)
Collapse of Glacier near Langtang Lirung: পাহাড়ের ৩০০০ মিটার উপর থেকে খসে পড়েছিল এক দানবীয় তুষারধস। বরফ, মাটি আর ভারী পাথরের সেই অন্ধ আক্রোশ উপত্যকার দিকে ধেয়ে এসেছিল বুলেটের গতিতে। সময় লেগেছিল ঠিক ৬৭ সেকেন্ড।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নাম তার লাংটাং লিরুং! বরফে ঢাকা শৃঙ্গ। নেপালের কাঠমান্ডু থেকে ৪৫ কিলোমিটার উত্তরে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে। কিন্তু নেপালের বুকে এই লাংটাং লিরুং আজ আর নিছক কোনও পাহাড় নয়, সে এক মৃত্যুদূত। ২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিলে ঘটেছিল প্রথম মর্মান্তিক ঘটনাটি। দ্বিতীয়টি এই সেদিন। প্রথমটির ক্ষত অনেকদিন দগদগে ছিল। কিন্তু দ্বিতীয়টি যেন ভয়াবহতায় ঢেকে দিল আগের বিপর্যয়কে। কেন এখানে বারবার ধস?
বরফকবর, নিস্তব্ধ উপত্যকা যেন ধ্বংসস্তূপ
২০১৫ সালের ২৫ এপ্রিল। ঝলমলে আলোয় ভরা লাংটাং উপত্যকা। ঠিক বেলা ১১টা ৫৬ মিনিটে থরথর করে কেঁপে ওঠে গোটা নেপাল। ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনি। লাংটাং লিরুংয়ের দক্ষিণ ঢালে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জমে থাকা বরফের বিশাল সাম্রাজ্য এক লহমায় যেন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিল। পাহাড়ের ৩০০০ মিটার উপর থেকে সেদিন খসে পড়েছিল এক দানবীয় তুষারধস। বরফ, মাটি আর ভারী পাথরের সেই অন্ধ আক্রোশ উপত্যকার দিকে ধেয়ে এসেছিল দুঃসহ গতিতে। মাত্র ৬৭ সেকেন্ডে। চোখের পলকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল পুরো লাংটাং গ্রাম। তিনশোরও বেশি মানুষ চিরতরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন সেই বরফকবরে। নিস্তব্ধ উপত্যকায় শুধু ধ্বংসস্তূপ।
আস্ত হিমবাহ আর তার নুড়িবালিপাথর
এর ঠিক ১১ বছর পরে ২৬ অগস্ট সবে সকালের আলো ফুটছে। তখনই লাংটাং লিরুংয়ের উত্তর ঢালে শুরু দ্বিতীয় ধ্বংসখেলা। প্রায় ৫২০০ মিটার উঁচুতে থাকা এক আস্ত হিমবাহ আর তার নীচের নুড়িবালিপাথর একসঙ্গে ভেঙে নেমে এল সেই ভয়ংকর ধস ২০০০ মিটার নীচে সশব্দে আছড়ে পড়ল লেন্দে নদীর বুকে। ধসের অভিঘাতে তৈরি হল ৫.২ মাত্রার ভূকম্পন। বরফ আর পাথরের বিশাল স্তূপে আটকে গেল নদীর স্বাভাবিক গতি। নদীর জল জমতে জমতে একসময় প্রকৃতির অস্থায়ী বাঁধকে চুরমার করে দিল। তারপর ঘটল এক প্রলয়ঙ্করী ঘটনা যা দুঃস্বপ্নেও ঘটে না!
গর্জন করতে করতে নেমে এল
পাহাড়ের বুক চিরে গর্জন করতে করতে নেমে এল জলকাদার দানব। মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যে নদীর জলস্তর উঠে গেল ৯ মিটার। লেন্দে নদী থেকে সেই স্রোত মিশল ভোট কোশী আর ত্রিশূলি নদীতে। চিনের গিরং বন্দর থেকে নেপালের রাসুয়া হয়ে ত্রিশূলি উপত্যকা– ১০০ কিমি পথ জুড়ে এই স্রোতের সামনে যা পড়ল, সব নিমেষে খড়কুটোর মতো ভাসিয়ে নিয়ে চলে গেল।
কেন এই বিপর্যয়?
ভূবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই শৃঙ্গের অন্তরে চলছে তীব্র আলোড়ন। কোটি কোটি বছর ধরে ভূগর্ভস্থ টেকটোনিক প্লেটগুলি নিচ থেকে লাংটাং লিরুংকে ঠেলে ঠেলে উপরের দিকে তুলছে। যত সে উপরে উঠছে, ততই তার ঢাল বেশি খাড়া হয়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। সঙ্গে দোসর মানুষের তৈরি উষ্ণায়ন। জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে গলে যাচ্ছে প্রাচীন বরফ। পাহাড়ের ভিত আলগা হয়ে যাচ্ছে, খসে পড়ছে।
(Feed Source: zeenews.com)
