল্লি। নিখোঁজ ভারতীয়দের উদ্ধারে বিশেষ তৎপরতা চলছে। প্রায় ৩২০ জন ভারতীয় এখনও যোগাযোগহীন। দুর্গত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ফেরানো এবং সেতু নির্মাণে বেইলি ব্রিজ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রয়োজনে এনডিআরএফ পাঠানোর প্রস্তাবও দিয়েছে ভারত।
অন্যদিকে, গত শুক্রবার নেপাল সরকার বাইরের কোনও দেশের থেকে সাহায্য় নিতে অস্বীকার করে দিয়েছিল। কিন্তু একরাতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে ইউ টার্ন। জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তীব্র কূটনৈতিক চাপের মুখে অবশেষে নিজেদের সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হয়েছে নেপাল সরকার। চার দেশের বিশেষজ্ঞ দলকে উদ্ধারকাজে ঢোকার অনুমতি দিয়েছে কাঠমান্ডু।
নেপাল সরকার বিশেষ কিছু কাজের জন্য সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারত, চিন, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ দলকে তারা অনুমতি দিয়েছে। এই বিশেষজ্ঞরা মূল তিনটি কাজ করবেন। প্রথমত, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের ভেতর উদ্ধারকাজ চালাবেন। দ্বিতীয়ত, মৃতদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করবন। তৃতীয়ত, ফরেনসিক পরীক্ষায় সাহায্য করবেন। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছিলেন, সাধারণ উদ্ধারকাজে বিদেশী বাহিনীর দরকার নেই। কিন্তু টানেল রেসকিউ এবং ডিএনএ পরীক্ষার ক্ষেত্রে নেপালের নিজস্ব প্রযুক্তির ঘাটতি রয়েছে। তাই শুধু এই বিশেষ কাজের জন্যই বিদেশী বিশেষজ্ঞদের আনা হচ্ছে।
(Feed Source: zeenews.com)
