Success Story: জীবনের লড়াইতে অদম্য, শিক্ষিকার চাকরি না পেয়ে ঠেলা হাতে রাস্তায় ইডলি বিক্রি! পাওয়ার লিফটিংয়ের তুখোড় পারফরমার চামেলি

Success Story: জীবনের লড়াইতে অদম্য, শিক্ষিকার চাকরি না পেয়ে ঠেলা হাতে রাস্তায় ইডলি বিক্রি! পাওয়ার লিফটিংয়ের তুখোড় পারফরমার চামেলি

Success Story: চাকরি না পেয়ে বাবার সঙ্গে ইডলি দোসার দোকান, সেখান থেকেই শক্তি দেখিয়ে বাজিমাত চামেলির!

উত্তর ২৪ পরগনা: চাকরি না পেয়ে বাবার সঙ্গে ইডলি-ধোসার দোকান, সেখান থেকেই পাওয়ার লিফটিংয়ে বাজিমাত চামেলির। উচ্চশিক্ষিত হয়েও মেলেনি চাকরি। কিন্তু তাতে থেমে থাকেননি মধ্যমগ্রামের চামেলি মিস্ত্রি। পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বাবার সঙ্গে রাস্তার ধারে শুরু করেছিলেন দক্ষিণ ভারতীয় খাবারের ব্যবসা। সেই ব্যবসা সামলানোর পাশাপাশি চালিয়ে গিয়েছেন শরীরচর্চা ও পাওয়ার লিফটিংয়ের অনুশীলন। আর কঠোর পরিশ্রমের ফল হিসেবে রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় ১১০ কেজি ওজন তুলে নজরকাড়া সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি। মধ্যমগ্রাম-সোদপুর রোডের ধারে বেশ কয়েক বছর ধরে বাবার সঙ্গে ইডলি, দোসা-সহ দক্ষিণ ভারতীয় খাবার বিক্রি করেন চামেলি। MA এবং B.Ed সম্পূর্ণ করার পর তাঁর স্বপ্ন ছিল স্কুলশিক্ষিকা হওয়া। সেই লক্ষ্যে চাকরির জন্য চেষ্টা করলেও দীর্ঘদিনেও সাফল্য আসেনি। এরপর পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বাবার সঙ্গে ব্যবসায় নেমে পড়েন তিনি।
তবে জীবনের প্রতিকূলতা তাঁর খেলাধুলার প্রতি ভালোবাসাকে থামাতে পারেনি। ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী চামেলি শুরু করেন পাওয়ার লিফটিংয়ের প্রশিক্ষণ। একদিকে খাবারের দোকান সামলানো, অন্যদিকে নিয়মিত শরীরচর্চা দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখেই চলতে থাকে তাঁর অনুশীলন।
সম্প্রতি বাঙুরে আয়োজিত রাজ্যস্তরের পাওয়ার লিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে ১১০ কেজি ওজন তুলে সাফল্য অর্জন করেন চামেলি মিস্ত্রি। তাঁর এই কৃতিত্বের খবর সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই প্রশংসায় ভাসতে শুরু করেন তিনি। এরপর উত্তর ২৪ পরগনা’স মহিলা কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটির ৩৫তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁকে বিশেষভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত থেকেই সংবর্ধনা গ্রহণ করেন চামেলি। জীবনের এই মুহূর্তকে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন তিনি। চাকরি এখনও না পেলেও মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মান পাওয়া তাঁর কাছে স্বপ্নের মতো বলে জানিয়েছেন চামেলি।
চামেলির সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর বাবার নিরন্তর সহযোগিতাও। মুরগির দোকানে কাজ করার পাশাপাশি অবসর সময়ে গাড়ি চালান তাঁর বাবা। রাতের দিকে মেয়ের সঙ্গে খাবারের দোকান সামলান তিনিও। রোদ-বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল পরিস্থিতি কোনও কিছুই তাঁদের লড়াই থামাতে পারেনি। পাওয়ার লিফটিংয়ের পাশাপাশি সম্প্রতি একটি রিয়েলিটি শোতেও অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন চামেলি। ফলে একের পর এক সাফল্যে তাঁর আত্মবিশ্বাসও বাড়ছে। তবে সাফল্যের পরেও তাঁর পুরনো স্বপ্নটি এখনও অধরা। স্কুলশিক্ষিকা হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে চামেলির। পাশাপাশি এখন তাঁর একটাই চাওয়া একটি সরকারি চাকরি। কিন্তু চাকরি না পাওয়া তাঁর লড়াই থামাতে পারেনি। বরং নিজের প্রতিভা ও কঠোর পরিশ্রম দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন, সুযোগের অভাব থাকলেও ইচ্ছাশক্তি থাকলে সাফল্যের রাস্তা তৈরি করা যায়। তাঁর এই সাফল্যের গল্প যেন প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে এক মহিলার অবিরাম লড়াইয়ের অনন্য নজির।
(Feed Source: news18.com)