
Unique Stone Flute: শুশুনিয়ায় পাথর খোদাই করে তৈরি হয়েছে সুরেলা বাঁশি। দীর্ঘ ২১০ দিনের পরিশ্রমে পাথর কেটে এই বাঁশি তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন শিল্পী অভীক কর্মকার। রাজ্যস্তরের কারুশিল্প প্রতিযোগিতায় সেরা পুরষ্কার ছিনিয়ে এনেছে তাঁর এই অনন্য সৃষ্টি। বাঁশির গায়ে খোদাই করা আছে কৃষ্ণলীলা।
বাঁকুড়া, নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়: বাঁকুড়ার শুশুনিয়ার পাথর শিল্পে এবার যেন নতুন এক বিস্ময়। গোটা একটি পাথর খোদাই করে তৈরি হয়েছে আস্ত একটি বাঁশি। শুধু দেখতেই নয়, এই পাথরের বাঁশিতে তোলা যায় সুরও। বাঁশির গায়ে নিখুঁত কারুকার্যের পাশাপাশি রয়েছে শ্রীকৃষ্ণের জীবনের নানা কাহিনি। পাথর দিয়ে তৈরি হলেও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ভিতরের অংশ খোদাই করে তৈরি করা হয়েছে বাঁশির ছিদ্র ও বায়ু চলাচলের পথ। ফলে সাধারণ বাঁশির মতোই এই পাথরের বাঁশি থেকেও বেরিয়ে আসে সুরের মূর্ছনা। শিল্পীর এই অনন্য সৃষ্টি দেখে রীতিমতো অবাক স্থানীয়রা থেকে শুরু করে শিল্পপ্রেমীরা।
শুশুনিয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী পাথর শিল্পের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত শিল্পী অভীক কর্মকার। প্রায় ২১০ দিন ধরে ধৈর্য ও নিখুঁত কারিগরি দক্ষতার সঙ্গে একটি পাথর খোদাই করে তিনি তৈরি করেছেন এই অসাধারণ বাঁশি। তাঁর এই সৃষ্টিই ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ অধিকার পশ্চিমবঙ্গ কারুশিল্প প্রতিযোগিতা ২০২৩-২৪-এ প্রথম স্থান অর্জন করেছে। শুধু তাই নয়, রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতাতেও এই পাথরের বাঁশি পেয়েছে প্রথম পুরস্কার। ফলে শুশুনিয়ার পাথর শিল্পের পাশাপাশি অভীক কর্মকারের এই অভিনব সৃষ্টি এখন নজর কেড়েছে রাজ্যজুড়েও।
পাথরের বাঁশিটি দেখতে ভারী মনে হলেও বাস্তবে এর ওজন তুলনামূলকভাবে বেশ হালকা। হাতে নিলে বোঝা যায় শিল্পীর নিখুঁত কাজের মান। বাঁশিটির গায়ে খোদাই করা হয়েছে শ্রীকৃষ্ণের জীবনের বিভিন্ন ঘটনা। শিল্পী অভীক কর্মকার বলেন, “বাঁশি মানেই কৃষ্ণ।” সেই ভাবনা থেকেই কংসবধ থেকে শুরু করে শ্রীকৃষ্ণের অবতার রূপ- বিভিন্ন দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পাথরের বাঁশির গায়ে। তবে আদৌ পাথরের মধ্যে বাঁশির সুর আনা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রথমে তিনিও নিশ্চিত ছিলেন না। পরীক্ষামূলকভাবে কাজ শুরু করার পর যখন সেই পাথর থেকে সুর বেরিয়ে আসে, তখনই সফলতার মুখ দেখেন তিনি।
বাঁকুড়ার ছাতনা থানার অন্তর্গত শুশুনিয়া গ্রাম পাথর শিল্পের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। এখানেই রয়েছে প্রায় ৪৪০ মিটার উঁচু শুশুনিয়া পাহাড়, যা পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় তিন কিলোমিটার বিস্তৃত। পাহাড়ের পাদদেশের এই গ্রামে আজও বহু শিল্পী পাথরকে তাঁদের শিল্পসৃষ্টির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন। তাঁদেরই অন্যতম অভীক কর্মকার। তাঁর তৈরি পাথরের বাঁশি শুধু শুশুনিয়ার ঐতিহ্যবাহী শিল্পকেই নতুন মাত্রা দেয়নি, পাথরের মতো কঠিন উপাদান দিয়েও যে এমন জীবন্ত সুর সৃষ্টি করা সম্ভব, সেই বার্তাও পৌঁছে দিয়েছে শিল্পজগতে।
(Feed Source: news18.com)
