)
Sensex big fall: শেয়ার বাজারের এই তীব্র পতনের অন্যতম প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার নিয়েছে। আর তাতেই বিরাট ধাক্কা ভারতীয় শেয়ার বাজারে। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একলাফে ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার কারণে বুধবার লেনদেন শুরু হতেই শেয়ার বাজারে ব্যাপক ধস নামে। সূচক খোলার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সেনসেক্স প্রায় ৭০০ পয়েন্ট হারিয়ে ৭৬,৪৭১.৩২ স্তরে নেমে আসে। একই সঙ্গে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটি-৫০ প্রায় ২০০ পয়েন্টেরও বেশি কমে ২৩,৮০০ পয়েন্টের ঘরে নেমে যায়।
শেয়ার বাজারের এই তীব্র পতনের অন্যতম প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে বিমান হামলা ও সংঘাত শুরু হওয়ায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি দ্রুত বেড়ে প্রায় ৯৭ ডলারে পৌঁছে গেছে, যা ১০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমার অত্যন্ত কাছাকাছি।
ভারতীয় বাজারে তার প্রভাব
ভারত তার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদার সিংহভাগই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। ফলে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম দেশের আমদানি ব্যয় একলাফে বাড়িয়ে দেয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি বা মুদ্রাস্ফীতির ওপর। পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে পণ্য পরিবহণের খরচ বাড়ে, যা সার্বিক বাজার পরিস্থিতিকে অস্থির করে তোলে। এই আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা দ্রুত শেয়ার বিক্রি করে নিজেদের অর্থ নিরাপদ করতে শুরু করেছেন।
বিভিন্ন সেক্টরে বিক্রির চাপ
বাজারের অধিকাংশ ক্ষেত্রই এদিন সকাল থেকে লাল সংকেতে লেনদেন করেছে। বিশেষ করে অটোমোবাইল, আইটি (তথ্যপ্রযুক্তি), রিয়েল এস্টেট এবং কনজিউমার ডিউরেবলস খাতের শেয়ারে ব্যাপক দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। সামগ্রিক বাজারের অস্থিরতা মাপার নির্দেশক ‘ইন্ডিয়া ভিআইএক্স’ (India VIX) ৩ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ট্রেডারদের উদ্বেগের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে।
টাকার দরে টানাপোড়েন
শেয়ার বাজারের পতনের পাশাপাশি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার ওপরও চাপ বজায় রয়েছে। মার্কিন বন্ডের সুদ (Bond Yield) বেড়ে যাওয়ার কারণে বৈশ্বিক লগ্নিকারীরা উদীয়মান বাজারগুলো থেকে পুঁজি প্রত্যাহার করতে শুরু করেছেন। তবে ঘরোয়া বাজারে জিএসটি কর সংগ্রহের ইতিবাচক পরিসংখ্যান কিছুটা ভরসা জোগালেও তা এই বৈশ্বিক ধাক্কা সামলানোর জন্য যথেষ্ট হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন-ইরান সংকটের কোনো শান্তিপূর্ণ সমাধান বা সমঝোতার স্পষ্ট বার্তা না আসা পর্যন্ত শেয়ার বাজারে এই দোলাচল ও অস্থিরতা বজায় থাকবে। জ্বালানি তেলের দাম আগামী দিনে কোন স্তরে পৌঁছয় এবং বৈশ্বিক কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলো কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে বাজারের পরবর্তী গতিপথ। এমন সংকটজনক পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়ো করে বড় কোনো ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ না নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অত্যন্ত সতর্ক ও সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
(Feed Source: zeenews.com)
