)
Nepal Flood: ছ’দিন কেটে গিয়েছে। তবু সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা ৪০ জনের কোনও নিশ্চিত খবর নেই। তাঁরা কি এখনও জীবিত? নাকি সময়ের সঙ্গে কমছে তাঁদের বাঁচার সম্ভাবনা? উদ্ধারকাজের গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন পরিবারের সদস্যরা। নেপালের ট্রিশুলি-৩এ প্রকল্পে আটকে থাকা শ্রমিকদের ঘিরে এখন বাড়ছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নেপালে ভয়াবহ বন্যার পর এবার উদ্ধারকাজ নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। রসুয়া জেলার ট্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে এখনও প্রায় ৪০ জন নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির কর্মী আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এক ইঞ্জিনিয়ারও। ছ’দিন ধরে তাঁদের কোনও নিশ্চিত খবর না মেলায় উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। ২৬ অগাস্ট হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী এলাকায় হড়পা বন্যা ও ধস নামে। জল, কাদা, পাথর ও ধ্বংসস্তূপের স্রোতে বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। রাস্তা, সেতু এবং বিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই বিপর্যয়ের জেরে একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে বহু কর্মী নিখোঁজ বা আটকে পড়েছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের জায়গাগুলির একটি ট্রিশুলি-৩এ। সেখানে আটকে থাকা এক ইঞ্জিনিয়ারের স্ত্রী জানিয়েছেন, ছ’দিন ধরে পরিবারের সদস্যরা শুধু অপেক্ষা করছেন। কখনও সরকারি দফতর, কখনও সেনা সদর দফতরে গিয়ে খবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা। পরিবারের দাবি, উদ্ধারকারী দল পৌঁছনোর কথা বারবার জানানো হলেও ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি পৌঁছতে দেরি হয়েছে।
ওই ইঞ্জিনিয়ারের স্ত্রী আরও বলেন,এখন প্রতিটা ঘণ্টা, প্রতিটা মুহূর্তই যেন বোঝা হয়ে উঠেছে। এটা কি কোনও টানেল তৈরির কাজ? সরকার বলছে, আজ ১০ মিটার এগিয়েছি, ২০ মিটার এগিয়েছি। এসব কী হচ্ছে? আমরা কি ওঁদের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছি, নাকি বিষয়টা নিয়ে মজা করা হচ্ছে?”—ক্ষোভের সঙ্গে বলেন নিখোঁজ ইঞ্জিনিয়ারের স্ত্রী। তিনি বলেন,“শুধু একজনের বিষয় নয়, এখানে ৪০টি পরিবার জড়িয়ে রয়েছে। তাঁদের পরিবারগুলি কী অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, সরকারের কি তার কোনও ধারণা আছে?”
তাঁর দাবি, অনেক পরিবারের সদস্য নিজেদের কষ্টের কথা প্রকাশ্যে বলতেও পারছেন না। কেউ কেউ মানসিক চাপে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমি অন্তত নিজের কথা বলতে পারছি। কিন্তু আরও অনেক পরিবারের সদস্য কথা বলার অবস্থায় নেই। অনেকে হাসপাতালে ভর্তি। তাঁদের পরিস্থিতি আমরা কল্পনাও করতে পারছি না।” ক্ষুব্ধ স্ত্রী আরও বলেন,“ওঁরা ব্যক্তিগত কোনও কাজে সেখানে যাননি। দেশের কাজেই গিয়েছিলেন। তাহলে তাঁদের নিরাপত্তা ও জীবন রক্ষার দায়িত্ব কি সরকারের নেই? একজন মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য কি আমাদের সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে বারবার অনুরোধ করতে হবে?
কেন উদ্ধারকাজে বাধা?
উদ্ধারের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সুড়ঙ্গের মুখে জমে থাকা কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ। পাহাড়ি এলাকার ভেঙে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং খারাপ আবহাওয়াও অভিযানকে কঠিন করে তুলছে। উদ্ধারকারী দলকে সুড়ঙ্গের ভিতরে পৌঁছতে আগে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে রাস্তা তৈরি করতে হচ্ছে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেও কাজ এগোনো সহজ হচ্ছে না। শুধু ট্রিশুলি-৩এ নয়, নেপালের আরও বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও কর্মীদের নিখোঁজ হওয়ার খবর রয়েছে।
বিপর্যয়ের সামগ্রিক ছবিও ভয়াবহ। ২ সেপ্টেম্বরের রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, নেপালে মৃতের সংখ্যা ১,১০০ ছাড়িয়েছে এবং প্রায় ৪,০০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ। একাধিক দেশ থেকে উদ্ধারকারী দলও কাজে নেমেছে। ভারত, চিন-সহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির সুড়ঙ্গে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে সাহায্য করছেন। তবে ট্রিশুলি-৩এ-র ৪০ জনকে ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—সুড়ঙ্গের ভিতরে তাঁরা ঠিক কী অবস্থায় রয়েছেন? সময় যত এগোচ্ছে, পরিবারের উৎকণ্ঠাও তত বাড়ছে। তাঁদের একটাই দাবি—আশ্বাস নয়, দ্রুত বাস্তব উদ্ধার অভিযান শুরু করে প্রিয়জনদের ফিরিয়ে আনা হোক।
(Feed Source: zeenews.com)
