)
নেপালের ভয়াবহ বন্যার মাঝে আশার ছবি। চার দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার করা হল ৫ বছরের এক শিশুকে। ক্লান্ত, কথা বলার মতো অবস্থায় না থাকা শিশুটিকে পাশে বসিয়ে খিচুড়ি ও জল খাওয়ান নেপাল সেনার এক জওয়ান। তাকে আশ্বাস দেন, খুব তাড়াতাড়ি পরিবারের কাছে ফিরবে, আবার স্কুলেও যাবে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নেপালের ভয়াবহ বন্যা-ধসের মাঝে সামনে এল এক টুকরো আশার ছবি। চার দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৫ বছরের এক শিশুকে। উদ্ধারের পর শিশুটিকে খিচুড়ি ও জল খাওয়ান নেপাল সেনার এক জওয়ান। সেই মুহূর্তের ভিডিয়ো এখন মানুষের নজর কেড়েছে।
ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, সেনার জওয়ানটি শিশুটির পাশে বসে ধীরে ধীরে কথা বলছেন। তারপর চামচে করে তাকে খিচুড়ি খাওয়াচ্ছেন এবং জল দিচ্ছেন। দীর্ঘ চার দিন ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকার পর শিশুটি এতটাই ক্লান্ত ছিল যে ঠিকমতো কথা বলতেও পারছিল না। শিশুটিকে সাহস জোগাতে সেনা জওয়ান বলেন, সে খুব তাড়াতাড়ি তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারবে এবং আবার স্কুলে যেতে পারবে। ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে এই মানবিক মুহূর্তটাই এখন অনেকের কাছে আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
কীভাবে এই বিপর্যয়?
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথরের ধস বা হিমবাহ-সংক্রান্ত ধসের পর ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা নামে। উত্তর ও মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই হাজার ছাড়িয়েছে। নেপাল পুলিসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত বন্যায় ১,১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৪,৮৫৮ জন এখনও নিখোঁজ। নিরাপত্তা বাহিনী এখনও পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে ৬,৫৪১ জনকে উদ্ধার করেছে।
উদ্ধার ও ত্রাণকাজে প্রায় ৮,০০০ পুলিসকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁদের কাজের মধ্যে রয়েছে নিখোঁজদের খোঁজ করা, ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া, উদ্ধার হওয়া মৃতদেহ সামলানো, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে পরিবারগুলিকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং ধ্বংসাবশেষে আটকে থাকা রাস্তা পরিষ্কার করা।
বৃষ্টিতে আরও কঠিন উদ্ধারকাজ
নেপালে এখনও বৃষ্টি চলছে। ফলে বিশেষ করে রাসুয়া ও নুওয়াকোটে উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। বুধবার ভোতেকোশি এলাকায় মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল। কোশি, বাগমতী ও গণ্ডকী প্রদেশের পাহাড়ি এলাকাতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পগুলির সুড়ঙ্গেও জল ঢুকে যাওয়ায় উদ্ধারকাজে সমস্যা হচ্ছে। নেপাল সেনা, সশস্ত্র পুলিস, বিদেশি প্রযুক্তিবিদ এবং প্রকল্পের কর্মীরা নিখোঁজ শ্রমিকদের খোঁজ চালাচ্ছেন। এখনও বহু মানুষের সন্ধান মেলেনি।
উদ্ধারকাজের আরও একটি বড় সমস্যা হল ভারী যন্ত্রপাতি দুর্গম সুড়ঙ্গ এলাকায় নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। Independent Power Producers’ Association Nepal-এর প্রাক্তন সভাপতি গণেশ কার্কির বক্তব্য অনুযায়ী, বন্যার ধ্বংসাবশেষে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথই ঢেকে যাওয়ায় সেগুলি খুঁজে বের করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই চার দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে এই ৫ বছরের শিশুর জীবিত উদ্ধার নেপালের ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে নতুন করে আশার বার্তা দিয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
