)
২০০ বছর পরিবারে জন্ম নিল কোনও মেয়ে। আনন্দে মাতোয়ার পুরো পরিবার। রাজকীয় সেলিব্রেশন ভাইরাল
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতে প্রতিবছর জন্মলগ্নে বা জন্মের পরে লিঙ্গবৈষম্যের কারণে লাখ লাখ কন্যাসন্তান নিখোঁজ হয়ে যায় বা তাদের হত্যা করা হয়, যা মূলত কন্যাভ্রূণ হত্যা ও লিঙ্গ-নির্বাচনমূলক গর্ভপাতের ফল। কন্যাশিশু হত্যা বা গর্ভেই কন্যাসন্তান মেরে ফেলার মতো গুরুতর সামাজিক ব্যাধি আজও সমাজে আছে। এই অমানবিক এবং চরম আইনত দণ্ডনীয় কাজের খবর প্রায়ই আসে, আর ঠিক তখনই এল মন ভালো করা খবর। মহারাষ্ট্রের বিড জেলায় এক পরিবারে চার প্রজন্ম পর কন্যাসন্তানের জন্ম হল! রথে চড়িয়ে আনা হল একরত্তিকে! হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সদ্যোজাত গার্গীকে ধুমধাম করে স্বাগত জানানো হয়। রাস্তায় উদযাপনে শামিল হয়েছিল ব্যান্ডপার্টি-তাসা-আলো…। দাহিফালে পরিবার জানিয়েছে যে, গত প্রায় ২০০ বছরের মধ্যে তাদের পরিবারে কোনও কন্যাসন্তানের জন্ম হয়নি।
খুশিতে ভাসছে পুরো পরিবার
সদ্যজাতর ঠাকুরদা লিম্বাজি নাতনির কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘পরিবারে কন্যাসন্তান আসা বিরাট সৌভাগ্যের। এতদিন ধরে আমাদের মনে কন্যা না থাকার যে আক্ষেপ ছিল, আজ তা পূর্ণ হল।’ লিম্বাজি জানান, তিনি তাঁর দুই পুত্রবধূকেই নিজের মেয়ের মতোই দেখেছেন। তাই গান-বাজনা ও নাচের তালে রথে চড়িয়ে নাতনিকে বাড়িতে আনতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। সৌভাগ্যবতী কল্পনা ঋষিকেশেরই কোল আলো করে এই কন্যাসন্তান এসেছে। ঠাকুমা সুরেখা দহিফালে জানান, এই জন্মকে কেন্দ্র করে পরিবারে খুশির জোয়ার বইছে। তাঁর সংযোজন, ‘আজ আমাদের ঘরে স্বয়ং লক্ষ্মীর আগমন ঘটেছে, এতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’ শিশুটির বাবাও জানান যে, কন্যাসন্তানের জন্ম পরিবারে এক ভিন্ন ধরনের আনন্দের সঞ্চার করেছে। তিনি বলেন, ‘সাধারণত মানুষ পুত্রসন্তান কামনা করে, কিন্তু কন্যাসন্তান লাভের অনুভূতি ও আনন্দ একেবারেই আলাদা। মেয়েরা বাবার প্রতি বেশি ঘনিষ্ঠ ও যত্নশীল হয়। আমরা আমাদের মেয়েকে পরম আদরে ও যত্নে বড় করে তুলব।’ পরিবারের সদস্যরা জানান, এই উদযাপনের মাধ্যমে তাঁরা সমাজে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে চান—তা হল, কন্যাসন্তানের জন্ম আনন্দ ও গর্বের মুহূর্ত এবং তা যথাযথভাবে উদযাপন করা উচিত।
মহারাষ্ট্রের পরিবার বুঝিয়ে দিল যে, এই সমাজে মেয়েদের মান ঠিক কোথায় থাকা উচিত! নেটপাড়ার চোখ ভিজছে ভিডিয়ো দেখে…
(Feed Source: zeenews.com)
