)
Sadhguru on Nepal Flash Floods: কাঠমান্ডুতে আয়োজিত ‘ইন সলিডারিটি উইথ নেপাল’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি এই প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি, ইশা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলে ১ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণাও করা হয়েছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নেপাল নিয়ে তিনি আগেই ব্যথিত ছিলেন। গভীর বেদনার মধ্য়ে আছেন তিনি, জানিয়েছিলেন সদগুরু! এবার তিনি হিমালয় নিয়ে পাঁচটি রাষ্ট্রকে আহ্বান জানালেন। হিমালয়ের সুরক্ষায় গভীর সম্মিলিত দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সাধগুরু। তিনি বলেছেন, পর্বত দেশের রাজনৈতিক সীমানা চেনে না এবং হিমালয়ের ভবিষ্যৎ এই অঞ্চলের উপর নির্ভরশীল সমস্ত দেশের সঙ্গেই যুক্ত। ভারতের অন্যতম এই আধ্যাত্মিক গুরু সদগুরু জগদীশ বাসুদেব প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করতে ভারত, চিন, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটান– এই পাঁচ দেশকে নিয়ে একটি হিমালয় বোর্ড গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।
‘ইন সলিডারিটি উইথ নেপাল’
কাঠমান্ডুতে আয়োজিত ‘ইন সলিডারিটি উইথ নেপাল’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি এই প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি, ইশা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলে ১ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণাও করা হয়েছে।
ইশা ফাউন্ডেশন
চীন-নেপাল সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ধসে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এই দুর্যোগে ইশা ফাউন্ডেশনের ৭৭ জন পুণ্যার্থীর একটি দলের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। ইশা ফাউন্ডেশন প্রতি মরসুমে কাঠমান্ডু হয়ে তিব্বতের কৈলাস মানস সরোবর যাত্রার আয়োজন করে থাকে। নেপাল সীমান্তে থাকা ইশা ফাউন্ডেশনের ৩ জন স্বেচ্ছাসেবকেরও কোনো খোঁজ মিলছে না বলে জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিক সীমানার ঊর্ধ্বে উঠে
ব্যথিত সদগুরু রাজনৈতিক সীমানার ঊর্ধ্বে উঠে যৌথভাবে এই প্রাকৃতিক অঞ্চল রক্ষার ডাক দিয়েছেন। সাধগুরু বলেছেন: হিমালয় রাজনীতি জানে না। পাহাড় আপনার রাজনৈতিক পরিচয় চেনে না। পাহাড় বোঝে না, আপনি কী ভাষায় কথা বলছেন। তিনি যোগ করেন, “হিমালয় পৃথিবীর সবচেয়ে চমৎকার এবং রাজকীয় প্রাকৃতিক রূপের আকর। কিন্তু একই সঙ্গে এ অঞ্চলটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ভঙ্গুর। যেসব দেশের উপর দিয়ে হিমালয় পর্বতমালা বিস্তৃত, তাদের সকলকে নিয়ে এখনই একটি পরিষদ গড়ে তোলা প্রয়োজন।”
হিমালয় রক্ষায় আন্তর্জাতিক দায়িত্ববোধ
সাধগুরু উল্লেখ করেন, এই বিপর্যয়ের ভয়াবহতা আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব ছিল না এবং নেপালের মতো একটি ছোট দেশের পক্ষে একা এই ধরনের দুর্যোগের প্রভাব সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। সদগুরু হিমালয় রক্ষায় আন্তর্জাতিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। প্রসঙ্গত, নেপালের ‘ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’ (NDRRMA)-র তথ্য অনুযায়ী, বিধ্বংসী বন্যায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ১০০০ ছুঁইছুই।
গভীর কষ্টে লিখছি…
এর আগে সদগুরু জানিয়েছিলেন, তাঁর সংগঠনের একটি দলের সদস্যরা কৈলাসযাত্রা শেষ করে ফেরার পথে গিরংয়ের এক ইমিগ্রেশন সেন্টারে ছিলেন। ঠিক তখনই কোনও পূর্বাভাস ছাড়াই ওই জলকাদা আর পাথরের দানবীয় স্রোত ইমিগ্রেশন সেন্টারের গোটা বাড়িটাকে গিলে ফেলে। সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে চলে যায়। চরম বেদনাহতর সুরে সদগুরু বলেছিলেন, আমাদের দল থেকে ৮০ জন মানুষকে হারানোর গভীর কষ্টে এই কথাগুলো লিখছি। বন্যার পর থেকে তাঁদের বিষয়ে আর কোনও তথ্য আমরা পাচ্ছি না।”
(Feed Source: zeenews.com)
