
নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথর ধসের ফলে সৃষ্টি হওয়া হড়পা বান গত ২৬ অগাস্ট নেপালের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের শহর ও গ্রামগুলিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। হিমালয়-সংলগ্ন সীমান্ত এলাকা থেকে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত ভোটকোশি নদী বন্যার জল ভাটির দিকে বয়ে নিয়ে যায়। যার জেরে ঘরবাড়ি, যানবাহন, রাস্তাঘাট ও সেতু ভেসে যায় এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিনা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে চিনের অংশে ১৬ জন নিহত হয়েছেন এবং তিব্বতে প্রায় ৫৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এনডিআরআরএমএ (NDRRMA)-এর তথ্য অনুযায়ী, নেপালে চিতওয়ান জেলায় ৩২১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর রয়েছে নাওয়ালপরাসি পূর্ব (২১৬), নাওয়ালপরাসি পশ্চিম (১৭০), নুয়াকোট (১৪২), গোর্খা (৬৫), ধাদিং (৫৭), রাসুওয়া (৪১) এবং তানাহুন (৩৮)। শনাক্তহীন মৃতদেহের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে নেপালের হাসপাতালগুলি। বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে মানুষের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। স্বজনরা নিখোঁজ আত্মীয়দের ছবি সঙ্গে নিয়ে আসছেন এবং দেওয়ালে সাঁটানো মৃত ব্যক্তিদের ছবি খুঁটিয়ে দেখছেন। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সারা দেশের ২১টি হাসপাতালে শনাক্তহীন মৃতদেহ রাখা হয়েছে।
মৃতদেহ শনাক্ত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ স্রোতের টানে ভেসে যাওয়ার ফলে অনেক দেহই মারাত্মকভাবে পচে গেছে বা কেবল শরীরের আংশিক উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলির মধ্যে মাত্র ৬০টি শনাক্তকরণের পর স্বজনদের হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত ও শনাক্তকরণের তথ্য সংরক্ষণের পর প্রায় ৭০০ মৃতদেহ সমাধিস্থ করা হয়েছে। Nepal Flash Floods
