‘নিন্দনীয়’! পাকিস্তানের ১০০ বছর পুরনো হিন্দু মন্দির ভেঙে ফেলার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত

‘নিন্দনীয়’! পাকিস্তানের ১০০ বছর পুরনো হিন্দু মন্দির ভেঙে ফেলার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত

India Slams Pakistan: পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে শতাব্দীপ্রাচীন হিন্দু মন্দির ভেঙে ফেলার ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানাল ভারত। সংখ্যালঘুদের উপাসনাস্থল ধ্বংসের ঘটনা অত্যন্ত ‘নিন্দনীয়’, কড়া প্রতিক্রিয়ায় জানাল বিদেশ মন্ত্রক৷

নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে শতাব্দীপ্রাচীন একটি হিন্দু মন্দির ভেঙে ফেলার ঘটনায় বুধবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনাস্থল ভেঙে ফেলার ঘটনাকে  “নিন্দনীয় ভাঙচুরের ঘটনা” বলে উল্লেখ করেছে বিদেশ মন্ত্রক। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, নারোয়ালে অবস্থিত মন্দিরটি রক্ষা করতে কর্তৃপক্ষের “স্পষ্ট উদাসীনতা এবং ব্যর্থতা” অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
“এই ধরনের ঘটনা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলির চলমান নিরাপত্তাহীনতা এবং তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও উপাসনাস্থলের ওপর গুরুতর লঙ্ঘনের এক স্পষ্ট স্মারক,” বিবৃতিতে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।
ভারত সরকার এই ঘটনার দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি, দোষীদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে। পাকিস্তানকে অবিলম্বে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরটি পুনরুদ্ধার এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার মৌলিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছে ভারত।
কেন ভাঙা হল হিন্দু মন্দির?

নারোয়াল জেলার সিরাজ গ্রামে অবস্থিত ১০০ থেকে ১২৫ বছরের পুরনো মন্দিরটি লাহোর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে। প্রায় ১,০০০ বর্গমিটার জমির উপর ছিল মন্দিরটি। স্থানীয় বাসিন্দা, সংখ্যালঘু সংগঠন এবং একটি রাজনৈতিক দলের অভিযোগ, গত ২১ আগস্ট একদল ধর্মীয় উগ্রপন্থী মন্দিরটি ভেঙে দেয়। অভিযোগ, সংলগ্ন একটি মাদ্রাসার জমির পরিধি বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই মন্দিরের জমি দখল করা হয়।
ঘটনার পর পাকিস্তান মাসিহা মিল্লাত পার্টি (PMMP) দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং মন্দিরটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছে। PMMP-এর চেয়ারম্যান পারভেজ সাহোত্রার অভিযোগ, মন্দিরটি যারা ভেঙেছে তারা নিষিদ্ধ উগ্র ডানপন্থী ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান (TLP)-এর সঙ্গে যুক্ত।
তবে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রাদেশিক সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সরকারের দাবি, মন্দিরটি ভেঙে ফেলা হয়নি, প্রবল বৃষ্টির কারণে এর একটি অংশ ধসে পড়েছে।
পাঞ্জাব সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী সরদার রমেশ সিং অরোরা মন্দির চত্বর পরিদর্শন করেছেন। তাঁর পরিদর্শনে দেখা গিয়েছে, প্রবল বৃষ্টির কারণে মন্দিরের একটি অংশের সাইনবোর্ড ভেঙে পড়েছে। সরকার সেটি পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা রতন লাল মন্দির ভাঙার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাঞ্জাব সরকারকে মন্দিরটি পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দেওয়ার দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, জেলা প্রশাসন এবং Evacuee Trust Property Board (ETPB) মন্দিরটি রক্ষা করা কিংবা বেআইনি দখলদারদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। এর ফলেই শেষ পর্যন্ত মন্দিরটি ভেঙে ফেলার সুযোগ তৈরি হয় বলে তাঁর অভিযোগ।
এর আগেও গুরুদ্বার ভাঙা নিয়ে বিতর্ক

এর আগে জুলাই মাসে পাকিস্তানের ফারুকাবাদে ১২৫ বছরের পুরনো শ্রী গুরু সিং সভা সাহিব গুরুদ্বার ভেঙে ফেলা হয়। সেই ঘটনাকে ভারত “অত্যন্ত নিন্দনীয়” বলে আখ্যা দিয়েছিল। পাশাপাশি, সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্থাপনা ও অধিকার রক্ষায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল নয়াদিল্লি।
(Feed Source: news18.com)